
শেষ আপডেট: 10 July 2019 15:07
২. রোহিত-বিরাট আউট হওয়ার পরে দায়িত্ব নিতে হতো লোকেশ রাহুলকে। আগের ম্যাচেই সেঞ্চুরি করেছেন। ফর্মে থাকাকালীন তাঁর সুযোগ ছিল হিরো হয়ে ওঠার। কিন্তু ম্যাট হেনরির বাইরের দিকে যাওয়া বলে খোঁচা মারলেন রাহুল। এই দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিংয়ের খেসারত দিতে হলো ভারতকে।
৩. তিন উইকেট পড়ার পর তরুণ ঋষভ পন্থের সঙ্গে ব্যাট করতে এসেছিলেন কার্তিক। সেই সময় অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে একটা পার্টনারশিপ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু ম্যাট হেনরির বলে জিমি নিশামের অসাধারণ ক্যাচে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয় কার্তিককে। ফলে আরও চাপে পড়ে যায় ভারতীয় দল।
৪. ভারতীয় দলের মিডল অর্ডারের সবথেকে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের নাম মহেন্দ্র সিং ধোনি। দল যখন চাপে তখন তাঁর উচিত ছিল ব্যাট করতে নামা। ২০১১ বিশ্বকাপে সেই কাজটা করেই দলকে জিতিয়েছিলেন ধোনি। কিন্তু এ দিন দেখা গেল ৭ নম্বরে ব্যাট করতে নামছেন তিনি। এই সিদ্ধান্ত ভারতের কাছে ব্যুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়।
৫. চার উইকেট পড়ে যাওয়ার পর তরুণ ঋষভ পন্থ ও হার্দিক পান্ড্যর কাছে সুযোগ ছিল নায়ক হওয়ার। ধরে খেলছিলেনও তাঁরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ধৈর্য্য রাখতে পারলেন না। স্যান্টনারকে বড় শট মারতে গিয়ে উইকেট দিয়ে এলেন দু'জনেই। তাঁরা আর একটু থাকলে ম্যাচ জিততেই পারত ভারত।
৬. নিশ্চিত হারের মুখ থেকে খেলা ঘুরিয়ে এনেছিলেন রবীন্দ্র জাদেজা। তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চাপে ফেলে দিয়েছিল নিউজিল্যান্ডকে। কিন্তু মোক্ষম সময়ে ট্রেন্ট বোল্টের স্লো বল বুঝতে না পেরে মিস হিট করলেন জাদেজা। সেই সময় তিনি আউট না হলে হয়তো ম্যাচ জিতত ভারত।
৭. জাদেজা আউট হোওয়ার পর সব দায়িত্ব ছিল ধোনির হাতে। ৪৯ তম ওভারের প্রথম বলে ছক্কাও হাঁকিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরেই দু'রান নিতে গিয়ে গাপটিলের ডাইরেক্ট থ্রোতে রান আউট হলেন ধোনি। রিপ্লেতে দেখা যায়, ডাইভ দিলে হয়তো ঢুকে যেতেন ক্রিজে। ধোনি হয়তো ভাবেনওনি, অতদূর থেকে ডাইরেক্ট উইকেটে লাগবে। এই রানআউটই সব আশা শেষ করে দেয়।
৮. ভারতের যখন উইকেট পড়ছে, সেই সময় রানের গতি অনেকটা কমে যায়। একসময়ে ৬ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়েছিলেন স্যান্টনার। মাঝের ওভারে স্ট্রাইক রোটেট করতে না পারায় আস্কিং রেট বাড়ছিল। ফলে শেষদিকে বেশি চাপে পড়ে যায় দল।
৯. আগের দিন প্রচুর বৃষ্টি হওয়াতে বুধবার প্রথম থেকেই আউটফিল্ড যথেষ্ট স্লো ছিল। ফলে বেশ কিছু শট চারের বাউন্ডারির কাছে গিয়ে ধরেন নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডাররা। এই স্লো আউটফিল্ডের জন্য বেশ কয়েক রান হারায় ভারত।
১০. এ দিনের হারের সবথেকে কারণ হিসেবে বলা যায়, নকআউট ম্যাচের চাপ সামলাতে না পারা। দু'বছর আগে এই ইংল্যান্ডেই চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে চাপের মধ্যে ম্যাচ হেরেছিল ভারত। এ দিনও তাই হলো। নকআউট ম্যাচের প্রেসারে ভারতের টপ অর্ডার আউট হয়ে গেল। সেই ধাক্কা থেকে আর ফেরা গেল না। গ্রুপ লিগে ভালো খেলেও নকআউটে উঠে এই চাপ সামলাতে না পারার রোগ গেল না টিম ইন্ডিয়ার।