দ্য ওয়াল ব্যুরো: সময়ের পার্থক্যটা ঠিক ৫ মাস ৮ দিন। ১৯৯৮-এর ১৩ জুলাই থেকে ২০ ডিসেম্বর।
ফ্রান্সের সেন্ট ডেনিস স্টেডিয়ামের ৮০ হাজার দর্শককে সাক্ষী রেখে মাঠের সবুজ ঘাসে ছবি আঁকছেন জিনেদিন জিদান। ফুটবলের পাবলো পিকাসো। ১৩ জুলাই। ব্রাজিলকে ৩-০ গোলে শুইয়ে দিয়ে প্রথমবারের জন্য বিশ্বকাপ জিতে নিয়েছিল ফ্রান্স। অনেকে জিদানের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন দিয়েগো আরমান্দো মারাদোনার। কার্যত একার কাঁধে বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন দেশকে। আর জিদান যেদিন সোনার কাপে চুমু খাচ্ছেন সেদিন আজকের এই ছেলেটা মায়ের গর্ভে। বিশ্বকাপ জেতার ৫ মাস ৮ দিনের মাথায় জন্মালেন ছেলেটা।
এমবাপে লাত্তিন। ১৯ বছর বয়সী ছেলেটা কার্যত একা শেষ করে দিল আর্জেন্টাইন ডিফেন্সকে। অজান্তেই ছুঁয়ে ফেললেন ফুটবল সম্রাট পেলেকে। একমাত্র পেলেরই ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এক ম্যাচে ২ গোলের রেকর্ড ছিল। ছুঁয়ে ফেললেন এমবাপে।
মাঝমাঠে বল ধরা, উইথ বল দৌড়, বল ছাড়া ডামি রানে প্রতিপক্ষের ডিফেন্সকে খানখান করে দেওয়া সব করলেন। পাশে পেলেন গ্রিজম্যান আর পল পোগবাকে।
এক ঝাঁক তারকা ফুটবলারকে স্কোয়াডের বাইরে রেখে প্যারিস থেকে মস্কোর ফ্লাইটে উঠেছিলেন ফ্রান্সের কোচ দেশঁ। সমালোচনাও হয়েছে বিস্তর। কাজানের ম্যাচের পর অন্তত সেই সমালোচনায় জল পড়বে। তারুণ্যে ভরসা রেখেছিলেন দেশঁ। তাঁর ব্রিগেড যোগ্য সম্মান দিল তাঁকে।
আরও একবার ট্রফিহীন হয়ে দেশে ফিরতে হবে লিও মেসিকে। আরও একটা বিশ্বকাপের জন্য প্রহর গুনতে হবে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের।
ফ্রান্স কী করবে বা কতদূর যাবে তা কোনও বিশেষজ্ঞই হলফ করে বলতে পারবেন না। কিন্তু রাশিয়া বিশ্বকাপ মনে রাখবে এমবাপেকে। মনে রাখবে তুখড় গতির ফ্রান্সকে।