দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার শুটিং (Shooting) মন্ডলে নতুন তারার সন্ধান পাওয়া গেল। বঙ্গ শুটিংয়ে সাফল্যের আলো আসতে পারে আয়ূশি পোদ্দারের (Ayushi Podder) হাত ধরে। কিন্তু অন্দরে নানা ব্যর্থতার কাহিনী, এমনকি রয়েছে নানা চক্রান্তের বীজ। আবার একেকসময় দুই নামী শুটারের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায় যে দুই কোচকে মধ্যস্থতা করতে হয়।
কেউ কারোর মুখ দেখেন না, কেউ যদি মেইন রাস্তা ধরে স্টেশনে আসেন, তা হলে অন্যজন খোঁজেন কীভাবে পাড়ার রাস্তা ধরে স্টেশনে পৌঁছানো যাবে!
জয়দীপ কর্মকারের ছাত্রী মেহুলি ঘোষকে নিয়ে নানা স্বপ্নের ফড়িং ওড়ানো হয়েছিল। মেহুলি নিয়ে তাঁর কোচ জয়দীপ সবসময় মিডিয়ার কাছে ফলাও করে বলেন।
সেদিক থেকে আয়ূশি চুপচাপ, শান্ত, নিজের লক্ষ্যের প্রতি অবিচল। আয়ূশির বাবা প্রকাশ পোদ্দারও নামী কোচ, তিনিও শুটিংয়ের অ-আ-ক-খ সবটা জানেন। নিজের মতো করে নিভৃতিতে কন্যাকে তৈরি করেছেন।
https://twitter.com/rathindraOFC/status/1447227305869209603
পেরুর রাজধানী লিমায় ঐশ্বর্য প্রতাপ সিংহের সঙ্গে ৫০ মিটার থ্রি পোজিশন রাইফেলের মিক্সড টিম ইভেন্টে ফাইনালে ওঠার পথে জুনিয়র বিশ্বরেকর্ডও গড়েন আয়ুশি। যোগ্যতা অর্জন পর্বে ৫৯০ পয়েন্ট স্কোর করে এই বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন এবং ঐশ্বর্য প্রতাপ। ফাইনালে অবশ্য জার্মানির কাছে হেরে রুপো পান বঙ্গতনয়া।
মেহুলি যেমন কোচ হিসেবে জয়দীপকে পেয়েছেন, তেমনি আবার আয়ূশি ভাল কোচিংয়ের জন্য গিয়েছেন বেঙ্গালুরুতে গগন নারাংয়ের কাছে। অভিনব বিন্দ্রার পরে গগনই শুটিং আকাশে উজ্জ্বল তারা। সেই গগনের অ্যাকাডেমিতে পরিশীলিত হয়ে আয়ূশি হয়ে উঠেছেন আরও ভাল, আরও দক্ষ শুটার। সেই কারণেই বিশ্ব শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে পদক পাওয়ার পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীরও প্রশংসা পেয়েছেন। মোদী টুইটে তাঁর নাম উল্লেখ করে লিখেছেন, এগিয়ে চলো তুমি।
সামনের বছর এশিয়ান গেমস, সেই কারণে এই সাফল্য আয়ূশিকে আরও তাগিদ জোগাবে। অস্টমীর দিন বৈদ্যবাটীর বাড়িতে পৌঁছবেন। তাঁর একদা বান্ধবী মেহুলির বাড়িও বৈদ্যবাটীতে, কিন্তু তিনি জয়দীপের কাছে ট্রেনিং নিতে চলে গিয়েছেন নিউ টাউনে। কিন্তু আয়ূশি শিঁকড় ভোলেননি, তিনি রয়ে গিয়েছেন হুগলীর বাড়িতেই। তিনি মনে করেন, যদি ভাল হওয়ার হয়, চাঁদে গিয়েও হবে না!