দ্য ওয়াল ব্যুরো: দ্বিতীয়ার্ধের প্রায় পুরোটা জুড়ে ১০ জনের গোকুলমকে পেয়েও গোল করতে পারল না ইস্টবেঙ্গল। উলটে পুরোপুরি রক্ষণাত্মক না হয়ে মাঝেমধ্যেই আক্রমণে উঠল গোকুলম। ১০ জনে হয়ে যাওয়ার পরেও স্ট্রাইকার নামালেন গোকুলমের কোচ। এই সাহসের ফল পেল কেরলের দল। ঘরের মাঠে ইস্টবেঙ্গলকে আটকে দিল তারা। চার্চিলের পরে গোকুলমের বিরুদ্ধেও ১ পয়েন্ট নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হল লাল-হলুদ ব্রিগেডকে।
খেলার শুরু থেকেই হোম অ্যাডভান্টেজকে কাজে লাগিয়ে আক্রমণ শুরু করে গোকুলম কেরালা। প্রথম মিনিটেই কর্নার পায় তারা। এদিন ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্সে শুরু থেকেই ছিলেন অভিজ্ঞ গুরবিন্দর সিং। লাল-হলুদ ফুটবলাররা খেলা ধরার আগেই জোড়া ধাক্কা খায় কলকাতার ক্লাব। ৯ মিনিটের মাথায় বক্সের বাইরে বল পেয়ে বাঁ পায়ে জোরালো শট মারেন মার্কাস জোসেফ। মিচু মিরশাদের হাতের নীচ দিয়ে বল জালে জড়িয়ে যায়। এগিয়ে যায় গোকুলম। গোকুলমের এই আক্রমণের সময় চোট পেয়ে অ্যাম্বুল্যান্সে করে মাঠ ছাড়তে হয় গুরবিন্দরকে।
গোল খেয়ে আক্রমণে ঝাঁঝ বাড়ায় ইস্টবেঙ্গল। মাঝমাঠে ভিক্টর পেরেজ অলন্সো, ব্রেন্ডন ও জুয়ান মেরার পায়ে মাঝেমধ্যেই গোকুলম বক্সের সামনে ত্রাসের সঞ্চার হচ্ছিল। লাল-হলুদের এই প্রেসিং ফুটবলের ফলও মেলে। ২৪ মিনিটের মাথায় বক্সের মধ্যে জুয়ান মেরাকে ফাউল করেন নওচা। পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। স্পট থেকে ঠান্ডা মাথায় লাল-হলুদ জার্সিতে নিজের প্রথম গোল করেন ভিক্টর পেরেজ।
প্রথমার্ধের বাকি সময়টাতেও আক্রমণ-প্রতিআক্রমণের খেলা চলতে থাকে। মার্কোসের শট পোস্টে লেগে ফেরে। খালি গোলে বল ঠেলতে ব্যর্থ হন হেনরি কিসেকা। অন্যদিকে সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি মার্কোস, কোলাডোরা। প্রথমার্ধ ১-১ ব্যবধানেই শেষ হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে ৪৯ মিনিটের মাথায় জুয়ান মেরাকে ফাউল করেন নওচা। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড অর্থাৎ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় গোকুলমের এই সাইড ব্যাককে। গোকুলম ১০ জনে হয়ে যাওয়ার পরেই চাপ বাড়ায় ইস্টবেঙ্গল। একের পর এক আক্রমণ আছড়ে পড়তে থাকে গোকুলম বক্সে। কিছু শট ভাল বাঁচান উবেইদ। ৫৫ মিনিটের মাথায় ভিক্টর পেরেজের শট বারে লেগে বেরিয়ে যায়। মাঝমাঠে দুরন্ত খেলছিলেন ব্রেন্ডন, ভিক্টর পেরেজ ও জুয়ান মেরা। ফলে ম্যাচের দখল বেশি ছিল লাল-হলুদ ফুটবলারদের পায়েই।
ম্যাচে আরও চাপ বাড়াতে মার্কোসের জায়গায় ক্রোমাকে নামান ইস্টবেঙ্গল কোচ মারিও রিভেরা। আক্রমণ বাড়ালেও গোল আসছিল না। ৭১ মিনিটের মাথায় জুয়ান মেরার ডান পায়ের স্কুপ বারে লেগে ফেরে। অন্যদিকে ১০ জনে খেললেও মাঝেমধ্যেই আক্রমণ করছিলেন মার্কাস জোসেফ, হেনরি কিসেকা, গার্সিয়ারা। খেলার গতি কিছুটা কমিয়ে বল নিজেদের দখলে রাখার চেষ্টা করছিলেন তাঁরা। ৮০ মিনিটের মাথায় সলমনের ইনসুইঙ্গিং শট ভাল বাঁচান মিরশাদ।
শেষদিকে চাপ বাড়ায় গোকুলম। পরপর চারটি কর্নার আদায় করে নেয় তারা। যদিও ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্সকে ভাঙা যায়নি। অতিরিক্ত সময়ে গোকুলমের মাওয়াইয়ার গোল অফসাইডের জন্য বাতিল হয়। তবে রিপ্লে দেখে বোঝা যায়, অফসাইডে ছিলেন না তিনি। রেফারির ভুলে হয়তো জেতা ম্যাচে পয়েন্ট নষ্ট করতে হল গোকুলমকে।
অতিরিক্ত সময়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড অর্থাৎ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় গোকুলমের হারুন ফকরুদ্দিনকে। যদিও তারপরে আর বেশিক্ষণ খেলা চলেনি। ফলে খুব বেশি সমস্যায় পড়তে হয়নি কেরলের দলকে।
এদিনের ড্রয়ের ফলে ১৫ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট হল ইস্টবেঙ্গলের। লিগ টেবিলের চার নম্বরেই থাকল লাল-হলুদ।