দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে কোচ সমস্যা মিটল বাগানের। দেশীয় কোচ নয়, বরং স্প্যানিশ কোচের উপরেই ভরসা রাখলেন বাগান কর্তারা। মোহনবাগানের নতুন কোচ হিসেবে ঘোষণা করা হলো হোসে অন্টানিও কিবু ভিকুনার নাম। ৪৭ বছর বয়সী উয়েফার প্রো লাইসেন্স ধারী এই কোচ এর আগে পোল্যান্ডের ক্লাব উইসলা প্লোকের কোচ ছিলেন।
বাগান সূত্রে খবর, কিবু ভিকুনা এর আগে স্পেন ও পোল্যান্ডের একাধিক ক্লাবের কোচিং করিয়েছেন। পোল্যান্ডের ক্লাব লেগিয়া ওয়ারশ'র হয়ে ২০১২-১৩ সালে তিনি পোলিশ লিগ ও পোলিশ কাপ জিতেছেন। লেচ পোজনান ক্লাবের হয়ে ২০১৫-১৬ সালে তিনি পোলিশ সুপার কাপ জিতেছেন। ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপ খেলা পোল্যান্ডের ফুটবলার ও বর্তমান কোচ ইয়ান আরবানের সহকারি হিসেবে অনেকদিন কাটিয়েছেন তিনি। ফলে তাঁর অভিজ্ঞতা অনেক, এমনটাই জানা গিয়েছে বাগানের তরফে। রাউল গার্সয়া, অ্যাজ্পেলইকুয়েটা, নাচো, জ্যাভি মার্টিনেজের মতো বিশ্ববিখ্যাত ফুটবলা তারকাদের কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে এই কিবু ভিকুনার।
স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের কাছ থেকে প্রফেশনাল কোচিংয়ে একাধিক ডিগ্রি পেয়েছেন তিনি। এইসব ডিগ্রির মধ্যে প্রফেসর অফ ট্যাকটিক্স, মাস্টার অফ ফিজিক্যাল প্রিপারেশন প্রভৃতি অন্যতম।
কিবু ভিকুনার নাম ঘোষণার পর মোহনবাগান কর্তা সৃঞ্জয় বসু ও দেবাশিস দত্ত জানিয়েছেন, "আমরা কিবুর সঙ্গে কথা বলার পরেই মোহনবাগানের কোচ হিসেবে নতুন চ্যালেঞ্জ নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন তিনি। কিবুর দক্ষতা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। তিনি নতুন ফুটবলারদের তোলার চেষ্টা করেন। তাঁর খেলানোর ধরণ অনেকটা আমাদের মতোই। তাঁর ফুটবল দর্শনের সঙ্গে মোহনবাগানের ফুটবল দর্শনের অনেক মিল। ফুটবলে নতুন প্রযুক্তি ও উন্নতি পরিকাঠামো ব্যবহার করতে পছন্দ করেন কিবু।"
গত মরসুমে যেখানে মোহন কর্তারা কোচ হিসেবে শঙ্করলাল চক্রবর্তীর উপরেই আস্থা রেখেছিলেন, সেখানে পড়শি ক্লাব কোচ হিসেবে নিয়ে এসেছিল আলেজান্দ্রো মেনেন্ডেজকে। এই স্প্যানিশ কোচ আসার পরেই খেলার ধরণ পাল্টে যায় ইস্টবেঙ্গলের। লিগ না পেলেও লিগের কাছে গিয়ে শেষ করে তারা। অন্যদিকে কলকাতা লিগ জিতলেও আই লিগে খারাপ পারফরম্যান্সের পর কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করেন শঙ্করলাল। গত মরসুমে আই লিগের দুটো ডার্বিতেই স্প্যানিশ কোচের পরিকল্পনার কাছে হার মানতে হয় মোহনবাগানকে।
বাকি মরসুমের জন্য খালিদ জামিলকে কোচ করে আনলেও ভাগ্য বদল হয়নি বাগানের। আই লিগের অনেক দূরেই থেমে যেতে হয় তাদের। সমর্থকরা দাবি করেন, ভালো কোচ আনার। তারপরে দেশি-বিদেশি অনেক কোচের নাম উঠে আসছিল। এককালে বাগানে কোচিং করিয়েছেন, এরকম কোচের নামও উঠে আসে। চলে জল্পনা। শেষ পর্যন্ত পড়শি ক্লাবের মতো বাগান কর্তারাও বিশ্বাস রাখলেন স্প্যানিশ কোচের উপরেই।