
জয়ের পরের মুহূর্ত (ছবি- ফেসবুক/মোহনবাগান)
শেষ আপডেট: 7 April 2025 22:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে হোসে মোলিনার মোহনবাগান সুপার জায়েন্ট যেন একটাই লক্ষ্যে মাঠে নেমেছিল—জয়। আইএসএল সেমিফাইনালের প্রথম ভাগে জামশেদপুর এফসির কাছে ১-২ গোলে পরাজিত হয়েছিল সবুজ-মেরুন শিবির। তাই চাপ কিছুটা ছিলই। ঘরের মাঠে অন্তত এক গোলের ব্যবধানে জিততেই হত তাদের। বেশি ব্যবধানে জিতলে সরাসরি ফাইনাল, নয়তো টাইব্রেকার। সেই সমীকরণে ভর করেই আজ শুরু থেকে আক্রমণাত্মক রূপে দেখা যায় জেমি ম্যাকলারেনদের দলকে। ফল, ২-০ গোলে জয় মোহনবাগানের ও আইএসএল ফাইনালে সরাসরি এন্ট্রি।
প্রথম থেকেই আক্রমণ শানাতে থাকে মোহনবাগান। তবে গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় অনেকটা। ১৬ মিনিটে সুযোগ পান জেসন কামিংস। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নেওয়া শট বারের অনেকটা উপরে দিয়ে চলে যায়। পরের মিনিটেও আরেকটি সুযোগ পান তিনি, তবে সেটিও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ফলে প্রথমার্ধে অনেক সুযোগ তৈরি করেও গোল করতে ব্যর্থ হয় মোহনবাগান।
দ্বিতীয়ার্ধে ৪৬ মিনিটে জামশেদপুরের হয়ে জাভি হার্নান্ডেজের একটি প্রচেষ্টা অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। বিশাল কাইত সেই শট ঠেকাতে ঝাঁপালেও বলের নাগাল পাননি। এরপর আসে ৫১ মিনিটের সেই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। বক্সে বল হাতে লাগান প্রণয় হালদার, পেনাল্টি পায় মোহনবাগান। জেসন কামিংস সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন।
তবে এই এক গোলে ম্যাচ শেষ হয়নি। কারণ, তখনও ফাইনাল নিশ্চিত হয়নি মোহনবাগানের। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ঠিক তখনই নায়ক হয়ে ওঠেন মিজো মিডফিল্ডার আপুইয়া। ৯৪ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে মারা দুর্দান্ত শটে গোল করে মোহনবাগানকে ফাইনালে পৌঁছে দেন তিনি।
জামশেদপুরে প্রথম পর্বে হারের পর আক্রান্ত হয়েছিলেন সমর্থকরা। সেই ক্ষোভ, সেই দুঃখ যেন মাঠে পারফরম্যান্স দিয়ে ভুলিয়ে দিলেন ম্যাকলারেনরা। মোহনবাগান দেখিয়ে দিল যোগ্য জবাব মাঠেই দেন তাঁরা।
আইএসএল লিগ জয়ের পর এবার কাপ ফাইনালে সবুজ-মেরুন শিবির। প্রতিপক্ষ সুনীল ছেত্রীর বেঙ্গালুরু এফসি। শোনা যাচ্ছে, যুবভারতীতেই অনুষ্ঠিত হতে পারে এই হাইভোল্টেজ ফাইনাল, আগামী শনিবার মুখোমুখি হবে দুই দল।