
উলফসবার্গে অনুশীলনে মগ্ন ডাচ ফুটবলাররা।
শেষ আপডেট: 16 June 2024 17:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শহরটাকে খানিক তুলনা করা চলে ভারতের জামশেদপুরের সঙ্গে। একটিমাত্র কারখানা, স্রেফ তাকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে আস্ত একটা শহর। কারখানাটি অবশ্য যেমন-তেমন নয়। বলা হয়ে থাকে, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গাড়ি তৈরির কারখানা!
লোয়ার স্যাক্সনি প্রদেশের উলফসবার্গ শহর। যে কোনও জায়গা থেকে নজর করলেই দেখা যাবে, শহরের আকাশ চিরে দাঁড়িয়ে রয়েছে একাধিক প্রকাণ্ড চিমনি। যার মাথা থেকে অনর্গল ধোঁয়া বেরিয়ে মিলিয়ে যাচ্ছে আকাশে। দেড় হাজার একর জমি জুড়ে ছড়ানো ওই কারখানা আসলে বিশ্ববিখ্যাত জার্মান গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা ফোক্সভাগেনের সদর দফতর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে নাৎসি প্রোপাগান্ডার অংশ হিসেবে যে কারখানা তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন খোদ অ্যাডলফ হিটলার। যুদ্ধের শেষে মার্কিন সেনাদের হস্তগত হয় এই শহর। তারপর রাইন দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। আজ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গাড়ি সংস্থা হিসেবে কার্যত বাজার শাসন করছে ফোক্সভাগেন। সেই কারখানার খুব কাছেই একটি বিলাসবহুল হোটেলে বেসক্যাম্প বানিয়েছে নেদারল্যান্ডস দল।
এবারের ইউরো কাপে প্রত্যেক দল প্রতিযোগিতার আগেই কাছাকাছি নানা ছোট শহরে শিবির ফেলেছে। গ্রুপ ম্যাচের দিন সেখান থেকেই ট্রেনে বা বাসে করে স্টেডিয়ামে গিয়ে ম্যাচ খেলে আবার শিবিরেই ফিরে আসা যাবে। এতে করে বাড়তি বিমানযাত্রার ধকল বাঁচবে, সঙ্গে পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থায় কার্বন নিঃসরণ কমানোও যাবে। অন্তত এমনটাই বার্তা দিতে চায় উয়েফা। নেদারল্যান্ডসও উলফসবার্গ থেকে হ্যামবার্গে আজ তাদের প্রথম ম্যাচ খেলতে যাবে। হ্যামবার্গ, বার্লিন, লাইপজিগ খুব বেশি হলে ঘন্টাখানেকের রাস্তা। যা আশা করা হচ্ছে, জার্মানির বিখ্যাত ডয়েশে বান ট্রেনেই সওয়ার হতে চলেছে ডাচরা।
ইউরোর ধুন্ধুমার লড়াইতে স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি, ইংল্যান্ড ও জার্মানির মাঝে খানিকটা চাপাই পড়ে গিয়েছে নেদারল্যান্ডস। একে তো গত দশ বছর ধরেই ডাচ ফুটবলে খরা চলছে। এককালে ব্রাজিল-আর্জেন্তিনা-জার্মানির মাঝে অনেকের গোপন প্রেম ছিল নেদারল্যান্ডস। মাঠ জুড়ে অত্যন্ত ক্ষিপ্র গতিতে একের পর এক প্রতি-আক্রমণ তুলে বিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করে দিতে তুখোড় ছিল ডাচরা। সবুজ ঘাসে কমলা ঝড় যেন অনেকটাই চোখের আরাম। অথচ ইউরোতে এসে শুরু থেকেই চোট-আঘাতে জর্জরিত রোনাল্ড কেম্যানের দল। এদিকে প্রথম ম্যাচেই আজ তাদের প্রতিপক্ষ পোল্যান্ড।
এই যেমন শনিবারের কথা ধরা যাক। উলফসবার্গের এওকে স্টেডিয়নে অনুশীলন করছে নেদারল্যান্ডস। শহরের ক্লাব উলফসবার্গ এফসির মহিলা দল এই মাঠে অনুশীলন করে থাকে। ইউরোর জন্য মাঠ ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ডাচদের। অথচ দেখা গেল, ফ্রেঙ্কি ডে ইয়ং ও টেউন কুপমেইনার্স নেই। একজনের গোড়ালিতে চোট, অপরজনের তলপেটে। ব্রায়ান ব্রোবির হ্যামস্ট্রিং-এ টান। শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে দলে ঢোকাতে হয়েছে জোশুয়া জার্কজি ও আয়ান মাটসেনকে। কেম্যান অবশ্য বলছেন, 'কাদের চোট রয়েছে ভেবে তো লাভ নেই। যাদের চোট নেই, তাদের নিয়েই আমি ভাবছি এখন। তাদের নিয়েই তো খেলতে হবে আমায়।'
তাহলে কি এবারে গ্রুপ থেকেই বিদায় নিতে হবে নেদারল্যান্ডসকে? শুরু থেকেই কঠিন গ্রুপে পড়েছে ডাচরা। গ্রুপ ডি-তে তাদের সঙ্গে হুঙ্কার দিচ্ছে কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স, রবার্ট লেওয়ানডস্কির পোল্যান্ড ও অস্ট্রিয়া। লাইপজিগে আগামী ২১ জুন ফ্রান্স-নেদারল্যান্ডসের ম্যাচ ঘিরে এখনই উন্মাদনা চরমে। তার ওপর ইউরোতে ছোট দল বলে কিছু হয় না। অঘটন ঘটিয়ে দিতে পারে অস্ট্রিয়া। অবশ্য ভরসার জায়গাও আছে কিছু। ডাচদের প্রধান শক্তি, তাদের রক্ষণ। ভার্জিল ভ্যান ডাইক রয়েছেন, সঙ্গে ফুল ব্যাকে থাকছেন অভিজ্ঞ জেরেমি ফ্রিমপং। দু'জনেই বিশ্বের অন্যতম সেরা। এদিকে আজ প্রথম ম্যাচে লেওয়ানডস্কিও থাকবেন না। তিনিও হ্যামস্ট্রিং-এর চোটে কাবু।
ভ্যান ডাইকদের অতএব আজ জয় ছাড়া কিছু ভাবলে চলবে না। এটাই সোনার সুযোগ। অন্তত কমলা ঝড়কে টিকিয়ে রাখতে গেলে পোল্যান্ড আর অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে জিততেই হবে। ফ্রান্স ম্যাচে যা হওয়ার হবে। অতএব শেষ আটের রাস্তা সাফ রাখতে গেলে বাকি দুই ম্যাচেই জিতে তিন পয়েন্ট ছিনিয়ে নিতে হবে। আজ সাড়ে ছ'টা থেকে খানিক দুরু দুরু বুকেই বসবেন ফুটবলপ্রেমীরা।