
শেষ আপডেট: 30 July 2019 14:49
ছ’মাসের জন্য খেলতে গিয়েছিলাম। বুঝতেই পারিনি সারা জীবনের মতো হৃদয়ের ক্লাব হয়ে যাবে ইস্টবেঙ্গল।
যখন ইস্টবেঙ্গলে সই করি, তখন ডগলাসসের কথা জেনে গিয়েছিলাম। ভরসা হয়েছিল, একজন নিজের দেশের প্লেয়ার আছে। কলকাতায় পৌঁছনোর পর ডগলাসই আমায় সব বুঝিয়ে দিয়েছিল। তারপর দু’দিন প্র্যাকটিস করার পরই মোহনবাগানবাগানের বিরুদ্ধে আমায় নামতে হবে। কোচ, টিমের বাকিরা আমায় বলেছিলেন ওই ম্যাচের কথা। কিন্তু প্রথমে বুঝতে পারিনি। তারপর মাঠে নেমে দেখি গ্যালারি উপচে পড়ছে লোকে। গোটা ইস্টবেঙ্গল গ্যালারি গিলমার গিলমার বলে চিৎকার করছে।
ওই ম্যাচটা আমারা দু’গোলে হারিয়েছিলাম মোহনবাগানকে। সে বার ইস্টবেঙ্গল জাতীয় লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। কর্তাদের ব্যবহার, সমর্থকদের উচ্ছ্বাসগুলো এখনও আমার স্মৃতিতে টাটকা।
যে দিন সাংবাদিক সম্মেলনে আমার হাতে জার্সি তুলে দেওয়া হয়েছিল, সে দিন আমায় বলা হয়েছিল এই জার্সিটা মায়ের মতো। এক সমর্থকের কথা মনে পড়ে আমার। বেশ বয়স্ক। বড় ম্যাচের আগের দিন সকালের প্র্যাকটিসে ক্লাবের লনে আমার পায়ে হুমড়ি খেয়ে পড়েছিলেন। আবদার, মোহনবাগানকে হারানো চাই। প্রথমটা ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। তারপরপর বুঝেছিলাম ক্লাবের প্রতি তাঁদের টানটা ঠিক কোন জায়গায়।
কলকাতার বহু ইস্টবেঙ্গল সমর্থকের সঙ্গে আমার নিয়মিত যোগাযোগ আছে। ইস্টবেঙ্গলের খেলার প্রতিদিনের আপডেট রাখি এখনও। বড় ম্যাচের দিন লাইভ স্কোর দেখি। মনে হয় যেন আমিই মাঠে খেলছি। ওই অনুভূতি বলে বোঝানো যাবে না।
নেট ঘেঁটে দেখতে পাই ক্লাবের পরিকাঠামো অনেক বদলেছে। গ্যালারির এখন নতুন চেহারা। লাইট বসেছে মাঠে। যে কোনও ক্লাবেরই পরিকাঠামো অত্যন্ত জরুরি। সে দিকেও ইস্টবেঙ্গল অনেকটা এগিয়েছে গত কয়েক বছরে।
আমার প্রিয় ক্লাব ইস্টবেঙ্গলের শতবর্ষ। সেই ক্লাবের জন্য লিখতে পেরে আমি গর্বিত। ইস্টবেঙ্গলের ওই সাফল্যের বছরে আমি অংশীদার ছিলাম, এটা ভেবেই আমার আরও গর্ব হচ্ছে। ইস্টবেঙ্গল আরও এরকম কয়েকশো বছর এগিয়ে চলুক।