কর্ণম মালেশ্বরী
সব সাফল্যের জন্যই একটা মঞ্চ দরকার। না হলে সাফল্যের আলো ঠিকমতো ঠিকরে বেরোয় না। অলিম্পিকের মতো মহামঞ্চ যে কোনও অ্যাথলিটের কাছে স্বপ্নই। সকল অ্যাথলিটই নিজেকে তিল তিল করে গড়ে তোলে এরজন্য। আমরা সবাই বলি যে, অলিম্পিকে সুযোগ পাওয়াই বড় কথা, তারপর কেউ যদি পদক পায়, তারচেয়ে গর্বের কিছু হতে পারে। অলিভ পাতা দিয়ে মুকুট পরা একটা দুর্লভ কৃতিত্ব।
২০০০ সালে আমি যখন সিডনি অলিম্পিকে ভারত্তোলনে ব্রোঞ্জ পদক আনলাম, সেটি ওই মঞ্চে সেরা বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল। কারণ ২১ বছর আগে আমাদের দেশে ভারত্তোলনের সেই পরিকাঠামোই ছিল না। আমাদের বিদেশে ট্রেনিংয়ের সুযোগ ছিল না। আমি যেহেতু বিজয়ওয়াদার মেয়ে, আমাদের পরিকাঠামো কিছুই ছিল না। সবটা করতে হয়েছে সাইতে গিয়ে।
মীরাবাই চানুর কৃতিত্ব আমার চেয়েও বেশি, এই কারণেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দারুণ প্রতিযোগিতা, সেখানে দাঁড়িয়ে এমন সাফল্য ভাবা যায় না। আমি হয়তো সাহসটা জুগিয়েছিলাম, কিন্তু স্বপ্ন দেখাতে শুরু করল চানুই। একটা প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে এসে এমন লড়াই ভাবা যায় না। চানুর আমার কাছেও ট্রেনিং নিয়েছে, দারুণ প্রতিভাবান। চানু পদক পাবে জানতামই, আমি ভেবেছিলাম সোনা পাবে, কারণ ওর বিশ্বরেকর্ড ছিল।
তবে ইউক্রেনে ট্রেনিং নিতে গিয়ে চানুর উন্নতি আমাদের সকলের কাছে চোখে পড়েছে। তবে মাঝে চোটের কারণে অনেকদিন বসেছিল, তারপর ফিরে আসার লড়াই শুরু করেছিল কলকাতায়। না হলে অত বড় তারকা কলকাতায় গিয়েছিল জাতীয় আসরে অংশ নিতে, এগুলিই তো বাকিদের কাছে প্রেরণা হতে পারে।
কয়েকদিন আগে আমাকে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় সাম্মানিক ভাইস চ্যান্সেলর পদ দিয়েছে। চানুকেও দেবে কোনও বিশ্ববিদ্যালয়, ওর লড়াই বাকি দেশকে প্রেরণা দেবে, কত কষ্ট করে ইম্ফলের একটা গ্রাম থেকে উঠে এসেছে।
(সাক্ষাৎকারভিত্তিক কলাম)