
শেষ আপডেট: 6 October 2018 13:39
বক্তব্য রাখছেন আইনজীবী [/caption]
কিন্তু এত কিছুর পরেও রোনাল্ডোর নতুন ক্লাব ইতালির জুভেন্টাস এই ঘটনায় পর্তুগিজ তারকার পাশে দাঁড়িয়েছেন। ক্লাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘‘ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো বুঝিয়েছেন তিনি কতটা পেশাদার এবং নিজের কাজের প্রতি গভীর ভাবে নিবেদিত প্রাণ। জুভেন্টাসের সবাই তাঁর প্রশংসা করছেন। ওঁর যে কোনও সংকটে ক্লাব পাশে থাকবে।’’ প্রসঙ্গত রোনাল্ডো নিজে এই অভিযোগ ওঠার পরে টুইট করে পুরো ব্যাপারটাই ‘মিথ্যে’ বলে দাবি করেছিলেন।
কঠিন এই পরিস্থিতে অবশ্য পরিবারকে পাশে পাচ্ছেন রোনাল্ডো৷ ধর্ষণ বিতর্কে সিআর সেভেনের বান্ধবী জর্জিনা মুখে কুলুপ আটলেও বোন কাতিয়া অ্যাভেইরো মুখ খুলেছেন৷ ইনস্টাগ্রামে রোনাল্ডোর সঙ্গে নিজের ছবি পোস্ট করে রোনাল্ডোর বোন লিখেছেন, ‘সুবিচার চাই৷’
https://www.instagram.com/p/Bn9eGPEBs4w/?utm_source=ig_web_copy_link
পপ তারকা অ্যাভেইরো’র এই ইনস্টাগ্রাম পোস্ট নিয়েও অবশ্য শুরু হয়েছে বিতর্ক৷ অনেকই বলছেন 'সুবিচার চাই' বলতে তিনি কার পক্ষে সুবিচারের কথা বলেছেন? সুবিচার বলতে সে ক্ষেত্রে কী অভিযোগকারিনীর পক্ষে কথা বলছেন অ্যাভেইরো৷ নাকি ভাইয়ের পক্ষেই সুবিচারের কথা বলছেন অ্যাভেইরো। প্রশ্ন কিন্তু উঠছেই৷ অ্যাভেইরো আরও লিখেছেন, ‘ভগবানের কাছে সুবিচারের অপেক্ষায় রইলাম৷’
https://www.instagram.com/p/BojTlpuh3a9/?utm_source=ig_web_copy_link
ক্যাথরিন মায়োরগা নামের বর্তমানের এক স্কুল শিক্ষিকা কয়েকদিন আগে দাবি করেন, ২০০৯ সালে তাঁকে এক হোটেল রুমে ধর্ষণ করেছিলেন রোনাল্ডো। সেই সময় তিনি সবে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড ছেড়ে রিয়েল মাদ্রিদে যোগ দিয়েছেন। মায়োরগা নাকি সেই সময় পুলিশের কাছে অভিযোগও দায়ের করেছিলেন। কিন্তু রোনাল্ডোর পক্ষ থেকে ব্যাপারটা মিটিয়ে ফেলতে চাপ আসে।
এমনকী তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ডলার ট্রান্সফার করা হয়। প্রবল লড়াইয়ের পরও একটা সময় বিচারের আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন মায়োরগা। কিন্তু ৯ বছর পর হঠাৎ করে একটি আইন সংস্থার মাধ্যমে ফের মুখ খুলেছেন ক্যাথরিন। এখন তাঁর বয়স ৩৪ বছর। রোনাল্ডোর ৩৩। ক্যাথরিন মায়োরগার অভিযোগ আবার প্রকাশ করেছে জার্মানির একটি ম্যাগাজিন। আর তার পর থেকেই সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
ধর্ষণের অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো বিভিন্ন মাধ্যমে এই ধর্ষণের ঘটনা অস্বীকার করে আসছিলেন। তার নিজের আইনজীবীর মাধ্যমে বলছিলেন, “অভিযোগকারিনী সবার নজরে আসার জন্য এ ধরনের মনগড়া ঘটনার জন্ম দিয়েছে। এটা কোনও ভাবেই সত্য নয়।”
এমনকী টুইটারে রোনাল্ডো সরাসরি ধর্ষণের ঘটনা অস্বীকার করেছেন। টুইটারে তিনি লেখেন, “আমি দৃঢ়ভাবে আমার প্রতি ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করছি। ধর্ষণ খুবই জঘন্য একটি অপরাধ। আমি নিজেও এ ধরনের অপরাধের ঘোরতর বিরোধী। আমি নিজে চাই এই অভিযোগ থেকে মুক্তি পেতে। এমনকি আমার নামে মিডিয়ায় যে সব অভিযোগ উঠে এসেছে এবং মনগড়া বক্তব্য এসেছে, সেই সব কিছুর বিরোধিতা করছি আমি।”
কিন্তু যতই তিনি এর বিরোধিতা করুন না কেন, বিতর্ক কিন্তু কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না তাঁর। প্রথমে জাতীয় দল থেকে বাদ, তারপর স্পনসরের উদ্বেগ, সব শেষে বোনের পোস্ট, বেড়েই চলেছে রোনাল্ডোর বিড়ম্বনা।