দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিশ্চিত হারতে থাকা ম্যাচে শেষ মুহূর্তে রঙবদল। ঘরের মাঠে চার্চিলের সঙ্গে ড্র করল ইস্টবেঙ্গল। হাজারো সুযোগ নষ্টের খেসারত দিয়ে শতবর্ষে পা দেওয়া ক্লাব থেকে আইলিগ টেবিলের চার নম্বরেই।
যুবভারতীতে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে দু'দল। বেশি আক্রমণাত্মক দেখাচ্ছিল ইস্টবেঙ্গলকেই। কিন্তু ১০ মিনিটের মাথায় লাল-হলুদ ডিফেন্সের ভুলে বক্সের মধ্যে বল পান উইলিস প্লাজা। চার ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্ডার ও গোলকিপার মিরশাদকে নাচিয়ে গোল করে চার্চিলকে এগিয়ে দেন প্লাজা।
গোল খেয়ে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে ইস্টবেঙ্গল। সুযোগও আসে। ১৭ মিনিটের মাথায় জুয়ান মেরার পা থেকে বক্সের মধ্যে বল পান কোলাডো। তাঁর দুর্বল শট বাঁচাতে সমস্যা হয়নি চার্চিল গোলকিপারের। তারপরেও মাঝেমধ্যে আভাস থাপা, মার্টিনেজ পেরেজ অলন্সো, জুয়ান মেরাদের পায়ে সুযোগ তৈরি করছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু গোলের মুখ খোলেনি।
অন্যদিকে মাঝেমধ্যেই ইস্টবেঙ্গল বক্সে ত্রাসের সঞ্চার করছিলেন সিসে, প্লাজারা। যদিও গোল আসেনি। প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়েই ড্রেসিংরুমে যায় চার্চিল।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণে লোক বাড়াতে ক্রোমাকে নামান কোচ মারিও রিভেরা। আক্রমণ বেশি তৈরি করে লাল-হলুদ। কিন্তু অ্যাটাকিং থার্ডে এসে সব আক্রমণ প্রতিহত হয়ে যাচ্ছিল। আবু বকরের নেতৃত্বে ভাল খেলছিল চার্চিল ডিফেন্স। ৭০ মিনিটের মাথায় অলন্সোর ফ্রিকিক থেকে গোল করেন ক্রোমা। কিন্তু অফসাইডের জন্য সেই গোল বাতিল হয়।
শেষ ৩০ মিনিট ইস্টবেঙ্গল আক্রমণের সঙ্গে চার্চিল ডিফেন্সের খেলা হয়। ৭৬ মিনিটের মাথায় জুয়ান মেরার কর্নারে মেহতাব সিংয়ের হেড পোস্টে লেগে ফেরে। সেই বল হেড দিয়ে বের করতে গিয়ে ফের পোস্ট মারেন চার্চিল ডিফেন্ডার। ফিরতি বলে মার্কোসের শট বাইরে যায়।
দু'মিনিট পরেই জুয়ান মেরার বাঁ'পায়ের দুরন্ত শট দারুণ বাঁচান চার্চিল গোলকিপার কিথান। একের পর এক আক্রমণ আছড়ে পড়ে চার্চিল বক্সে। ৮৪ মিনিটের মাথায় সহজতম সুযোগ নষ্ট করেন ক্রোমা। বক্সের মধ্যে গোলকিপারকে একা পেয়েও বাইরে মারেন তিনি।
অতিরিক্ত সময়ে বক্সের মধ্যে ক্রোমাকে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় ইস্টবেঙ্গল। স্পট থেকে কোলাডোর শট প্রথমে কিথান বাঁচিয়ে দিলেও ফিরতি বলে গোল করেন স্প্যানিশ মিডিও। খেলায় সমতা ফেরে।
এই ম্যাচ ড্র হওয়ায় ১৪ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে চার নম্বরেই থাকল ইস্টবেঙ্গল। অন্যদিকে ১৩ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট মিয়ে মোহনবাগান ও পাঞ্জাবের পিছনেই থাকল চার্চিল। সেইসঙ্গে এই ড্র হওয়ায় সুবিধে হল মোহনবাগানের। লিগ জয়ের সঙ্গে তাদের দূরত্ব আরও কিছুটা কমল।