দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগে থেকেই দেওয়াল লিখনটা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। বিশ্বকাপার ডিফেন্ডার জনি অ্যাকোস্টাকে সই করাতে যে তাঁর উপরেই কোপ পড়তে চলেছে তা নিজেও হয়তো বুঝে গিয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গলের লাইবেরিয়ান স্ট্রাইকার আনসুমানা ক্রোমা। শুক্রবার তাতে সিলমোহর পড়ল। ক্রোমাকে ছেঁটে ফেলল ইস্টবেঙ্গল। সই করানো হল জনিকে। বিদায়বেলাতেও এক রাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন ক্রোমা।
দু'মাস আগে দলের কঠিন পরিস্থিতিতে তড়িঘড়ি সই করানো হয়েছিল ময়দানের এই পোড়খাওয়া স্ট্রাইকারকে। কিছুদিনেই নিজের জাত চিনিয়ে ছিলেন দুই প্রধানে খেলে যাওয়া ক্রোমা। মূল্যবান গোল করেছেন। আদায় করেছেন পেনাল্টি। দলের প্রয়োজনে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন কলকাতা লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা এই ফুটবলার।
হঠাৎই কয়েক দিন আগে ইস্টবেঙ্গল কোচ মারিও রিভেরার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক কথা বলেন ক্রোমা। তিনি অভিযোগ জানান, তাঁকে মানসিক অত্যাচার করছেন কোচ। তাঁকে বলা হচ্ছে, গোল করতে না পারলে বসিয়ে দেওয়া হবে। তাঁর থেকে অনেক খারাপ খেলা ফুটবলারদের জায়গায় কোপ পড়ছে তাঁর উপরে। এমনকি তাঁকে বল পাস না দেওয়ার নির্দেশও নাকি দিয়েছেন কোচ মারিও। ক্রোমা বলেন, কোচ বলে দিতে পারতেন তাঁকে আর প্রয়োজন নেই দলের। কিন্তু এভাবে নির্যাতন করার কী দরকার ছিল।
তখনই ময়দানে ছবিটা পরিষ্কার হয়ে যায় জনি অ্যাকোস্টা এলে ক্রোমাকেই হয়তো জায়গা করে দিতে হবে। শেষ কয়েক ম্যাচে প্রথম একাদশে নিয়মিত সুযোগও পাননি এই লাইবেরিয়ান স্ট্রাইকার। অবশেষে শুক্রবার কোয়েস-এর তরফে প্রেস রিলিজ করে জানিয়ে দেওয়া হয়, ক্রোমার পরিবর্তে সই করানো হল জনি অ্যাকোস্টাকে।
বিদায়ের সময়েও এক রাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন ক্রোমা। বললেন, ক্লাব তাঁকে ছেড়ে দিতেই পারে। কিন্তু তাই বলে এভাবে সেটা করা ঠিক হয়নি। একটু ভদ্র ব্যবহার তিনি আশা করেছিলেন। সবাই টিভিতে দেখছেন, কে কীরকম খেলছেন। কার উপরে কোপ পড়ছে আর কাদের দিনের পর দিন খারাপ খেলার পরেও কিছু বলা হচ্ছে না। এর প্রভাব কিন্তু ক্লাবের উপরেই পড়ছে। কর্মকর্তারা সেদিকে নজর দিলে ভাল। নইলে আরও ক্ষতি হবে ইস্টবেঙ্গলের।