
শেষ আপডেট: 14 March 2025 20:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছিয়াশির ফুটবল বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি দিয়েগো মারাদোনার শেষজীবন কেটেছিল অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে, চরম অযত্নে। এতটাই অপরিচ্ছন্ন ঘরে থাকতেন তিনি যেটা কিনা শুয়োরের খোঁয়াড়ের মতো নোংরা। আদালতকক্ষে দাঁড়িয়ে মারোদানার মৃত্যু নিয়ে শুরু হওয়া মামলায় এমনটাই জানালেন তাঁর দুই কন্যার পক্ষের আইনজীবী ফের্নান্দো বার্লান্দো।
২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর। দুনিয়াজুড়ে কোভিডের থাবা জাঁকিয়ে বসেছে। ঠিক তখনই খবর আসে মারাদোনা মারা গিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে জানা যায় হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। কিন্তু কিছুদিন বাদে ঘনাতে শুরু করে জল্পনা, দানা বাঁধে বিতর্ক। মুখ খোলেন চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা নার্স। যিনি দাবি করেন, মৃত্যুর আগে প্রয়াত ফুটবলারের শরীরে বেশ কিছু আশঙ্কার লক্ষণ দেখতে পান তিনি। কিন্তু উপরমহল থেকে নির্দেশ আসে—কোনওভাবেই যেন মারাদোনাকে ঘুম থেকে জাগানো না হয়!
এরপরই চিকিৎসার অবহেলার অভিযোগে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেন মারাদোনার দুই মেয়ে দালমা ও জিয়ানিন্না। আটজনের মধ্যে সাতজনকে দোষী হিসেবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়৷ সম্প্রতি এর বিচার শুরু হয়েছে বুয়েনস আইরেসের সান ইসিদ্রো আদালতে। গতকাল পর্যন্ত মামলার শুনানি চলে। আপাতত আগামি মঙ্গলবার পর্যন্ত বিরতি। তারপর ফের আরম্ভ হবে দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব।
গতকাল প্রথম পর্বের শুনানির শেষ দিন আদালতকক্ষে দাঁড়িয়ে মারাদোনার মেয়েদের দাঁড় করানো আইনজীবী বার্লান্দো অভিযোগ করেন, ২০২০ সালের ১১ নভেম্বর থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত দিয়েগো মারাদোনাকে যে ঘরে রাখা হয়েছিল তা কোনও রোগীর থাকবার উপযুক্ত ছিল না।
উল্লেখ্য, মস্তিষ্কে জটিল অস্ত্রোপচারের পর আর্জেন্টিনার প্রাক্তন ফুটবলারকে বুয়েনস আইরেসের একটি অভিজাত পাড়ার বাসায় নিয়ে আসা হয়৷ ওই ভাড়াবাড়িতেই জীবনের শেষ ক'টা দিন কাটান মারাদোনা। কেমন ছিল সেই ঘর? ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এদিন আদালতে একটি মডেল হাতে ঢোকেন বার্লান্দো। আর তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানান, সেই বাড়ি কোনওমতেই ঘরোয়া হাসপাতালের উপযোগী ছিল না। বাথরুম ছিল এক মিটারের চেয়েও কম প্রশস্ত। নার্সদের রাখা হয়েছিল এতটা দূরে যে, মারাদোনা বিছানায় শুয়ে তাঁদের ডাকলে কেউই কিছু শুনতে পাবেন না। ঘরগুলি ছিল অপরিচ্ছন্ন। এতটাই নোংরা যে, শুয়োরের খোঁয়াড়ও এর চেয়ে পরিষ্কার বলে মনে হয়৷
সূত্রের খবর, মৃত্যুর পেছনে চিকিৎসকদের গাফিলতির অভিযোগ পেলে তাঁদের ৮ থেকে ১৫ পর্যন্ত কারাবাস হতে পারে। তাই রায় ঘোষণার আগে বিচারক সব পক্ষের বক্তব্য শুনবেন। এর জন্য বেশ কয়েক মাস সময়ও লাগতে পারে। আপাতত ঠিক হয়েছে সপ্তাহে দু'দিন (মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার) শুনানি চলবে। আগামিতে সাক্ষ্য দেবেন পুলিশ কর্মকর্তা লুকাস গ্যাব্রিয়েল ও দুই কমিশনার রদ্রিগো বোর্হে ও হাভিয়ের লিওনার্দো মেন্দোজা। মারাদোনার মৃত্যুর দিন তাঁরাই সবার আগে ওই বাড়িতে ঢুকেছিলেন। ফলে তাঁদের বয়ানের উপর মামলার ফয়সালার অনেক কিছু নির্ভর করছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।