দ্য ওয়াল ব্যুরো : পাঁচ সপ্তাহ আগে হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল অকল্যান্ড গ্র্যামার স্কুলের ক্রিকেট টিচার ডেভিড জেমস গর্ডনের। সেই অবস্থাতেই বিশ্বকাপ দেখেছেন তিনি। কারণ তাঁর হাতে তৈরি দুই ছাত্র জেমস নিশাম ও লকি ফার্গুসন যে বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর দেখে যেতে পারলেন না। ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সুপার ওভার চলাকালীনই ফের হার্ট অ্যাটাক হয় তাঁর। মারা যান তিনি।
জানা গিয়েছে, বাড়িতেই খেলা দেখছিলেন ডেভিড। তাঁর দেখভাল করার জন্য আয়াও ছিল। সুপার ওভার চলাকালীন নিউজিল্যান্ড যেখন ব্যাট করতে নামছে, নিশামকে দেখে যথেষ্ট উত্তেজিত দেখাচ্ছিল তাঁকে। দ্বিতীয় বলেই জোফ্রা আর্চারকে মিড উইকেটের উপর দিয়ে বিশাল ছক্কা মারেন নিশাম। সেই ছক্কার পর থেকেই শ্বাস-প্রশ্বাস অস্থির হয়ে যায় ডেভিডের। তাঁর আয়া জানিয়েছেন, "হঠাৎ করে কেমন একটা হয়ে যান ডেভিড। নেতিয়ে পড়েন। আমরা সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারকে খবর দিই। তিনি এসে বলেন ডেভিড আর নেই। সম্ভবত ছাত্রর মারা ছক্কা দেখেই পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে যান ডেভিড।"
ম্যাচ শেষে এ কথা জানতে পারেন নিশামও। টুইটারে নিজের ছোটবেলার কোচের উদ্দেশে শ্রদ্ধাও জানিয়েছেন এই কিউয়ি অলরাউন্ডার। টুইটারে তিনি লেখেন, "ডেভ গর্ডন, আমার হাইস্কুল টিচার, বন্ধু। খেলার প্রতি আপনার ভালোবাসা ছিল দেখার মতো। আমরা নিজেদের ধন্য মনে করি, আপনার কাছে খেলা শিখতে পেরেছি। এমনই একটা দিনে আপনি চলে গেলেন। আশা করি আমাদের উপর আপনি গর্বিত। ভালো থাকবেন স্যার।"
https://twitter.com/JimmyNeesh/status/1151590942010466304
নিজের প্রিয় ক্রিকেটারের খেলা দেখতে গিয়ে হার্ট অ্যাটাক করা বা আত্মহত্যা করার মতো ঘটনা অবশ্য এই বিশ্বকাপেও হয়েছে। সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ধোনি রান আউট হতেই হার্ট অ্যাটাক করে মারা যান হুগলির খানাকুলের এক যুবক। আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেন ওড়িশার এক যুবক। কিন্তু তাই বলে ছাত্রের ব্যাটিং দেখতে দেখতে মৃত্যুর ঘটনা সত্যি হয়তো সবার থেকে আলাদা।