অভিযুক্ত অঙ্কুশ ভারদ্বাজ ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (NRAI)-র অধীনে নিযুক্ত ১৩ জন জাতীয় পিস্তল কোচের একজন। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরই তাঁকে সমস্ত দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

অভিযুক্ত কোচ
শেষ আপডেট: 8 January 2026 10:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জাতীয় স্তরের এক মহিলা শুটারকে (National Level Woman Shooter) যৌন হেনস্থার (Sexual Assault) অভিযোগ! হরিয়ানা পুলিশে অভিযোগ দায়ের হল জাতীয় শুটিং কোচ (National Shooting Coach) অঙ্কুশ ভারদ্বাজের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারিণী ১৭ বছরের এক শুটার, যিনি জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে দিল্লিতে এসেছিলেন। পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ফরিদাবাদের মহিলা থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে দিল্লির ডঃ কর্ণী সিং শুটিং রেঞ্জে আয়োজিত একটি জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতার সময়। অভিযোগ, পারফরম্যান্স মূল্যায়নের অজুহাতে কোচ অঙ্কুশ ভারদ্বাজ ওই শুটারকে ফরিদাবাদের একটি হোটেলে (Faridabad Hotel) ডেকে পাঠান। প্রথমে লবিতে দেখা করার কথা বলা হলেও পরে তাঁকে হোটেলের ঘরে যেতে চাপ দেওয়া হয়। সেখানেই যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে।
হরিয়ানা পুলিশ জানিয়েছে, নাবালিকার অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে পকসো আইনের (POCSO ACT) ৬ নম্বর ধারা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫১ (২) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনার দিনের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চাওয়া হয়েছে।
ফরিদাবাদ পুলিশের জনসংযোগ আধিকারিক যশপাল যাদব জানিয়েছেন, “মামলার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আমরা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান রেকর্ড করা হচ্ছে।”
অভিযুক্ত অঙ্কুশ ভারদ্বাজ ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (NRAI)-র অধীনে নিযুক্ত ১৩ জন জাতীয় পিস্তল কোচের একজন। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরই তাঁকে সমস্ত দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
NRAI-এর সেক্রেটারি জেনারেল পবন কুমার সিং জানিয়েছেন, “মিডিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোচ অঙ্কুশকে সমস্ত দায়িত্ব থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং তাঁকে কোনও নতুন দায়িত্ব দেওয়া হবে না।”
এফআইআরে আরও দাবি করা হয়েছে, অভিযোগ জানালে অভিযুক্ত কোচ শুটারের কেরিয়ার নষ্ট করে দেওয়ার এবং পরিবারের ক্ষতি করার হুমকি দিয়েছিলেন। ভয় ও মানসিক আঘাতের মধ্যে ওই শুটার হোটেল ছেড়ে বেরিয়ে যান এবং পরে পরিবারের কাছে পুরো বিষয়টি জানান। এরপরই পরিবার পুলিশের দ্বারস্থ হয়।
অভিযোগকারিণীর দাবি, এই কোচের বিরুদ্ধে অনুরূপ আচরণের শিকার হয়েছেন আরও এক জন মহিলা শুটারও। পুলিশ সেই তথ্যও খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে। মামলার তদন্ত চলছে।