দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিট থেকে উঠে দাঁড়িয়ে সচিন তেন্ডুলকরকে জড়িয়ে ধরতে চেয়েছিলেন তাঁর তরুণবেলার বন্ধু ও সহখেলোয়াড় বিনোদ কাম্বলি (Vinod Kambli)। পারেননি। শারীরিক অসুস্থতায় সেটুকু সম্ভব হয়নি। এই ভিডিও সামনে আসার পর থেকেই গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার বিনোদ কাম্বলির শারীরিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে। কী করে এমন অবস্থা হল কাম্বলির। ঠিক কী হয়েছে তাঁর।
এবার এই নিয়ে মুখ খুললেন কাম্বলি নিজেই। ৫২ বছর বয়সি বিনোদ কাম্বলি জানিয়েছেন যে, তিনি এখন অনেকটা ভাল আছেন, তবে প্রায় এক মাস আগে তাঁর শরীরে একটি বড় বিপত্তি দেখা দিয়েছিল। তিনি মূত্রথলির সংক্রমণের সমস্যায় ভুগছিলেন। কিন্তু তাঁর স্ত্রী এবং সন্তানরা তাঁকে সুস্থ হয়ে উঠতে সাহায্য করেছেন বলে জানান তিনি। তিনি উল্লেখ করেন, প্রাক্তন ক্রিকেটার অজয় জাদেজাও তাঁকে দেখতে আসেন।
সম্প্রতি ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার বিনোদ কাম্বলির একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। কিংবদন্তি ক্রিকেট কোচ রমাকান্ত আচরেকরের স্মরণে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু, কাম্বলির শারীরিক অবস্থা দেখে গোটা দেশ কার্যত স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছে।
কাম্বলিকে নিয়ে আগেও একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। সেখানে দেখা গিয়েছিল, তিনি ঠিক করে হাঁটতেও পারছেন না। এমনকী, দাঁড়ানোর জন্য তাঁকে একটি মোটরবাইকের সাহায্য নিতে হচ্ছে। আর বর্তমানে ভাইরাল হওয়া ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, এই অনুষ্ঠানে তাঁর ছোটবেলার বন্ধু তথা ভারতের ব্যাটিং মায়েস্ট্রো সচিন তেন্ডুলকরও এসেছিলেন। কিন্তু, তাঁকে আলিঙ্গন করার জন্য তিনি ঠিক করে দাঁড়াতেও পারছেন না।
দেখুন সেই ভিডিও।
ইতিমধ্যে বিনোদ কাম্বলির এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু প্রাক্তন এই ভারতীয় ক্রিকেটারের শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে মুখ খুলেছেন। জানিয়েছেন যে ইতিমধ্যে কাম্বলিকে ১৪ বার রিহ্যাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
তবে কাম্বলি এই প্রসঙ্গে বলেন, 'এখন আমি অনেকটাই ভাল আছি। আমার স্ত্রী আমায় খুবই সাহায্য করেছেন। তিন-তিনটি হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন আমায়, মনের জোর জুগিয়েছিলেন। অজয় জাদেজাও আমায় দেখতে এসেছিলেন, খুব ভাল লাগল। আমার সংক্রমণ কমছিলই না, প্রায় শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছিলাম। সে সময়ে আমার ছেলে আমায় উঠিয়ে আবার নিজের পায়ে দাঁড় করাল। আমার ১০ বছরের মেয়ে এবং স্ত্রীও আমায় সাহায্য করেছিলেন। এটা প্রায় এক মাস আগের কথা বলছি। আমার মাথা ঘুরছিল, আমি পড়েও গিয়েছিলাম।'
শুধু শারীরিক বিষয়ে না, ক্রিকেট নিয়েও কথা বলেন কাম্বলি। তিনি বলেন, 'ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে করা সেই ডবল সেঞ্চুরিটি আমি চিরদিন মনে রাখব। আমার সঙ্গে ছিলেন আচারেকর স্যার এবং গোটা দল... কী অসাধারণ দল ছিল। দলে ছিলেন অনিল কুম্বলে, রাজেশ চৌহান, বেঙ্কটেশ প্রসাদ। আমরা বহু ম্যাচ জিততাম। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আমাদের লড়াই দুর্দান্ত ছিল। আমি মুরলীধরের পিছনে লাগতাম, বলতাম, 'মুরলী, হাতটা সোজা করো!' ও আমায় মাতৃভাষায় কী যে উত্তর দিত!'
ম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেটার বিনোদ কাম্বলির একটা সময় যথেষ্ট নামডাক ছিল। ক্রিকেট বিশ্বে তিনি যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছিলেন। আর সেকারণে যশ এবং বৈভবও উপচে পড়েছিল। অভাব ছিল না অর্থেরও।
টেস্ট ক্রিকেটে তিনি এমন ধামাকাদার এন্ট্রি নিয়েছিলেন, যা অনেক ব্যাটারের কাছে আজও স্বপ্ন! প্রথম ৭ টেস্ট ম্যাচের মধ্যে তিনি জোড়া ডবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন। তাঁর ব্যাটিং গড় ছিল ১০০-র উপরে। এই সাতটি টেস্ট ম্যাচে তিনি মোট ৭৯৩ রান করেন। ব্যাটিং গড়ে টেক্কা দেন ডন ব্র্যাডম্যানকেও। কিন্তু, এরপরই গোটা ছবিটা বদলে যায়। কয়েকবছরের মধ্যেই খ্যাতির চূড়া থেকে সোজা মাটিতে নেমে আসেন।
সূত্রের খবর, একটা সময় বিনোদ কাম্বলির মোট সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ২০ কোটি টাকা। কিন্তু, এখনও পরিস্থিতি একেবারেই বদলে গিয়েছে। যে ক্রিকেটার একটা সময় বিলাসবহুল জীবন কাটিয়েছিলেন, আজ প্রতিটা পয়সা তাঁকে হিসেব করে খরচ করতে হয়।
বিগত কয়েকবছর ধরেই শারীরিক অসুস্থতায় জর্জরিত বিনোদ কাম্বলি। এমনকী, চিকিৎসা করানোর টাকাও তাঁর কাছে নেই। বর্তমানে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড থেকে তিনি যে পেনশন পান, তাতেই কোনওক্রমে সংসার চালাতে হয়। প্রতি মাসে বিসিসিআই তাঁকে ৩০ হাজার টাকা পেনশন দেয়।