
লুকা মদ্রিচ।
শেষ আপডেট: 26 June 2024 18:54
লুকা মদ্রিচ। এক লড়াইয়ের নাম। তিনি বারবার নিজের ইতিহাস নিজে লিখেছেন। চোখের সামনে দাদুর মৃত্যু দেখেছেন। সকালে দাদুর হাত ধরে বেড়াতে বেরিয়েছিল ছোট্ট লুকা। আততায়ীরা বুলেটে ঝাঁঝরা করে দেয় দাদুর বুক। চোখের সামনে ওই দেখে পালিয়ে বাড়িতে খবর দিয়েছিল লুকা।
এই যার কলজে, সেই ফুটবলারের বিদায় কী করে এত করুণ হতে পারে! তিনি তো সিংহহৃদয়ের ফুটবলার। ইতালির কাছে হারল তাঁর দল শেষ মুহূর্তে। ম্যাচে একটি পেনাল্টি মিস করেছিলেন। সেই ব্যর্থতা ঢেকে দুরন্ত গোলে দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন। মদ্রিচের গোলের পরে দৌড় দেখে মনে হচ্ছিল মুক্তির আনন্দে ভেসে যাচ্ছেন।
কে বলবে তাঁর বয়স ৩৮, যেন কোনও তরুণের উচ্ছ্বাস। সতীর্থদের কাঁধে চেপে গ্যালারিতে হাত নাড়ছিলেন। হয়তো খুঁজছিলেন মা রাদোজকাকে, যিনি একটা সময় কার পার্কে লুকার গোলকিপার থাকতেন। ছেলে সমানে বলে শট মারছেন, আর মা লিসিয়া বল আগলাচ্ছেন। ধনীদের গাড়িতে যাতে বল না লাগে, ছেলেকে যেন বকুনি খেতে না হয়, সেইজন্য গোলের নিচে (দুটি গাড়ির ফাঁকা অঞ্চল) অতন্দ্র প্রহরী থাকতেন।
সেই আনন্দ আর বজায় থাকেনি। ঘড়ির কাঁটা যখন খেলা শেষের দিকে যাচ্ছে, সেইসময় দেখা গিয়েছে লুকার অস্থির দৃষ্টি, তার আগে তাঁকে কোচ মাঠ থেকে তুলে নিয়েছেন। রিজার্ভ বেঞ্চের সামনে লুকা যেন কোচের ভূমিকায়। সমানে নির্দেশ দিচ্ছিলেন সতীর্থদের।
যে ভয়টা পাচ্ছিলেন, সেটাই হল। ম্যাচের ইনজুরি টাইমে ইতালির গোলে লুকার স্বপ্নের ইতি। ইউরো কাপ থেকে বিদায় হয়ে গেল ক্রোয়েশিয়ার। সেই দলের সুপারস্টার দলের সকলের অভিজ্ঞ তারকার চোখে জল, একরাশ শূন্যতা গ্রাস করেছে। লুকা বারবার ট্রফির সামনে থেকে ফিরেছেন। ২০১৮ সালে বিশ্বকাপের ফাইনালে হার। ২০২২ সালে সেমিতে বিদায়।
চলতি ইউরো কাপে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। ইতালির বিরুদ্ধে ৯৭ মিনিট পর্যন্ত মদ্রিচের গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল তারা। পরের রাউন্ডে যেতে এই ম্যাচ জিততেই হত তাদের। কিন্তু ৯৮ মিনিটে জ্যাকাগনির গোলে ড্র করে স্বপ্নভঙ্গ হয় মদ্রিচদের।
খেলা শেষে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন লুকা। তিনি কাঁদতে পারেন অজানা ছিল ফুটবল দুনিয়ার। সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘‘ফুটবল আজ আমাদের প্রতি নির্দয় আচরণ করেছে, এটা অমানবিক। এই ড্র আমাদের কাছে হারের সামিল। আমি দেখেছি ঈশ্বর আমাদের দেখে বারবার বিমুখ হন।’’