
শেষ আপডেট: 8 September 2018 11:25
গুয়াহাটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাইরে বেরানোর রাস্তা পুরোটা তৈরি করা হয়েছিল এক রানিং ট্র্যাকে। এই ট্র্যাকেই তো দেশকে এত সম্মান এনে দিয়েছেন হিমা। তাই এই ট্র্যাকের উপর দিয়েই তাঁকে বেরাতে হয় বিমানবন্দর থেকে। বিমানবন্দরে ক্রীড়া বিভাগের কর্তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। তিনিই অভ্যর্থনা জানান হিমাকে।
তারপর তাঁকে তোলা হয় একটা হুডখোলা গাড়িতে। সেই হুডখোলা গাড়িতে করেই শহর ঘোরানো হয় হিমাকে। রাস্তার দু ধারে ছিলেন হাজার হাজার মানুষ। তারপর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ক্রীড়া দফতরে। সেখানে হিমাকে সম্বর্ধনা জানানো হয়। শুধু তাই নয় হিমাকে অসমের ক্রীড়ার অ্যাম্বাসাডর নিযুক্ত করা হয়। এ ছাড়াও যদি হিমা চান তাহলে তাঁকে অসমের ক্রীড়া দফতরে চাকরির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই উৎসবের মধ্যেও তাল কাটল!
হিমা আসার আগে অসম ক্রীড়া দফতরের তরফে শহরের বিভিন্ন জায়গায় হোর্ডিং লাগানো হয়েছিল। সেই হোর্ডিংয়ে দেখা যাচ্ছিল মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের ছবি। নীচে লেখা 'স্বাগত হিমা, ভারতের গর্ব। আমরা তোমার জন্য গর্বিত।' আর এই হোর্ডিং নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। যাঁকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য এই হোর্ডিং লাগানো হয়েছে, তাঁর ছবিই নেই। তার জায়গায় জ্বলজ্বল করছে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ।
এই ছবিকে নিয়েই আসরে নেমেছেন বিরোধীরা। তাঁদের বক্তব্য, আসলে মুখ্যমন্ত্রী নিজের ও নিজের দলের প্রচারের জন্যই এই হোর্ডিং লাগিয়েছেন। হিমাকে সম্বর্ধনা দেওয়ার ব্যাপারটা পুরোটাই লোক দেখানো। আসলে দিন কয়েক আগে জাতীয় নাগরিক পঞ্জীকরণ বিষয় নিয়ে অনেক বিরোধের সম্মুখীন হয়েছিল রাজ্য সরকার। তাই সেখান থেকে সাধারণ মানুষের মন ঘোরানোর জন্যই মুখ্যমন্ত্রীর এই চালাকি।
শুধু বিরোধী দলই নয়, এর সমালোচনা করেছেন সাধারণ মানুষেও। কেউ বলছেন, যেখানে অসম পুলিশের লাগানো হোর্ডিংয়েও হিমার ছবি, সেখানে ক্রীড়া দফতরের লাগানো হোর্ডিংয়ে হিমার ছবি নেই। এটা সত্যি হাস্যকর। কেউ বা আবার বলেছেন, অসমের মুখ্যমন্ত্রীর অভ্যেস হয়ে গিয়েছে সব হোর্ডিংয়ে থাকা। কিন্তু এই হোর্ডিং যে অন্য সব হোর্ডিংয়ের থেকে আলাদা সেটা হয়তো বুঝতে পারেননি তিনি। কেউ আবার মস্করা করে বলেছেন, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী এটা কি হিমাকে খোঁজ প্রতিযোগিতা হচ্ছে?
যদিও সরকারের তরফে এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। কিন্তু বলা যায়, হিমাকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য যে ব্যবস্থা করা হয়েছিল তাতে এই হোর্ডিং বিতর্ক এক বালতি দুধে এক ফোঁটা গোমূত্রের মতোই হয়ে দাঁড়ালো অসমের রাজ্য সরকারের জন্য।