দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঞ্চে বক্তৃতা দিচ্ছেন প্রাক্তন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক গ্রেম স্মিথ। দর্শকাসনে সামনের সারিতে বসে ব্রায়ান লারা, কার্ল হুপার, রোহিত শর্মা, মহম্মদ আজহারউদ্দিনরা। মঞ্চে দাঁড়িয়ে টেস্ট ক্রিকেটকে বাঁচিয়ে রাখার ডাক দিলেন স্মিথ। বললেন কোহলির হাত ধরেই বেঁচে থাকবে টেস্ট ক্রিকেট।
শুক্রবার ইডেন গার্ডেন্সে প্রয়াত জগমোহন ডালমিয়ার দ্বিতীয় বছরের স্মরণ সভার আয়োজন করেছিল সিএবি। সেই অনুষ্ঠানে বক্তা হিসেবে এসেছিলেন, ব্রায়ান লারা, কার্ল হুপার, মহম্মদ আজহারউদ্দিন, রোহিত শর্মা ও গ্রেম স্মিথ। সেখানেই নিজের বক্তৃতায় স্মিথ বলেন, " বিরাট কোহলি এমন একজন ক্রিকেটার, যার হাত ধরে বেঁচে থাকবে টেস্ট ক্রিকেটের প্রাণ। "
ভারত অধিনায়ককে জেন্টলম্যানস গেমের ‘সুপারস্টার’ আখ্যা দিয়ে স্মিথ জানান, " বিশ্বক্রিকেট এই মুহূর্তে সুপারস্টারের সংকটে ভুগছে। ইংল্যান্ডে দু-একজন থাকলেও আক্ষরিক অর্থে বিরাটই এই মুহূর্তে আধুনিক ক্রিকেটের সুপারস্টার। তাঁর স্বকীয় ব্যাটিং পরিচিতি দিয়ে বিরাট যতদিন টেস্ট ক্রিকেটকে বাঁচিয়ে রাখবে ততদিন টেস্ট ক্রিকেটের প্রাসঙ্গিকতা বজায় থাকবে। "
এছাড়াও পাঁচ দিনের ক্রিকেটকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে ‘ডিউক’ বলেই টেস্ট ক্রিকেট খেলার পক্ষে সওয়াল করেন বছর সাঁইত্রিশের স্মিথ। তিনি বলেন, " কোকাবুরা বল তুলনামূলক সফট এবং সুইং কম হয়। তাই টেস্ট ক্রিকেটকে বাঁচিয়ে রাখতে ডিউক বলই আদর্শ।" যদিও আগেই এই ইস্যুতে মুখ খুলেছিলেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। তাঁকেই সমর্থন জানালেন স্মিথ।

এছাড়াও এই স্মারক বক্তৃতায় তৈরি করা হয়েছিল একটি তথ্যচিত্র। সেখানে ক্রিকেটে ডালমিয়ার অবদানের কথা বলেছেন অনেক ক্রিকেটার। সেখানেই শোনা গেল নেলসন ম্যান্ডেলার সেই বিখ্যাত উক্তি, ‘স্পোর্টস হ্যাজ দ্য পাওয়ার টু চেঞ্জ দ্য ওয়ার্ল্ড। ইট হ্যাজ দ্য পাওয়ার টু ইনস্পায়ার। ইট হ্যাজ দ্য পাওয়ার টু ইউনাইট পিপল।’
স্মিথের গলায় শোনা গেল দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটে জগমোহন ডালমিয়ার অবদানের কথাও। বর্ণবিদ্বেষের কালো অধ্যায় কাটিয়ে ২৫ বছর বাদে ইডেনের মাটিতেই প্রথম ম্যাচটি খেলতে নেমেছিল প্রোটিয়ারা। ১১ বছর বয়সেই গ্রেম স্মিথ দেখেছিলেন ‘সিটি অফ জয়’ কলকাতা কিভাবে আপন করে নিয়েছিল তাঁর দেশকে। স্মারক বক্তৃতায় এ দিন সেই স্মৃতিতেই ডুব দিলেন স্মিথ।