দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় ক্রীড়ামহলে এমন ধরনের অভিযোগ এইপ্রথম। দেশের এক নামী তারকা একজন প্রাক্তন জাতীয় চ্যাম্পিয়ন (National Champion) তথা দেশের কোচের নামে গড়াপেটার (Fixing) অভিযোগ তুলছেন।
মণিকা বাত্রার (Manika Batra) গত ১০দিন আগেই নাকি সৌম্যদীপ রায়ের (Soumyadeep Roy) বিপক্ষে এমন অভিযোগ লিখে পাঠিয়েছিলেন। কারণ টোকিও (Tokyo) অলিম্পিকে মণিকার পাশে ছিলেন না কোচ সৌম্যদীপ। মণিকা জানিয়েছিলেন, তিনি কোচ ছাড়াই টোকিওতে খেলেছেন। কেননা সৌম্যদীপ বেশি মনোযোগ দেন তাঁর ছাত্রী সুতীর্থা মুখোপাধ্যায়ের দিকে। সেই নিয়ে একটা বিতর্ক চলছিল।
আরও তাৎপর্যবাহী, মণিকার ব্যক্তিগত কোচকে টোকিওতে গেমস ভিলেজে প্রবেশের অধিকার দেওয়া হয়নি। এই নিয়ে ক্ষোভ ছিল মণিকার। তাই তিনি সৌম্যদীপের কোচিংয়ে খেলতে রাজি ছিলেন না। এই নিয়ে সৌম্যদীপ সর্বভারতীয় টেবল টেনিস সংস্থার কাছে অভিযোগ জানালে মণিকাকে শোকজ করা হয়।
কেন তিনি দেশের কোচের সঙ্গে এমন করেছেন, তার জবাব চাওয়া হয়। মণিকা সেই নিয়ে শোকজের জবাবও দিয়েছেন। তাতেই তিনি লিখেছেন, কোচ হিসেবে সৌম্যদীপ রায় দোহায় এশিয়ান টিটি চ্যাম্পিয়নশিপের সময় আমাকে ম্যাচ ছেড়ে দিতে বলেন। কারণ ওঁর ছাত্রী সুতীর্থা আমার বিপক্ষে ম্যাচটি জিতলে তবেই টোকিও অলিম্পিকে যেতে পারত। মণিকা ম্যাচটি ছেড়েও দেন। যদি তিনি অন্যথা করতেন, তা হলে হয়তো তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিহিংসা পরায়ণ মনোভাব নিতে পারতেন কোচ, সেটাই মনে করছে মণিকার বিশ্বস্তমহল।
মণিকার শোকজের জবাব কেন এতদিন গোপন রাখা হয়েছিল, সেই নিয়েও সমান রহস্য দানা বাঁধছে। এতে কী কোনও টি টি কর্তা জড়িত রয়েছেন? সৌম্যদীপ শনিবার সকালে সেই কারণেই দিল্লি গিয়েছেন, মনে করা হচ্ছে। তাঁর মোবাইল বন্ধ দু’দিন ধরে। এমনকি তাঁর স্ত্রী পৌলমী ঘটকও ফোন ধরছেন না।
শুধু তাই নয়, সৌম্যদীপের নামে মণিকা এও অভিযোগ করেছেন, তিনি ভারতের কোচ হওয়ার পরেও কী করে নিজস্ব অ্যাকাডেমি চালাচ্ছেন, এতে তো স্বার্থের সংঘাতও জড়িয়ে। এর বিহিতও চান নামী তারকা মণিকা। তিনিও নিজের পরিচিতিমহলকে জানিয়েছেন, এই অন্যায়ের শেষ দেখে ছাড়বেন।