দ্য ওয়াল ব্যুরো: পিয়ারলেসের বিরুদ্ধে হেরেই নয়ে নয় করার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছিল। তবু আশা ছিল যদি রানার্স হওয়া যায়। লাল-হলুদের সেই স্বপ্নেও পেরেক গেঁথে দিল রঘু নন্দীর সাদা-কালো ব্রিগেড। একরাশ লজ্জা নিয়ে যুবভারতীর টানেল দিয়ে ড্রেসিং রুমে যেতে হলো বিশ্বকাপার সহ গোটা ইস্টবেঙ্গল দলকে। ৮৬ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থাকার পর সুভাষ ভৌমিকের ছেলেরা মাঠ ছাড়ল ১-২ গোলে ম্যাচ হেরে।
মহামেডান স্পোর্টিং-এর ঘানার স্ট্রাইকার আদজাহর কোমরের ঝাঁকুনিতে মাটি ধরে নিল ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্স। ১১ মিনিটে কোস্টারিকার বিশ্বকাপার জনি অ্যাকোস্টার গোলে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। রালতের কর্নার থেকে হেড করে ডানমাওয়াইয়া। দুরন্ত সেভ করে সাদা-কালো তেকাঠির নীচে দাঁড়ানো অরূপ দেবনাথ। ফিরতি বলে গোল করে অ্যাকোস্টা। কিন্তু তারপর থেকেই খেই হারিয়ে ফেলে ইস্টবেঙ্গল। প্রথমার্ধে মহামেডানও তেমন কোনও সংগঠিত আক্রমণ করতে পারেনি। ইস্টবেঙ্গলের একা স্ট্রাইকার জবি জাস্টিনকে খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছিল না যুবভারতীর ঘাসে।
দ্বিতীয়ার্ধে যেন অন্য মহামেডান। আক্রমণের পর আক্রমণ। ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্সে ত্রাহি-ত্রাহি রব তুলে দেয় দীপেন্দু দুয়ারি, প্রসেনজিৎ চক্রবর্তীরা। ৮৬ মিনিটে বাঁধ ভেঙে যায়। সমতা ফেরায় আদজাহ। অতিরিক্ত সময়ে আবার আদজাহই প্রায় মাঝ মাঠ অঞ্চল থেকে বল ধরে গোলকিপার রক্ষিত ডাগরকে মাটিতে ফেলে ২-১ করে দেয়।
ইস্টবেঙ্গল লিগ জিততে পারবে না তা মোটামুটি স্পষ্ট হয়ে গেছিল বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্যর দলের কাছে হারের পরই। টানা আটবার ঘরোয়া লিগ জেতার পর এ বার ইস্টবেঙ্গলের সামনে সুযোগ ছিল হ্যাট্রিকের হ্যাট্রিক করার। কিন্তু তা তো হলোই না বরং বেশ কয়েকটা প্রশ্ন উঠে গেল সমর্থকদের মনে। প্রথম সাত ম্যাচে একটি গোল হজম করেছিল ইস্টবেঙ্গল। জর্জের বিরুদ্ধে সে ম্যাচে আবার পিছিয়ে থেকেও রুদ্ধশ্বাস জয় ছিনিয়ে এনেছিল টিম লাল-হলুদ। কিন্তু গত তিন ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্সে বিশ্বকাপার ডিফেন্ডার। আর এই তিন ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল হজম করেছে ছ’ছটা গোল। মোহনবাগান, পিয়ারলেস এবং এ দিন মহামেডান। প্রতি ম্যাচে দু’গোল। ফুটবল যখন গোলের খেলা আর সেখানে কিনা ইস্টবেঙ্গল টিমে একটা পজিটিভ স্ট্রাইকার নেই! এ দিনের ম্যাচে শুধু লিগ ইস্টবেঙ্গলের হাতের বাইরে চলে গেল তাই নয়। মোহনবাগান তাঁবুতে প্রায় ঢুকে গেল ঘরোয়া লিগ। আট বছর পর খরা কাটল বাগানে। সেই সঙ্গে বাজতে শুরু করল কি সুভাষ ভৌমিকের ছুটির ঘণ্টাও?