দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে পিছিয়ে থেকে আদজার জোড়া গোলে জয় পেয়েছিল মহামেডান। মঙ্গলবার লিগের শেষ ডার্বিতে দেখা গেল সম্পূর্ন উলটো ছবি। আদজার গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরেও তীর্থঙ্কর ও পিন্টু মাহাতার গোলে জয় ছিনিয়ে আনল মোহনবাগান। সেইসঙ্গে অপরাজিত তকমা নিয়েই চলতি ঘরোয়া লিগ চ্যাম্পিয়ন হলো সবুজ মেরুন ব্রিগেড।
ডার্বির পর ইস্ট মোহন দুই দল একই পয়েন্টে থাকায় দু দলের শেষ খেলা একই সময়ে ফেলেছিল ফেডারেশন। কিন্তু এক ম্যাচ বাকি থাকতেই মোহনবাগান লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাওয়ায় শেষ ম্যাচ দু দলের কাছেই কার্যত নিয়মরক্ষার হয়ে দাঁড়ায়। তবুও মোহনবাগানের কাছে অপরাজিত থেকে লিগ জয় করার হাতছানি ছিল এই ম্যাচে।
সামনে আই লিগ থাকায় এই ম্যাচে শঙ্করলাল চক্রবর্তী নিজের রিজার্ভ বেঞ্চ দেখে নিতে চেয়েছিলেন। তাই বদল হয়েছিল গোলকিপার, দুই উইং হাফ, স্ট্রাইকার পর্যন্ত। ফলে খেলার শুরু থেকে কিছুটা হলেও ছন্দ খুঁজে পাচ্ছিলেন না মোহনবাগান খেলোয়াড়েরা। হেনরি না থাকায় কিছুটা নিষ্প্রভ দেখাচ্ছিল গোলমেশিন ডিপান্ডা ডিকাকেও। অন্যদিকে ছন্নছাড়া ফুটবল খেলছিল মহামেডানও। ফলে প্রথমার্ধে তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি দুই দলই।
দ্বিতীয়ার্ধে কয়েকটা পরিবর্তন নেন দুই কোচই। শঙ্করলাল যেমন নামান অবিনাশ রুইদাস ও ইউটা কিনোয়াকিকে, তেমনই রঘু নন্দী নামান তাঁর তুরুপের তাস আদজাকে। ৭১ মিনিটের মাথায় বক্সের মাথা থেকে কঠিন অ্যাঙ্গেলে গোলকিপার কার্ডোজোকে পরাস্ত করে ফার্স্ট পোস্ট দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন সেই আদজা।
পিছিয়ে পরেই নিজের মাস্টার্স স্ট্রোক খেললেন শঙ্করলাল। আজহারকে তুলে নামালেন তীর্থঙ্করকে। ৮২ মিনিটের মাথায় ২৫ গজ দূর থেকে সেই তীর্থঙ্করের বাঁ পায়ের বিশ্বমানের ফ্রিকিকে সমতা ফেরালো মোহনবাগান। তারপর একের পর এক আক্রমণ সবুজমেরুনের। ৮৯ মিনিটের মাথায় ডিকার ক্রস ধরে বাঁ পায়ের দুরন্ত শটে গোল করে মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন জঙ্গলমহলের ছেলে পিন্টু মাহাতা। দুটি ডার্বিতেই গোল পেল এ বারের ঘরোয়া লিগের আবিষ্কার এই ফুটবলার।
অন্যদিকে ঘরের মাঠে নিজেদের শেষ খেলায় ২০ মিনিটের মাথায় জবি জাস্টিনের করা একমাত্র গোলে এফসিআইকে হারালো ইস্টবেঙ্গল। লিগ হারানোর যন্ত্রণা ফুটে উঠলো তাঁদের শরীরী ভাষায়। নইলে এফসিআইয়ের মতো দুর্বল দলের বিরুদ্ধেও সেই তাগিদ দেখা গেল না সুভাষ ভৌমিকের ছেলেদের মধ্যে।
এই মুহূর্তে দ্বিতীয় স্থানে ইস্টবেঙ্গল। পিয়ারলেস নিজেদের শেষ ম্যাচ জিতলে রানার্স হওয়ায় হবে না লাল হলুদের। অন্যদিকে শেষ ম্যাচে পিয়ারলেসের ক্রোমা গোল করলে ডিকাকে হারিয়ে তিনি হয়ে যাবেন এ বারের লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা।