দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের অন্যতম সেরা ম্যাচ উইনার বলা হয়ে থাকে তাঁকে। ভারতকে নিজের কাঁধে অনেক কঠিন ম্যাচ জিতিয়েছেন। বিশ্বকাপে প্রথমবার ছ’বলে ছয় ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ড তিনিই করেছেন। তেমনটাই পেয়েছেন বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কারও। এমনকি ক্যানসারকে হারিয়ে ফিরেছেন ক্রিকেট মাঠে। এহেন যুবরাজ সিংয়ের শেষটা ভাল হয়নি। দল থেকে বাদ পড়েছেন বারবার। শেষে বছর খানেক আগে নিজেই অবসরের ঘোষণা করেছেন। অবশেষে এক বছর পরে মুখ খুললেন যুবি। বললেন, তাঁকে প্রাপ্য সম্মান দেয়নি বিসিসিআই। শেষটা আরও একটু ভাল হতে পারত।
খেলা ছেড়ে দেওয়ার পরেও সোশ্যাল মিডিয়ায় যথেষ্ট অ্যাকটিভ যুবরাজ। এই লকডাউনের মধ্যে মাঝে মাঝেই তাঁকে দেখা গিয়েছে ভারতের প্রাক্তন ও বর্তমান ক্রিকেটারদের সঙ্গে গল্প করতে। একটি ক্রীড়া মাধ্যমের সঙ্গে তেমনই এক সাক্ষাৎকারে বিসিসিআইয়ের বিরুদ্ধে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন যুবরাজ।
২০১১ বিশ্বকাপের ম্যান অফ দ্য টুর্নামেন্ট বলেন, “আমি মনে করি আমার কেরিয়ারের শেষদিকে আমার সঙ্গে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে সেটা ঠিক হয়নি। ওটা খুবই অপেশাদার ছিল। প্রাপ্য সম্মান আমি পাইনি। শেষটা আরও একটু ভাল হলে ভাল লাগত। কিন্তু আমি যদি তাকিয়ে দেখি তাহলে দেখব বীরেন্দ্র সেহওয়াগ, জাহির খান, হরভজন সিংয়ের মতো বড় ক্রিকেটারদের সঙ্গেও একই ঘটনা ঘটেছে। এটা ভারতীয় ক্রিকেটের অঙ্গ। আমি আগেও তা দেখেছি। তাই আমি অবাক হইনি।”
সাদা বলের ক্রিকেটে ব্যাট, বল, ফিল্ডিং তিন ক্ষেত্রেই ভারতের হয়ে ভাল পারফরম্যান্স করলেও কোনও দিন টেস্ট দলে নিয়মিত হননি যুবরাজ। প্রথমের দিকে ভারতের মিডল অর্ডারে দ্রাবিড়, শচীন, সৌরভ ও লক্ষ্মণ থাকায় তাঁর জায়গা হয়নি। কিন্তু এই লেজেন্ডরা অবসর নেওয়ার পরেও তেমন সুযোগ পাননি তিনি। সেই আক্ষেপ তাঁর থেকেই গেছে। আর লাল বলের ক্রিকেট তেমন না খেলতে পারায় তিনি নিজেকে কিংবদন্তি মনে করেন না।
যুবি বলেন, “আমি নিজেকে কিংবদন্তি মনে করি না। কারণ আমি নিজের সবটা দিয়ে ক্রিকেট খেললেও যা খেলেছি সবই সাদা বলের ক্রিকেটে। টেস্ট ক্রিকেট আমি তেমন খেলিনি। আর টেস্ট ক্রিকেটে ভাল পারফর্ম করলে তবেই তাঁকে কিংবদন্তি ক্রিকেটার বলা যায়।”
ভারতীয় ক্রিকেটের অনেক অনুরাগীর মতে একটা ফেয়ারওয়েল ম্যাচ প্রাপ্য যুবরাজের। সেই প্রসঙ্গে ভারতের এই অলরাউন্ডার বলেন, “কাউকে ফেয়ারওয়েল ম্যাচ দেওয়া হবে কিনা সেটা আমার হাতে নেই। এটা বিসিসিআইয়ের হাতে রয়েছে। তাই এটা বিসিসিআই ঠিক করবে। আমি নই।”
ভারতের হয়ে ৩০৪টি একদিনের ম্যাচ খেলা যুবরাজ কেরিয়ারে ৮৭০১ রান করেছেন। তার মধ্যে ১৪টি সেঞ্চুরি ও ৫২টি হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে। একদিনের কেরিয়ারে ১১১ উইকেট নিয়েছেন তিনি। ২০০৭ টি ২০ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের স্টুয়ার্ট ব্রডকে ছ’বলে ছটা ছক্কা মেরেছিলেন তিনি। ২০১১ বিশ্বকাপে ভারতকে জেতানোর পিছনে অন্যতম সেরা হাত ছিল যুবির। ক্যানসারকে সঙ্গে নিয়েও লড়েছিলেন তিনি। কিন্তু তারপরেও শেষে নিজের প্রাপ্য সম্মান পেলেন না বলে আক্ষেপ রয়েছে তাঁর।