দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত দু'দিন মিলিয়ে মোট ২৭ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েছেন গড়িয়ার ইস্টবেঙ্গল সমর্থক শুভ দাস। কিন্তু টিকিট পাননি। একই অবস্থা শিবপুর মন্দিরতলার মোহন সমর্থক অরূপ দত্তর। কিন্তু দু'জনই হাল না ছেড়ে ভোর থাকতে বেরিয়ে পড়েছিলেন যুবভারতীর দিকে। সকাল ন'টা নাগাদ দুজনের মুখেই হাসি। টিকিট পেলেন দু'জনই। কিন্তু ব্ল্যাকে।
একশো টাকার টিকিটের দাম উঠল পাঁচশো টাকা। আর তাই কিনে নিয়েই স্টেডিয়ামে ঢোকার ছাড়পত্র পেলেন দুই প্রধানের এই দুই তরুণ সমর্থক। শুধু এই দু'জনই নয়, সকাল থেকেই যুবভারতীর ১ এবং ৪নম্বর গেটের বাইরে জটলা। যদি একটা টিকিট মেলে, এই আশায়। ঝড়-বৃষ্টিকে দশ গোল দিয়ে সমর্থকরা যাচ্ছেন স্টেডিয়ামের দিকে। একটা টিকিটের জন্য।
অফ লাইন টিকিট বিক্রি শুরু হতেই ময়দান দেখেছিল সাতের দশকের ছবি। লম্বা লাইন, টিকিটের হাহাকার, ঘোড়পুলিশের দাপাদাপি। সোনালি দিনের সমস্ত ফ্রেম তৈরি হয়েছিল ময়দানে। ম্যাচের দিন সকালেও তা পাল্টালো না। সমর্থকদের অভিযোগ, আইএফএ-র কারণেই এই দুর্ভোগ সাধারণ সমর্থকদের। তাঁদের মতে, অনলাইনে টিকিটের নির্দিষ্ট সংখ্যা বেঁধে না দেওয়ায় বেশিরভাগ টিকিট চলে গিয়েছে কালোবাজারিদের হাতে। যে কারণে, ১০০ টাকার টিকিট বিকোচ্ছে ৫০০ টাকায়।
গুরু নাকি শিষ্য? সুভাষ নাকি শঙ্করলাল? আমনা না ডিকা? কিংশুক না মেহেতাব? কে শেষ হাসি হাসবেন তা বোঝা যাবে রবিবার সন্ধে বেলা। কিন্তু তার আগে দুই প্রধানের সমর্থকরা বুঝিয়ে দিলেন, কলকাতা আজও ফুটবলের মক্কা। আর রাজ্য ফুটবলের নিয়ামক সংস্থার বদান্যতায় সমর্থকদের পকেট লুটে নিল ব্ল্যাকাররা।