
শেষ আপডেট: 18 September 2018 14:13
দেবাশিস সেনগুপ্ত
একের পর এক চলে যাওয়া। কলকাতা ময়দানের ৭০-৮০র দশকের মিথেরা চলে যাচ্ছেন একে একে। গোপাল বসু, সুকল্যাণ ঘোষদস্তিদারের পর মঙ্গলবার প্রয়াত হলেন সৈয়দ লতিফুদ্দিন (৬৬)। চলে গেলেন অনন্তর মাঠে। ১৯৫২ হেলসিঙ্কি অলিম্পিয়ান সৈয়দ খাজা মইনুদ্দিনের ছেলে সৈয়দ লতিফুদ্দিন ছিলেন ময়দানের সাড়া জাগানো । অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশ থেকে ১৯৭০-এ কলকাতায় আসেন সৈয়দ লতিফুদ্দিন। ৭০-৭১ টানা দু'মরশুম সাদা-কালো জার্সিতে খেলে ১৯৭২-এ যান ইস্টবেঙ্গলে। শিল্ড সেমিফাইনালে গোলও ছিল তাঁর । তার পরের বছরই আবার মহামেডানে গিয়ে ১৯৮০ অবধি টানা আট মরশুম খেলেন সাদা-কালো জার্সিতে। ১৯৮০র মহমেডানকে এখনও কলকাতার অন্যতম সেরা দল ধরা হয়। সেই দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন লতিফ। ১৯৮১তে এক মরশুমের জন্য যান ইস্টবেঙ্গলে। ১৯৮২তে আবার মহমেডানে ফিরে অবসর নেন তিনি। ইউনিয়ন ব্যাঙ্কে আইইপি ব্রাঞ্চে চাকরী করতেন ১৯৮২ পর্যন্ত। তারপরে হায়দ্রাবাদে বদলি হয়ে যান। চুকিয়ে দেন কলকাতার পাট । ১৯৭৬ কলকাতা লিগে মহমেডানের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন। সে বার তাঁর বুট থেকে এসেছিল ২২টি গোল। মহামেডান স্পোর্টিং তাঁর পারফরম্যান্সের জন্য শান-ই-মহমেডান উপাধি দেন ২০১৭ সালে। লতিফুদ্দিন সফল ছিলেন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও। থাইল্যান্ডে এএফসি অনূর্ধ্ব র্উনিশ চ্যাম্পিয়নশিপে (এশিয়ান জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপ বলা হত তখন) যুগ্মজয়ী ভারতের সদস্য ছিলেন তিনি। ইরানের সঙ্গে ফাইনাল ২-২ ড্র হয়। তার মধ্যে এক গোল ছিল তাঁর। ১৯৭৪ মারডেকা কাপের ভারতীয় দলের হয়ে তিনি গোল দেন আয়োজক দেশ ইন্দোনেশিয়াকে। টাই ব্রেকারে ম্যাচ হারে ভারত। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ কলকাতা ময়দান।