দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাণ্ডবী নদী তীরে ডুবল এটিকে-মোহনবাগানও। ডার্বি জয়ের অহঙ্কার মাটিতে লুটিয়ে পড়ল গঙ্গাপাড়ের ক্লাবের। মুম্বই সিটি এফসি ৫-১ গোলে হারিয়েছে রয় কৃষ্ণদের। গতবারের ফাইনালে হারের মধুর প্রতিশোধ নেওয়া তো দূরের কথা, আরও চার গোল খেত বাগান। গোলরক্ষক অমরিন্দরের কয়েকটি সেভ দলের লজ্জা কিছুটা হলেও বাঁচিয়েছে।
লাল হলুদের ছয় গোল খাওয়া নিয়ে সবুজ মেরুন সমর্থকরা যখন ব্যঙ্গ করছিলেন, সেইসময় তাঁরা স্বপ্নেও ভাবেননি তাদের হাল এরকম হবে। এটিকে-মোহনবাগানের মতো ভারসাম্যযুক্ত ওজনদার দল মাটি ধরে নেবে, কেউ ভাবতেই পারেননি।
ডার্বি জয়ের উচ্ছ্বাসে দলের রক্ষণের ত্রুটি ধরা পড়েনি, সেই কারণেই একের পর এক গোল হজম করেছে হাবাসের ছেলেরা। ম্যাচের শুরু থেকেই একেবারে তেড়েফুঁড়ে আক্রমণের মেজাজে খেলা শুরু করে মুম্বই। দুই উইংকে ব্যবহার করে সবুজ-মেরুন রক্ষণকে ফালাফালা করে দিল আরব সাগরের তীরের দলটি।
তাঁদের হয়ে প্রথম দুটি গোলও করলেন রাইট উইং থেকে খেলা বিক্রম প্রতাপ সিং। প্রথমটি ম্যাচের মিনিট চারেকের মধ্যেই। দ্বিতীয়টি ২৫ মিনিটে। ৩৮ মিনিটে ইগর অ্যাঙ্গুলোর গোলে ৩-০ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে যায় মুম্বই।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সবুজ-মেরুনের বিপদ আরও বাড়িয়ে দেন দীপক টাংরি। বিপক্ষকে ফাউল করায় লালকার্ড দেখতে হয় তাঁকে। দীপকের লালকার্ড নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কিন্তু তাঁর লালকার্ডের পর খেলার ফলাফল নিয়ে বিতর্কের অবকাশ ছিল না। ১০ জনের এটিকে মোহনবাগান ৪৭ এবং ৫২ মিনিটে পরপর জোড়া গোল খেয়ে আরও বিপাকে পড়ে যায়। ৬০ মিনিটের মাথায় দলের হয়ে একমাত্র গোলটি করে সবুজ-মেরুনের মুখরক্ষা করেন ডেভিড উইলিয়ামস।
দল একের পর এক গোল খাওয়া দেখে কোচ হাবাস মেজাজ হারান। তিনি ডাগআউট থেকে ফুটবলারের উদ্দেশে চিৎকার করতে থাকেন। খেলা শেষে ভার্চুয়াল প্রেস কনফারেন্স বয়কট করেন। প্রথাগত মিডিয়া সম্মেলন না আসায় তাঁকে শাস্তি পেতে হবে। তিনি খেলার পরে রেফারিদেরও কটুক্তি করেছেন। সেই নিয়ে রেফারি রিপোর্টে হাবাসের কথা উল্লেখ রয়েছে।