দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্রাউয়ের ঘরের মাঠের গ্যালারিতে গলা ফাটাতে দেখা যাচ্ছিল বেশ কিছু ইস্টবেঙ্গল সমর্থককে। তারমধ্যে ছিলেন ইস্টবেঙ্গল জনতার প্রিয় 'লজেন্স দিদিও'। খেলার শেষে প্রত্যেককেই বলতে শোনা গেল, টিমটা এই খেলাটাই যদি আর কয়েকটা ম্যাচ আগে থেকে খেলত, তাহলে আজকে এই অবস্থা হত না।
গত ম্যাচে মুম্বইতে গিয়ে অ্যারোজকে হারিয়ে জয়ে ফিরেছিল ইস্টবেঙ্গল। সেই জয়ের ধারা বজায় রাখল লাল-হলুদ ব্রিগেড। এবার মণিপুরে গিয়ে পিছিয়ে পড়েও ট্রাউ এফসিকে হারাল ইস্টবেঙ্গল। সেইসঙ্গে লিগ টেবিলে চার নম্বরে উঠে এল লাল-হলুদ।
খেলার শুরু থেকে আক্রমণাত্মক মানসিকতা দেখাতে থাকে দু'দলই। ৫ মিনিটের মাথায় ট্রাউয়ের জোয়েল সানডের শট ভাল বাঁচান ইস্টবেঙ্গলের গোলকিপার রালতে। তারপরেই আক্রমণে ওঠে ইস্টবেঙ্গল। ১০ মিনিটের মাথায় লালরিন্ডিকা রালতের কর্নার থেকে কোলাডোর ভলি ভাল বাঁচান ট্রাউয়ের গোলকিপার সায়ন রায়। দেখেই বোঝা যাচ্ছিল তিন পয়েন্টের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছে দু'দল।
১৭ মিনিটের মাথায় মাঝমাঠ থেকে দীনেশ সিংয়ের নিরীহ সেন্টার জাজ করতে ভুল করেন রালতে। তাঁর আউটিংয়ের ভুলে হেডে গোল করে ঘরোয়া টিমকে এগিয়ে দেন প্রিন্সওয়েল এমেকা। গোল খেয়ে গোলশোধের চেষ্টা করতে থাকে ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ক্রোমা, মার্কোসরা। খেলার গতি বেশ খানিকটা কমিয়ে দেয় ট্রাউ। ফলে মাঝেমধ্যেই কিছুটা এলোমেলো খেলা চলতে থাকে। প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ড্রেসিংরুমে যায় মণিপুরের দল।
দ্বিতীয়ার্ধে ক্রোমাকে তুলে নিয়ে নতুন আসা ভিক্টর পেরেজকে মাঠে নামান লাল-হলুদ কোচ মারিও রিভেরা। স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের মাঠে নামার পরেই বদলে গেল খেলার ছবিটা। মাঝমাঠ অনেক বেশি সচল হয়। বেশ কিছু ডিফেন্স চেরা থ্রু বাড়ান পেরেজ। ৫১ মিনিটের মাথায় কোলাডোর শট ট্রাউয়ের ডিফেন্ডার দীপক দেবরানির পায়ে লেগে গোলে ঢুকে যায়। সমতা ফেরায় ইস্টবেঙ্গল।
গোল করার পরে আরও বেশি আক্রমণে উঠতে শুরু করে ইস্টবেঙ্গল। মাঝেমধ্যেই মাঠের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছিল। দু'দলের ফুটবলাররাই মাথা গরম করতে শুরু করেন। ৬৭ মিনিটের মাথায় ফের পেরেজ ম্যাজিক দেখা গেল। তাঁর ঠিকানা লেখা ফ্রিকিক হেডে নামিয়ে দেন মার্কোস। সেই বলে হেড করে লাল-হলুদকে এগিয়ে দেন কাশিম আইদারা। ২ মিনিট পরে ব্যবধান আরও বাড়ায় ইস্টবেঙ্গল। মার্কোসের ডিফেন্স চেরা থ্রু থেকে ডান পায়ের দুরন্ত শটে গোল করে ৩-১ করেন ব্র্যান্ডন।
৭৫ মিনিটের মাথায় প্যাট্রিক উচে বক্সের মধ্যে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় ইস্টবেঙ্গল। স্পট থেকে গোল করে ৪-১ করেন মার্কোস এসপাদা। ৮০ মিনিটের পর ফের কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয় ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্সিভ থার্ডে। ৮৪ মিনিটের মাথায় বক্সের মধ্যে ফাউল করেন আশির আখতার। পেনাল্টি পায় ট্রাউ। গোলে করে ব্যবধান কমান প্যাট্রিক উচে। শেষ মুহূর্তে একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে ট্রাউ। ৮৬ মিনিটে গোলকিপারকে একা পেয়েও বাইরে মারেন জোসেফ।
বাকি সময়টা আর গোল আসেনি। ৪-২ ব্যবধানে ম্যাচ জেতে লাল-হলুদ। এদিনের জয়ের ফলে ১৩ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট হল ইস্টবেঙ্গলের। সেইসঙ্গে ট্রাউ ও গোকুলমকে টপকে লিগ টেবিলে চার নম্বরে উঠে এলেন কোলাডোরা।