
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 27 August 2024 20:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ জিতে ডুরান্ড কাপ ফাইনালে মোহনবাগান। বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে ০-২ গোলে পিছিয়ে পড়া ম্যাচ ২-২ করে সবশেষে টাইব্রেকারে জিতল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। এই নিয়ে পরপর দু'বছর ডুরান্ড ফাইনালে উঠল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। গত বছর ডার্বি জিতে ডুরান্ড কাপ ঘরে তুলেছিল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। এবছর কি নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে হারিয়ে ট্রফি জিততে পারবে তাঁরা, অপেক্ষায় সমর্থকরা।
এদিনের ম্যাচে মোহনবাগানকে যে দাপট নিয়ে খেলতে দেখার আশা ছিল সমর্থকদের তা হয়নি। কিছুটা ছন্নছাড়া ফুটবল এবং ডিফেন্সের ভুল দেখা গেছে তাঁদের। সেই ভুল থেকেই পেনাল্টি দিতে হয় মোহনবাগানকে। ৪৩ মিনিটে সেই পেনাল্টি থেকে গোল করেন সুনীল ছেত্রী। তারপর প্রথমার্ধ তো বটেই, দিতীয়ার্ধের প্রায় অনেকটা সময় পর্যন্তই পিছিয়ে ছিল সবুজ-মেরুন। সেই পিছিয়ে থাকা আরও কাঁটার মতো বিঁধে যায় সমর্থকদের কারণ ডিফেন্সের জঘন্য ভুলে ২-০ করে ফেলে বেঙ্গালুরু।
সেই সময় থেকে মনে হয়েছিল খুব আরামসে সুনীল ছেত্রীরা এই ম্যাচ জিতে ডুরান্ড ফাইনালে নামবেন। কিন্তু ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়তো অন্য কেউ করছিল। খেলার বিপরীতে গিয়ে পেনাল্টি পায় মোহনবাগান। সেখান থেকে গোল করেন ডিমি পেট্রাটস। ২-১ হয়ে যাওয়ার পর যখন সবুজ-মেরুন জার্সিধারীরা ক্রমাগত আক্রমণ শুরু করেছেন ঠিক তখনই তাঁদের লড়াইয়ে আরও বেশি অক্সিজেন দিয়ে দেয় অনিরুদ্ধ থাপার অনবদ্য গোল! ডি বক্সের বাইরে থেকে তিনি যে শটে গোল করলেন তা অনেকদিন মনে রাখা যায়।
শেষমেশ খেলার ফল ২-২ হয়ে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। আগের ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও দুরন্ত সেভ করেন বিশাল কাইথ। তবে গুরপ্রীতও গ্রেগ স্টুয়ার্টের শট বাঁচিয়ে আল্টিমেট হিরো হতে পারতেন। তবে বেঙ্গালুরুর শেষ নেওয়া পেনাল্টি শট বাঁচিয়ে দিয়ে বিশালই শেষ হাসি হাসলেন। সঙ্গে হাসল গোটা সবুজ-মেরুন বাহিনী। আরও একবার ডুরান্ড ট্রফি ঘরে তোলার মোক্ষম সুযোগ তাঁদের সামনে।
এ যেন গত বছরের ইস্টবেঙ্গলের ফলাফলের পুনরাবৃত্তি। সেবার নর্থইস্টের বিরুদ্ধেই সেমিফাইনালে ০-২ গোলে পিছিয়ে ছিল লাল-হলুদ। তারপর ২-২ করে শেষে তাঁরা ম্যাচ জেতে টাইব্রেকারে। তবে ফাইনাল জিতে ট্রফি জেতা হয়নি ইস্টবেঙ্গলের। এবার দেখা যাক, নর্থইস্টের বিরুদ্ধে মোহনবাগান কী করে। ১৮তম কাপ ঘরে তুলতে পারে তাঁরা, নাকি নর্থইস্ট প্রথমবারের জন্য কোনও টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন হতে পারে।