
শেষ আপডেট: 28 October 2018 07:06
আর রোনাল্ডো-মেসি না থাকায় সেই উন্মাদনাটাই যেন হারিয়ে গেছে সমর্থকদের মধ্যে। রোনাল্ডো না থাকায় যেমন প্রায় ফাঁকা গ্যালারি'তে খেলতে হচ্ছে রিয়ালকে। পরপর ৫ ম্যাচে হেরে শেষ ম্যাচে চ্যম্পিয়ন্স লিগে জয়ের মুখ দেখেছে লোপেতেগুইয়ের ছেলেরা। অন্যদিকে বার্সা লা লিগায় দাপটের সঙ্গে খেললেও ৩৮ এল ক্লাসিকোয় সর্বোচ্চ ২৬ গোল করা মেসি না থাকা অবশ্যই একটা ফ্যাক্টর। তাই আগে যেমন এল ক্লাসিকোর সপ্তাহ খানেক আগে থেকেই দু'দলের সমর্থকদের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় লড়াই শুরু হতো, এ বার আর সেরকম নেই। কোথাও যেন একটা শূন্যতা।
বিশেষজ্ঞরা এই ম্যাচে সাম্প্রতিক ফর্ম বিচার করে এগিয়ে রাখছেন বার্সেলোনাকেই। মেসি না থাকলেও তাঁদের সুয়ারেজ, কুটিনহো, র্যাকিটিচ'রা আছেন। অন্যদিকে রোনাল্ডো চলে যাওয়ার পর চেনা যাচ্ছে না মাদ্রিদকে। তাই এই ম্যাচই তাঁদের কাছে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই। লড়াই আর একজনের কাছে। মাদ্রিদ কোচ লোপেতেগুই। চাকরি বাঁচাতে গেলে রবিবারের ম্যাচে জিততেই হবে তাঁকে।
বিশেষজ্ঞরা যতই বলুন বার্সা এগিয়ে, এল ক্লাসিকোয় কখনওই কেউ এগিয়ে থাকেন না। মাঠের মধ্যে যারা নিজের সেরা খেলাটা দিতে পারেন, তাঁরাই সফল হন। সেটা জানেন বার্সা কোচ আর্নেস্তো ভালভার্দে। তাই তিনি মানতে রাজি নন যে বার্সা এগিয়ে আছে। কিন্তু শেষ ৯ বছরে দুই দলের কোচের সেরা অস্ত্রই এ বছর নেই। তাই বাকিদের কাছে নিজেদের প্রমান করার সময়। একদিকে যেমন সুয়ারেজ, কুটিনহো'দের সামনে নিজেদের প্রমান করার সুযোগ, অন্যদিকে গ্যারেথ বেল, ইস্কোদের সামনে সুযোগ নায়ক হয়ে ওঠার।
কিন্তু সে সব তো খেলার পরিভাষা, পরিকল্পনা। এ সবের বাইরেও তো কিছু থাকে। আবেগ, উন্মাদনা। সেটাই যেন এ বার নেই। বিরাট কোহলি ক্রিজে থাকলে যেমন সব ভারতীয় বিশ্বাস করেন ভারত জিতবে, মেসি-রোনাল্ডো মাঠে থাকাটাও সমর্থকদের জন্য একই। তাই খেলা হবে, হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে, দুই কোচের মগজাস্ত্র, পরিকল্পনার লড়াই হবে, হয়তো হার-জিতও হবে। থাকবে না শুধু মাঠের মধ্যে সেই চিৎকার, পাড়ার মোড়ে বড় স্ক্রিন লাগিয়ে খেলা দেখা, সোশ্যাল মিডিয়ায় তর্কের তুফান, ক্লাবের মধ্যে সমর্থকদের দু ভাগ হয়ে যাবে। কিংবা রাস্তায় যেতে যেতে হঠাৎ কোনও দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করা, 'দাদা, স্কোর কী? মেসি/রোনাল্ডো গোল দিয়েছে?'