দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রবল চিন বিরোধিতার মুখে আইপিএলের টাইটেল স্পনসর থেকে ভিভোর নাম সরিয়েছে বিসিসিআই। তারপরে চুক্তি হয়েছে অনলাইন গেমিং অ্যাপ সংস্থা ড্রিম ইলেভেনের সঙ্গে। ২২২ কোটি টাকার চুক্তিতে চলতি বছরের আইপিএলের স্পনসর হয়েছে ড্রিম ইলেভেন। কিন্তু তাতেও কি আইপিএলের সঙ্গে চিন যোগ শেষ হল? উঠছে প্রশ্ন।
মঙ্গলবার আইপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ব্রিজেশ পটেল জানিয়ে দেন, ড্রিম ইলেভেনকে আইপিএল ২০২০-র টাইটেল স্পনসর করা হল। ২২২ কোটি টাকার চুক্তিতে আপাতত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ড্রিম ইলেভেনের সঙ্গে চুক্তি করেছে বোর্ড। টাটার মতো সংস্থাকে টপকে এই সুযোগ পেয়েছে ড্রিম ইলেভেন। বোর্ডের এই কথা থেকে পরিষ্কার আগামী বছর ফের ভিভোকে স্পনসর হিসেবে ফিরিয়ে আনার চিন্তা ভাবনা রয়েছে বোর্ডের।
জানা গিয়েছে, ড্রিম ইলেভেন নামের এই গেমিং অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে টেনসেন্ট হোল্ডিংস লিমিটেড নামের একটি কোম্পানি। এই কোম্পানি ড্রিম ইলেভেন সংস্থায় ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থাৎ প্রায় ৭৫০ কোটি টাকার বিনিয়োগ করেছে। এই টেনসেন্ট হোল্ডিংস কোম্পানি চিনের সবথেকে বড় গেমিং কোম্পানি।
১৯৯৮ সালে চিনের শেনঝেনে তৈরি হয় এই টেনসেন্ট হোল্ডিংস লিমিটেড। ধীরে ধীরে চিনের সবথেকে বড় গেমিং কোম্পানিতে পরিণত হয় এই সংস্থা। উইচ্যাট, হাইক ও টেনসেন্ট কিউকিউ নামের বেশ কিছু অ্যাপলিকেশনও বানিয়েছে এই সংস্থা। পাবজিরও একটা বড় অংশীদার এই টেনসেন্ট হোল্ডিংস।
অন্যদিকে ড্রিম ইলেভেন সম্পূর্ণ ভাবে একটি ভারতীয় কোম্পানি। হরিশ জৈন ও ভাভিথ শেঠ নামের দু’জন ২০১২ সাল থেকে এই কোম্পানির মালিক। এই কোম্পানিতে যে ৪০০ জনের বেশি কাজ করেন তাঁরা প্রত্যেকেই ভারতীয়। এই সংস্থার ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা হলেন কালারি ক্যাপিটাল ও মাল্টিপলস ইকুইটি।
এটাও সত্যি যে ড্রিম ইলেভেনে টেনসেন্টের একটা অংশ রয়েছে। তাই এই কোম্পানি আইপিএল থেকে যে লাভ কুড়োবে তার একটা অংশ টেনসেন্ট হোল্ডিংস লিমিটেডও পাবে। ইতিমধ্যেই আইসিসি, উইমেন বিগ ব্যাশ লিগ, বিগ ব্যাশ লিগ, প্রো কাবাডি লিগ, ইন্টারন্যাশনাল হকি ফেডারেশনের সঙ্গে এবার আইপিএলের সঙ্গেও একটা সম্পর্ক তৈরি হল ড্রিম ইলেভেনের। অর্থাৎ বোঝা যাচ্ছে, এই টুর্নামেন্ট থেকে বেশ ভাল অঙ্কেরই লাভ হবে এই সংস্থার। তার একটা অংশ চিনা কোম্পানিও পাবে। এখন সেই নিয়ে ড্রিম ইলেভেনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয় কিনা সেটাই দেখার।