দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবারের আগে খেলাটা হাতে ছিল না নাইট রাইডার্সের। কিন্তু শনিবার বেঙ্গালুরুতে বিরাট বাহিনীর কাছে হায়দরাবাদের হারের পর এ বার শেষ চারে ওঠা পুরোটাই নির্ভর করছে কলকাতার উপর। রবিবার মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে গ্রুপের শেষ ম্যাচ খেলতে নামছে নাইট রাইডার্স। মুম্বইকে হারাতে পারলেই প্লে অফে পৌঁছে যাবে দীনেশ অ্যান্ড কোং। আর যদি কলকাতা হারে, তাহলে পয়েন্ট সমান থাকলেও রান রেটে শেষ চারে পৌঁছে যাবে হায়দরাবাদ। তখন নাইট রাইডার্সকে দুষতে হবে নিজেদের টানা হাফ ডজন হারকেই।
এই মুহূর্তে আইপিএল-এর পয়েন্ট টেবিল পরিষ্কার। বেঙ্গালুরু, পঞ্জাব ও রাজস্থান গ্রুপ লিগ থেকেই বিদায় নিয়েছে। প্রথম তিন কারা, তা ঠিক হয়ে গেলেও কারা প্রথম দুই, তা এখনও ঠিক হয়নি। এই মুহূর্তে পয়েন্ট তালিকায় সবথেকে উপরে ধোনির চেন্নাই। পঞ্জাবের বিরুদ্ধে রবিবার তারা হারুক-জিতুক, প্রথম দুয়েই থাকবে। দিল্লি এই মুহূর্তে পয়েন্ট তালিকায় দুয়ে রয়েছে। কিন্তু রবিবার মুম্বই জিতলে তারা দিল্লিকে টপকে যাবে। অর্থাৎ সে ক্ষেত্রে প্রথম দুই দল হবে চেন্নাই ও মুম্বই।
হায়দরাবাদের পয়েন্ট ১৪ ম্যাচে ১২। কলকাতার পয়েন্ট ১৩ ম্যাচে ১২। অর্থাৎ রবিবার মুম্বইকে তাদের ঘরের মাঠে হারাতে পারলেই ১৪ পয়েন্ট নিয়ে শেষ চারে পৌঁছে যাবে নাইট রাইডার্স। কিন্তু যদি তারা হারে, তাহলে হায়দরাবাদ ও কলকাতা দু'দলেরই পয়েন্ট হবে ১২। আবার পঞ্জাব শেষ ম্যাচে চেন্নাইকে হারালে তাদের পয়েন্টও পৌঁছবে ১২ তে। কিন্তু পঞ্জাব ( -০.৩৫১ ) ও কলকাতার ( +০.১৭৩ ) থেকে রান রেট অনেক বেশি হায়দরাবাদের ( +০.৫৭৭ )। অর্থাৎ সে ক্ষেত্রে প্লে অফে উঠবে কেন উইলিয়ামসনের দল।
তাই ধরতে গেলে রবিবার কার্যত ফাইনাল ম্যাচ কলকাতার। কিন্তু একটা পরিসংখ্যান যাচ্ছে কলকাতার বিরুদ্ধে। রোহিত শর্মাদের বিরুদ্ধে নাইট রাইডার্সের রেকর্ড মোটেই ভালো নয়। এখনও পর্যন্ত আইপিএল-এ ২৪ বার মুখোমুখি হয়েছে এই দুই দল। মুম্বই জিতেছে ১৮ টি ম্যাচ। কলকাতা সেখানে মাত্র ৬ টি ম্যাচ।
তবে পরিসংখ্যান যে এই আইপএল-এ মোটেই মিলছে না, তা বলা যেতে পারে। কলকাতার বিরুদ্ধে দিল্লির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সই তার প্রমাণ। নাইটদের বিরুদ্ধে খুব খারাপ রেকর্ড দিল্লির। কিন্তু চলতি আইপিএল-এ দু'ম্যাচেই কলকাতাকে হারিয়েছে দিল্লি। অন্যদিকে কয়েকদিন আগেই ইডেনে মুম্বইকে হারিয়েছে কলকাতা। এমনকী গত ম্যাচেই মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে সবথেকে বেশি রান করেছে নাইট রাইডার্স। তাই সাম্প্রতিক ফর্ম কলকাতার পক্ষে রয়েছে।
মুম্বইয়ের কাছেও এই ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ। জিততে পারলেই প্রথম দুই। অর্থাৎ বেশি সুবিধা। কিন্তু হারলেও কোনও ক্ষতি নেই। কিন্তু নাইট রাইডার্সের কাছে এই ম্যাচ ডু অর ডাই। জিততে পারলে প্লে অফ। হারলে ফের এক বছরের অপেক্ষা। এখন দেখার এই ম্যাচে কী মনোভাব নিয়ে খেলতে নামে দীনেশ বাহিনী।