দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্মরণীয় রাত চ্যাম্পিয়ন্স লিগের (Champions League)। একদিকে দারুণ জয় তুলে নিল সালাহদের লিভারপুল (Liverpool)। অন্য ম্যাচে, মেসি-নেমার যুগলবন্দীতে পিছিয়ে পড়ে জয় তুলে নিল প্যারিস স্য জ্যঁ (PSG)।
অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কোচ দিয়েগো সিমোনে বারবার বলেছিলেন, দুই দলের মধ্যে পট পরিবর্তন করে দিতে পারে মহম্মদ সালাহ। সেই হিসেবেই সালাহর জোড়া গোলে লিভারপুল ৩-২ গোলে হারিয়েছে অ্যাটলেটিকোকে।
মেসি-নেমার একসঙ্গে খেলবেন, কিন্তু ঝলকানি থাকবে না, তা কী হয়, হয়ওনি। দুই মহাতারকার দাপটে পিএসজি ৩-২ গোলে হারিয়েছে লাইপজিগকে। জুলিয়ান ড্রাক্সলারের কাছ থেকে বল পেয়ে ডি বক্সের বাইরে থেকেই নেয়া দারুণ শটে দলকে এগিয়ে নেন এমবাপে।
এমবাপের গোলের পরে খেলা থেকে হারিয়ে যায় পিএসজি। খেলতে থাকে ছন্নছাড়া ফুটবল। মেসিও সেইসময় ছিলেন নিস্প্রভ। সেই সুযোগটা লুফে নেয় লাইপজিগ। ২৭ মিনিটে ক্লাবটির পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড আন্দ্রে সিলভা বাঁ-প্রান্ত থেকে আসা অ্যাঞ্জেলিনোর মাটি ঘেঁষা ক্রস দারুণ প্লেসমেন্টে জড়ান জালে।
বাঁ-প্রান্ত থেকে সেই অ্যাঞ্জেলিনোর ক্রস, তবে বল এল উড়ে। উড়ন্ত সেই বলকে জালে পাঠানোর কাজটি করলেন মুকিয়েলে। ৫৭ মিনিটে ভলিতে পিএসজি গোলরক্ষক কেইলর নাভাসকে পরাস্ত করেন এই ফরাসি ডিফেন্ডার।
২-১ গোলে পিছিয়ে পড়া অবস্থায় যেন মেসি জেগে উঠলেন। ৬৭ মিনিটে তিনি গোল করেছিলেন। এমবাপের সঙ্গে পাস খেলে দলকে সমতা ফেরান। তারপর আরও একটি গোল করেন মেসি, সেটি পেনাল্টি থেকে। প্যারিসের দলটির পক্ষে শেষ গোলটি আসে এমবাপের পাস থেকে।
গ্রুপ বি-র এই ম্যাচটি দারুণ টানটানভাবে শেষ হয়েছে। শুরু থেকেই মেজাজে শুরু করেছিল লিভারপুল। খেলার আট মিনিটে সালাহের গোলে এগিয়ে যায় লিভারপুল। টানা নয় ম্যাচে নয়টি গোল করলেন মিশরের তারকা।
১৩ মিনিটে চোখ ধাঁধানো ভলিতে লিভারপুলের ব্যবধান দ্বিগুন করেন নাবি কেইটা। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে অ্যাটলেটিকোর ম্যাচে ফিরে আসার লড়াই শুরু হয়। ২০ মিনিটে অ্যাটলেটিকোর কর্ণার থেকে কোনক্রমে বক্সের বাইরে থাকা কোকের কাছে বল চলে আসে। তাঁর শট গ্রিজম্যানের পায়ের আলতো ছোঁয়া লেগে লিভারপুলের জালে জড়িয়ে যায়।
এরপর জাও ফেলিক্স ও গ্রিজম্যানের যুগলবন্দিতে ৩৪ মিনিটে ম্যাচে সমতায় ফেরে স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা। ফেলিক্স প্রায় তিন ডিফেন্ডারকে দারুণ স্কিলে পরাস্ত করে গ্রিজম্যানকে বল পাস করেন।
ফরাসি তারকা ভার্জিল ভ্যান ডাইককে প্রায় মাটি ধরিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। দ্বিতীয়ার্ধে ৫২ মিনিটে গ্রিজম্যানের হাই ফুট ফির্মিনোকে আহত করার পর গ্রিজম্যান লাল কার্ড দেখেন। তবে অ্যাটলেটিকো ১০ জন নিয়েও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল, ভাল আক্রমণও গড়ে তোলে দিয়েগো সিমিওনের দল।
ম্যাচের ৭৬ মিনিটে অবশ্য পেনাল্টি বক্সে মারিও হার্মোসোর দিয়োগো জোটাকে করা এক বাজে ফাউলে পেনাল্টি পায় লিভারপুল। গোল করতে কোনরকম ভুল করেননি সালাহ। তবে এরপরেই দমে না গিয়ে আক্রমণ শানায় অ্যাটলেটিকো। লিভারপুল এগিয়ে যাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গেই জোটার ফাউল থেকে পেনাল্টিও আদায় করে নেয় তারা। তবে রেফারি ভিএআরের সহায়তায় সিদ্ধান্ত বদল করেন।
দ্বিতীয়ার্ধে আর কোন গোল না হওয়ায় এক দুর্দান্ত ম্যাচ জিতে নেয় লিভারপুল। দ্বিতীয়ার্ধে অ্যালিসন বেশ কিছু ভাল সেভ করেন। এই জয়ের ফলে লিভারপুল গ্রুপে তিন ম্যাচ জিতে শীর্ষে রয়েছে।
পাশাপাশি তিনি স্টিভেন জেরার্ডকে টপকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে লিভারপুলের সর্বোচ্চ গোলদাতা (৩১) হয়ে যান। অপরদিকে, এসি মিলানকে ১-০ গোলে হারিয়ে অ্যাটলেটিকোর ওপর চাপ বাড়ায় পোর্তো।