দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত মরশুমে যুবভারতীর মাটিতে ডুডু ওমাগবেমির ৪ গোলের সৌজন্যে ৭-১ গোলে চেন্নাই সিটি এফসিকে হারিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু সেই চেন্নাই আর এ দিনের চেন্নাইয়ে যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য তা ভালো করে ইস্টবেঙ্গলকে বুঝিয়ে দিলেন নেস্টর, স্যান্ড্রো, মানজিরা। জোড়া অ্যাওয়ে জয়ের পর ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচে ১-২ গোলে হারতে হলো ইস্টবেঙ্গলকে।
খেলার শুরু থেকে আক্রমণের আধিপত্য ছিল ইস্টবেঙ্গলের। প্রথম কয়েক মিনিটের মধ্যেই কিছু সুযোগ তৈরি করেন এনরিকে, জবি জাস্টিনরা। কিন্তু সেই আক্রমণ থেকে ফসল তুলতে পারেননি তাঁরা। ১৫ মিনিটের পর খেলায় ফেরে চেন্নাই সিটি এফসি। মাঝমাঠের দখল নিতে শুরু করেন চার্লস, রোমারিও, এডুইন, নেস্টররা। দুই প্রান্ত ধরে রোমারিও ও নেস্টরের একের পর এক ক্রস ভেসে আসতে থাকে লাল-হলুদ বক্সে। দুই ফরোয়ার্ড স্যান্ড্রো ও পেড্রো মানজি কিছু সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি। ২৬ মিনিটের মাথায় সহজ সুযোগ নষ্ট করেন মানজি।
মাঝমাঠে আল আমনার অভাব বোধ করছিল ইস্টবেঙ্গল। এনরিকে এসকুয়েদার কিছুটা পিছিয়ে খেলায় একা হয়ে যাচ্ছিলেন জবি। ৩৯ মিনিটের মাথায় ডানমাওয়াইয়াকে তুলে নিয়ে সুরাবুদ্দিন মল্লিককে নামান ইস্টবেঙ্গল কোচ আলেজান্দ্রো মেনেন্দেজ। এই পরিবর্তনে যে সন্তুষ্ট হননি তা ডানমাওয়াইয়ার চোখে মুখে প্রকাশ পাচ্ছিল। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে বক্সের ঠিক বাইরে নেস্টরকে ফাউল করেন লালরিন্ডিকা রালতে। ডান পায়ের দূরন্ত ফ্রিকিকে রক্ষিত ডাগরকে পরাস্ত করে চেন্নাইকে এগিয়ে দেন স্যান্ড্রো।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোল শোধের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ইস্টবেঙ্গল। অনেক বেশি আক্রমণাত্মক দেখায় তাঁদের। এনরিকে অনেকটা উপরে উঠে খেলতে থাকেন। ফলও মেলে হাতেনাতে। ৫০ মিনিটের মাথায় সামাদের ক্রস থেকে জবির দূরন্ত ভলি দারুন বাঁচান চেন্নাই গোলকিপার কবীর। পরের মিনিটেই জবির ক্রস ধরে বক্সের মধ্যে ঢুকে মাইনাস রাখেন সুরাবুদ্দিন। দ্বিতীয় পোস্টের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা এনরিকে এসকুয়েদার ডান পায়ের টোকায় বল জালে জড়িয়ে সমতা ফেরান।
এরপরে ফের আক্রমণে ফেরার চেষ্টা করে চেন্নাই। কিন্তু লাল-হলুদ ডিফেন্সও জমাট থাকে। ফলে মূলত বক্স টু বক্স খেলা চলতে থাকে। দুই দলই আক্রমণে ওঠে। ৬৬ মিনিটের মাথায় নেস্টরের শট একটুর জন্য বার উঁচিয়ে চলে যায়। মাঝেমধ্যে কড়া ট্যাকলের ফলে দুই পক্ষের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনার পারদ চড়ে যেতে থাকে। আক্রমণের আধিক্য ছিল ইস্টবেঙ্গলের। কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে চেন্নাই। কিন্তু মাঝেমধ্যেই প্রতিআক্রমণে উঠছিলেন এডুইন, নেস্টররা। ৮৫ মিনিটের মাথায় ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার রক্ষিত ডাগর রাজুকে বক্সের মধ্যে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় চেন্নাই। গোল করে চেন্নাইকে এগিয়ে দেন নেস্টর। আর সমতা ফেরাতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল।
এ দিনের হারের ফলে চলতি লিগে প্রথমবার হারের স্বাদ পেতে হলো আলেজান্দ্রো মেনেন্দেজের ছেলেদের। পাহাড় জয় করে ফিরে ঘরের মাঠে প্রথম খেলা সুখের হলো না লাল-হলুদ সমর্থকদের জন্যও। অন্যদিকে এই ম্যাচ জিতে লিগ শীর্ষে নিজেদের আরও মজবুত করল চেন্নাই সিটি এফসি।