
মোহনবাগানের রক্ষণকে ফালাফালা করে বিপিনের গোল।
শেষ আপডেট: 4 May 2024 21:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিজেদের মাঠে অসহায় আত্মসমর্পণ মোহনবাগানের।
মোহনবাগান পারল না আইএসএলে পরপর দু’বার চ্যাম্পিয়ন হতে। তারা শনিবার যুবভারতীতে ফাইনাল ম্যাচে মুম্বই সিটি এফসি-র কাছে হারল ৩-১ গোলে। মুম্বইয়ের হয়ে গোল দেন দিয়াজ পেরেরা, বিপিন সিং এবং জাকুব ভোসটুজ।
মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে খেলার ৪৩ মিনিটে এগিয়ে গিয়েছিল মোহনবাগান। তাদের হয়ে গোল দেন জেসন কামিন্স। পরে মুম্বইয়ের শোধ করেন দিয়াজ পেরেরা। পরে ম্যাচের ৮১ মিনিটে গোল করে বিপিন সিং সমতা ফেরান। পরে মুম্বইয়ের হয়ে নির্ধারিত সময়ের ইনজুরি টাইমে জয়সূচক গোল জাকুবের। সব ক্ষেত্রেই মোহনবাগানের কমজোরি রক্ষণের জন্যই ডুবতে হল গতবারের চ্যাম্পিয়ন দলকে। তাদের ত্রিমুকুট জয়ের স্বপ্ন অধরা থেকে গেল। মুম্বই বরং তাদের মাঠে হারের বদলা নিল। এমনকী লিগ-শিল্ড হারের মধুর প্রতিশোধ নিল পিটার ক্রাতকির দল।
মোহনবাগান ম্যাচে প্রথম গোল খেয়ে গেল ম্যাচের ৫৩ মিনিটে। সেই দুর্বল ডিফেন্সের কারণেই বাগানকে গোল খেতে হয়েছে। মুম্বইয়ের পক্ষে গোল করলেন দিয়াজ পেরেরা। শুভাশিস বসু ভাল করে ক্লিয়ার করতে পারলে গোলটাই হয় না। তাঁর এই ধারাবাহিকতা সমস্যার জন্যই বারবার ডুবেছে দল।
ম্যাচের ৪৩ মিনিটে কামিন্স যে গোলটি করে দলকে এগিয়ে দিলেন, তারজন্য কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট ছিল না। কারণ গত ম্যাচের মতোই দিমিত্রির দূরপাল্লার শট ফিরে এলে কামিন্স গোল করে ১-০ এগিয়ে দিলেন মোহনবাগানকে।
আইএসএল ফাইনাল ম্যাচ দেখে বোঝা যাবে না খেলা কোথায় হচ্ছে। সেইসময় মনে হওয়া স্বাভাবিক খেলা যুবভারতী নয়, হচ্ছে মুম্বইয়ের মাঠে। শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণে মোহনবাগানকে চেপে ধরেছে বিপক্ষ দল মুম্বই সিটি এফসি।
মোহনবাগানের রক্ষণাত্মক কৌশলে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে মুম্বই, যারা রেকর্ডে বাগানের চেয়ে এগিয়ে শুরু করেছে। মোহনবাগান কেন এত খোলসে ঢুকে থাকল, বোধগম্য হচ্ছে না সমর্থকদেরও। বরং মুম্বই কোচ পিটার ক্রাতকি দেখিয়ে দিলেন যুবভারতীর সমর্থনের বিপরীতেও ভাল ফুটবল উপহার দেওয়া যায়।
মোহনবাগানের আক্রমণ বলতে একেবারেই হাতে গোনা। কেন তারা নিজেদের মাঠে সেরা ফুটবল উপহার দিল না, এই ভেবেই হতাশ ফ্যানরা। ম্যাচে মোট ৬৬ হাজার সবুজ মেরুন সমর্থকরা এসেছিলেন। তাঁরা ফিরলেন বিফল মনোরথ হয়ে। হাবাসের কৌশল ফাইনালেই খাটেনি। তিনি ভেবেছিলেন প্রথমে দেখে পরে আক্রমণে যাবেন। কিন্তু ফাইনালে এভাবে মুম্বইয়ের মতো বিপক্ষকে হালকা দিলে ডুবতেই হবে, সেটি বুঝে গেলেন স্প্যানিশ কোচ।