দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণের জন্য বেশ কয়েক মাস ক্রিকেট বন্ধ থাকার পরে সবে তা ফের শুরু হয়েছে। কিন্তু তার মধ্যেই একটা শব্দ সবার কানে উঠে আসছে। সেটা হল ‘বায়ো বাবল’। এই বায়ো বাবলের মধ্যে থেকেই ক্রিকেটারদের মাঠে নামতে হচ্ছে। কিন্তু কী এই বায়ো বাবল। কেনই বা এই শব্দ ক্রিকেটের নতুন পরিভাষা হয়ে উঠছে।
বায়ো বাবল কী?
এই শব্দ আসলে কোনও বিশেষ যন্ত্র নয়, এই শব্দ হল একটা পরিবেশ। এমন একটা পরিবেষ যা বাকি দুনিয়ার থেকে আলাদা। আশেপাশের দুনিয়ার সঙ্গে তার কোনও যোগ নেই। আর তার ফলেই এই পরিবেশের মধ্যে ঢুকতে পারে না নভেল করোনাভাইরাসও। সুরক্ষার সঙ্গে ক্রিকেটাররা খেলতে পারেন। সহজ ভাষায় বলতে গেলে এটা এমন একটা বড় ঘর, যে ঘর চারদিক দিয়ে সবার থেকে আলাদা।
কীভাবে কাজ করে এই বায়ো বাবল?
কোনও টুর্নামেন্ট বা সফরে গেলে ক্রিকেটার থেকে শুরু করে কোচিং স্টাফ ও খেলার সঙ্গে যুক্ত সবাইকে এই বায়ো বাবলের মধ্যে ঢোকার আগে কোভিড নেগেটিভ হতে হবে। শুধু একবার নয়, একাধিকবার এই টেস্ট করা হবে। তারপর একবার বায়ো বাবলের মধ্যে ঢুকে পড়ার পরে তাঁরা বাকি দুনিয়ার থেকে আলাদা হয়ে যাবেন।
আইপিএলে কীভাবে কাজ করবে এই বায়ো বাবল?
আইপিএলে সাধারণত চার জায়গায় এই বাবল তৈরি করা হবে। সেগুলি হল হোটেল, টিমবাস, অনুশীলন ও ম্যাচ।
আইপিএলের ক্ষেত্রে আটটি ফ্র্যাঞ্চাইজির ক্রিকেটাররা সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে পৌঁছে যাওয়ার পরে তাঁদের পাঁচবার কোভিড টেস্ট হবে। এই পাঁচবার নেগেটিভ রিপোর্ট আসার পরেই তাঁরা ঢুকে পড়বেন বায়ো বাবলের মধ্যে। অর্থাৎ যে হোটেলে তাঁরা থাকবেন, সেখানে নিজেদের ঘরের বাইরে যাওয়ার অনুমতি নেই। খাবার ঘরেই আনিয়ে নিতে হবে। অন্য কারও ঘরে যাওয়ারও অনুমতি নেই। আটটি ফ্র্যাঞ্চাইজি আটটি হোটেলে থাকবে। যদি নিজের দলের কোনও প্লেয়ারের সঙ্গে দেখা করতে হয়, তাহলে মাস্ক পরে থাকতে হবে।
শুধু হোটেল নয়, টিমবাস থেকে শুরু করে মাঠ, সব জায়গায় এই বাবল থাকবে। প্লেয়ারদের টিমবাসে প্লেয়ার ছাড়া অন্য কেউ উঠতে পারবেন না। মাঠেও প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজির ড্রেসিং রুম আলাদা হবে। দরকার পড়লে টিম মিটিং বা অন্য কারণে মাঠের স্ট্যান্ড ব্যবহার করা যেতে পারে। কারণ এই মুহূর্তে কোনও দর্শক প্রবেশের অনুমতি নেই মাঠে। অনুশীলনের সময়ও মানতে হবে এই নিয়ম।
ক্রিকেটার ছাড়া সাপোর্ট স্টাফ, দলের মালিক, ক্রিকেটারদের পরিবার, মিডিয়া, নিরাপত্তারক্ষী, হোটেলের কর্মী সবার জন্য আলাদা আলাদা বায়ো বাবল থাকবে। প্রত্যেককে নিজের নিজের বাবলের মধ্যে থাকতে হবে। পরিবারের সদস্যরা ক্রিকেটারদের সঙ্গে দেখা করতে পারেন। কিন্তু নিজেদের বাবলের বাইরে তাঁরা বের হতে পারবেন না। দলের সঙ্গে থাকা ফিজিশিয়ান, ম্যাসাজ কর্মী সবাইকে পিপিই কিট পরে থাকতে হবে।
নিয়ম ভাঙলে কী হবে?
ক্রিকেটার থেকে শুরু করে সবাইকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনওভাবেই যেন এই বায়ো বাবলের বাইরে কেউ না বের হন। যেমন, ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে প্রথম টেস্টের পর হোটেলে ফেরার সময় নিজের ফ্ল্যাটে গিয়ে নিয়ম ভেঙেছিলেন ইংল্যান্ডের বোলার জোফ্রা আর্চার। কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হয় তাঁকে। পাকিস্তানের ক্রিকেটার মহম্মদ হাফিজও একটা পরিবারের সঙ্গে দেখা করায় তাঁকে কোয়ারেন্টাইনে কাটাতে হয়। তেমনই আইপিএলেও যদি কেউ নিজের বাবলের বাইরে আসেন, তাহলে আইপিএলের কোড অফ কন্ডাক্ট ভাঙার দায়ে শাস্তি পেতে হবে তাঁকে, এমনটাই জানানো হয়েছে।