
মহম্মদ সিরাজ
শেষ আপডেট: 3 April 2025 12:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদা ঘরের ছেলে ফিরে এসেছেন ছেড়ে যাওয়া ঘরের মাঠে। আর পুরনো দলের ব্যাটিং অর্ডারে একা হাতে ধস নামিয়েছেন। গতকাল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে গুজরাত টাইনটানসের জয়ের অন্যতম কাণ্ডারী মহম্মদ সিরাজ কিন্তু মাটিতে পা রেখেই চলতে চান। বিরাট কোহলিদের স্বপ্নভঙ্গ করে পুরনো দলের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ নয়, স্মৃতির ঝাঁপি খুলে দিলেন ছন্দে থাকা পেসার।
মাত্র ১৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট। যার মধ্যে দেবদত্ত পাড়িক্কাল, বিধ্বংসী ফিল সল্টের মতো ব্যাটসম্যানরাও রয়েছেন। তাঁদের আউট করে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর মতো সেলিব্রেশনে মেতে উঠেছিলেন সিরাজ। যার প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘আমি কিছুটা অনুভূতিপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। এই দলে আমি ৭ বছর খেলেছি। এরপর জার্সির রং লাল থেকে নীল হয়েছে। মনের ভেতরে অস্বস্তি আর অনুভূতি দুটোই কাজ করছিল। কিন্তু হাতে একবার বল তুলে নেওয়ামাত্র আমি বদলে যাই। আরও বেশি একাগ্র হয়ে উঠি।‘ আর রোনাল্ডোর স্টাইলে উৎসবের কারণ? সিরাজের ব্যাখ্যা, ‘আমি রোনাল্ডোর ভক্ত, তাই এই সেলিব্রেশন।‘
আরসিবির হয়ে দীর্ঘ ৭ বছর খেলেছেন সিরাজ। ৮৭ ম্যাচে নিয়েছেন ৮৩ উইকেট। গড় ৩১.৪৫। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে ভাল খেলেও চলতি আইপিএলের মহা নিলামের আগে তাঁকে রাখতে চায়নি দল। অকশনে দর হেঁকে কিনে নেয় গুজরাত টাইটানস।
গত বছর কেরিয়ারগ্রাফ নীচের দিকে নেমে যায় সিরাজের। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বর্ডার-গাভাসকার ট্রফির জন্য নির্বাচিত হয়েও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে জায়গা পাননি। প্রাকশ্যে মুখ খুলেছিলেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা। সিরাজকে কেন বাদ দেওয়া হল—এই প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছিলেন, যেহেতু পুরনো বলে তেমন কার্যকরী নন, তাই তাঁকে দলে নেওয়া হয়নি। জবাবে পরিসংখ্যান তুলে সিরাজ দাবি করেন, গত এক বছরে আর কোনও পেসার পুরনো বলে তাঁর চেয়ে বেশি উইকেট দখল করেননি।
টিমের সঙ্গে দুবাই যাননি। কিন্তু সেই অনুপস্থিতিকে কাজে লাগিয়েছেন। নিয়েছেন আইপিএলের প্রস্তুতি। যার ফল আইপিএলে দুর্দান্ত শুরুয়াত। সিরাজ বলেন, ‘আমি ধারাবাহিকভাবেই খেলার মধ্যে ছিলাম। কিন্তু ওই সাময়িক বিরতিতে আমি নিজের দোষত্রুটি শোধরানোর সুযোগ পেয়েছি। ফিটনেসের উন্নতি ঘটিয়েছি। এরপর গুজরাত টাইটানস আমায় দলে নেওয়ার প আমি আশিস ভাইয়ের (আশিস নেহেরা) সঙ্গে কথা বলি। তিনি আমায় বোলিং উপভোগের পরামর্শ দেন। ইশান্ত শর্মা লাইন-লেন্থ মেনে বল করার উপদেশ দেন। আমার এখনকার মানসিকতা হচ্ছে নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখা। পিচ বা উইকেট আমার কাছে গুরুত্বহীন।‘