দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইলিগ না আইএসএল? কোনটা হবে দেশের এক নম্বর লিগ? এই নিয়ে চূড়ান্ত ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক খবর, আইএসএল-কেই দেশের এক নম্বর লিগ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে চাইছে ফেডারেশন। আর এই পরিস্থিতিতে আইলিগকেই দেশের এক নম্বর লিগ হিসেবে ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান, মিনার্ভার মতো আইলিগ খেলা দলগুলো। আর তাই শুক্রবার বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয়র সঙ্গে দেখা করলেন ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান দুই দলের কর্তারা।
এ দিন হোটেল হিন্দুস্তানে বিজেপি নেতার সঙ্গে দেখা করেন দু'পক্ষের প্রধানরা। বিগত লোকসভার বিজেপি প্রার্থী তথা প্রাক্তন ফুটবলার কল্যাণ চৌবের মধ্যস্থতায় এই সাক্ষাৎ হয়। কল্যাণবাবুই দুই প্রধানের কর্তাদের নিয়ে গিয়ে পরিচয় করান। তারপর বেশ কিছুক্ষণ তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়। মোহনবাগানের তরফে উপস্থিত ছিলেন সৃঞ্জয় বসু ও দেবাশিস দত্ত। অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গলের তরফে উপস্থিত ছিলেন দেবব্রত সরকার ও শান্তিরঞ্জন দাশগুপ্ত। তাঁরা এই আইলিগ, আইএসএল নিয়ে যে জট তা নিয়ে কথা বলেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়র সঙ্গে।
বৈঠক শেষে কৈলাসবাবু সাংবাদিকদের সামনে বলেন, "আমার সঙ্গে আজ ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের ক্লাবকর্তারা দেখা করেছেন। তাঁদের সমস্যাগুলো আমরা শুনেছি। আইএসএল ও আইলিগ-এর বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই লিগের মধ্যে একটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। দুই ক্লাবকর্তা যে সমস্যাগুলি জানিয়েছেন তা নিয়ে আমি প্রধানমন্ত্রী ও ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবো। এই সমস্যা দ্রুত সমাধান করবো।"
সমস্যা কী নিয়ে?
ভারতের এক নম্বর লিগ বলে এআইএফএফ যে লিগকে স্বীকৃতি দেবে, সেই লিগ চ্যাম্পিয়নই খেলতে পারবে এএফসি কাপ। এতদিন পর্যন্ত আইলিগ ও ফেডারেশন কাপ চ্যাম্পিয়নরাই এই টুর্নামেন্টে খেলতে পারত। এ বার ফেডারেশন আইলিগকে বাদ দিয়ে আইএসএল-কে এই মর্যাদা দিতে চলেছে।
গত দু'বছর ধরেই জটিলতা চলছিল। এ বার তা তুঙ্গে পৌঁছেছে। যে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান সমর্থকরা একে অপরকে কটাক্ষ না করে জলস্পর্শ করেন না, তাঁদেরই দেখা গিয়েছিল ২০১৭-র ৮ জুলাই যুবভারতী থেকে করুণাময়ী পর্যন্ত বিরাট মিছিল করতে। টার্গেট আইএমজিআর।
গত কয়েক মাসে ক্লাব জোট একাধিকবার বৈঠক করেছে। সৃঞ্জয়, নিতু, রঞ্জিত বাজাজ, আলেমাও চার্চিলরা আই লিগ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। কিন্তু তাও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। কয়েকদিন আগেই ক্লাব জোটের পক্ষে মোহনবাগান সভাপতি টুটু বসুর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখেছিলেন। তার পরেও ফেডারেশন ঝুঁকেছে আইএসএল-এর দিকেই।
এখন দেখার কেন্দ্রের শাসক দল কতটা হস্তক্ষেপ করতে পারে দুই লিগের যুদ্ধে। আদৌ কোনও পথ বার হয় কিনা সেটাই দেখার।