
মোহনবাগান... মোহনবাগান... মোহনবাগান...
শেষ আপডেট: 12 April 2025 17:05
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪। যুবভারতীর সবুজ গ্যালারিতে তখনও সেভাবে ঢেউ ওঠেনি। ১১তম আইএসএলের প্রথম বাঁশি সবেমাত্র পড়েছে। শুরুটা হয়েছিল মুম্বই সিটির সঙ্গে ২-২ ড্র দিয়ে। মোহনবাগান সমর্থকরা তখনও জানে না, ঠিক কতটা দীর্ঘ, কতটা কঠিন পথ হাঁটতে হবে তাদের। জানে না, ৮ মাস পর কোনও এক এপ্রিলের সন্ধ্যায় তাদের লড়তে হবে ফাইনালের মঞ্চে।
১২ এপ্রিল, ২০২৫। আবারও সেই যুবভারতী। প্রায় ৬৫ হাজার সমর্থকের গর্জন। ৯০ মিনিট চোখে চোখ রেখে লড়ে যাওয়ার হুঙ্কার। প্রতিপক্ষ বেঙ্গালুরু এফসি। সেখানে সুনীল ছেত্রী, গুরপ্রীত, রাহুলের মতো জাতীয় প্রতিভারা। হার না মানা মানসিকতা আর বড় মঞ্চে সাফল্যের অভিজ্ঞতার জন্য বেঙ্গালুরুকে খুব বেশি পিছিয়ে রাখাও যাচ্ছে না। লড়াই কঠিন, তবে অসম্ভব নয়। ফাইনালের মহারণে বাজি শুধু ট্রফি নয়—সম্মান, আবেগ, ইতিহাসেরও। পরপর তিন সিজনে ফাইনালে ওঠা, এটাও কি কম কৃতিত্বের!
গত ৮ মাসের সফরে কেবল জয়ের আনন্দ আসেনি। এসেছে হতাশা, এসেছে চোট, সামলাতে হয়েছে সমালোচনার ঝড়। কিন্তু সবুজ-মেরুন সেনারা দমেনি। হারিয়েছে আইএসএলের বড় বড় দলকে। এই তো ৩ এপ্রিল, সেমিফাইনালের প্রথম লেগে জামশেদপুরের কাছে ২-১ গোলে হারার পরও পিছিয়ে যায়নি তারা। ৭ এপ্রিল দ্বিতীয় লেগে মাঠে নেমে বুঝিয়ে দিয়েছে—মোহনবাগান শুধু একটা দল নয়, এক অনুভূতি। জামশেদপুরকে দুরমুশ করেছে ২-০ গোলে জিতে। নিজেদের নিয়ে এসেছে ফাইনালের মঞ্চে। সমর্থকদের কথায়, মোহনবাগান কারও ধার বাকি রাখে না! আইএসএলের ২০২৪-২৫ সংস্করণে সেমিফাইনাল ধরে ১৮টি ম্যাচ জিতেছে মেরিনার্সরা, হেরেছে মাত্র ৩ ম্যাচে। ৫৬ পয়েন্ট নিয়ে শেষ করেছে একেবারে শীর্ষে, জিতেছে লিগ শিল্ড।
গতবারের শিল্ড জয় হলেও ফাইনালের মঞ্চে হার স্বীকার করতে হয়েছিল। তবে মোহনবাগান বলেই ফিরে এসেছে তারা— দুঃখকেই করেছে শক্তি। আবারও উঠে এসেছে ফাইনালের মঞ্চে। ঠিক দু’বছর আগে আইএসএলের কাপ ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল মোহনবাগান এবং বেঙ্গালুরু। সেই ম্যাচে টাইব্রেকারে বেঙ্গালুরুকে হারায় মোহনবাগান। তাই বেঙ্গালুরু কাছে এই ম্যাচটা যদি প্রতিশোধের হয়, সবুজ-মেরুনের কাছে 'ডাবল' করার সুযোগ!
আজ আবার ভরে উঠবে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। আবার সবুজ-মেরুন গ্যালারি, বড় বড় সব টিফো—শুভাশিস, কামিংস, পেত্রাতোস, বিশাল, আপুইয়াদের নাম নিয়ে সমর্থকদের গগনভেদী চিল চিৎকার। এই ম্যাচটা কিন্তু আসলে এক যুদ্ধ—নিজেদের প্রতি বিশ্বাসের, ক্লাবের ঐতিহ্যের, লক্ষ লক্ষ সমর্থকের স্বপ্নপূরণের আর সমালোচকদের মুখ বন্ধ করার। মোহনবাগানের প্রত্যেকটা ফুটবলার জানে, লড়াইয়ের শেষে শুধু ট্রফি নয়, অপেক্ষা করছে আরও একটা ইতিহাস। শেষ বাঁশি বাজার আগেই লিখে ফেলতে হবে সেই ইতিহাস। ফুটবলের ভাষায় ফাইনাল মানে লড়াই, স্ট্র্যাটেজি, পরিকল্পনা। কিন্তু সবুজ-মেরুন সমর্থকদের কাছে এই ম্যাচ তার থেকেও অনেক বেশি কিছু। আজকের এই ফাইনাল শুধু একটা ম্যাচ নয়, মোহন সমর্থকদের কাছে দূর্গ রক্ষার লড়াই, সঙ্গে সম্মানও। গ্যালারি জুড়ে আজ একটাই গর্জন-
মোহনবাগান... মোহনবাগান... মোহনবাগান...