
শেষ আপডেট: 22 November 2023 17:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা ম্যাচ মানেই উত্তেজনা। তাও আবার এমন একটি মাঠে, যে মাঠটিকে ব্রাজিল ফুটবলের তীর্থক্ষেত্র বলা যায়। রিও ডি জেনেইরোর মারাকানা স্টেডিয়ামে ৭০ হাজার দর্শকের সামনে ঘরের মাঠে হার মেনেছে ব্রাজিল। নিকোলাস ওটামেন্ডির গোলে জয় পায় আর্জেন্টিনা।
ম্যাচটিতে ফলের থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গিয়েছে নজিরবিহীন বিতর্ক। গ্যালারিতে ঝামেলায় জড়ালেন দুই দলের সমথর্করা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছুটে আসে পুলিশ। ফলে দুইপক্ষের হাতিহাতি রূপ নেয় ত্রিমুখী সংঘর্ষে।
উত্তপ্ত গ্যালারিকে শান্ত করতে দলবল নিয়ে ছুটে গিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নিজ দেশের সমর্থকদের বাঁচাতে ব্রাজিল সমর্থকদের দিকে তেড়ে যাচ্ছেন আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজও। এমনকী এই ঘটনার প্রতিবাদে মাঠ ছেড়ে চলে যায় আর্জেন্টিনা।
এ ঘটনার কারণে নির্দিষ্ট সময়ের আধঘণ্টা পর খেলা শুরু হয়। মাঠেও কয়েক দফা সংঘর্ষে জড়ান দু’দলের খেলোয়াড়রা। যে কারণে লালকার্ডও দেখতে হয়েছিল ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড জোয়েলিন্টনকে।
ম্যাচ শেষে গ্যালারির সংঘর্ষ নিয়ে মেসি সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘‘নিশ্চিতভাবেই খুব খারাপ কাজ হল। দর্শকদের ব্রাজিল পুলিশ কিভাবে পিটিয়েছে, সেটা আমরা দেখেছি। লিবার্তোদোরেসের (লাতিন আমেরিকার মহাদেশীয় টুর্নামেন্ট) ফাইনালেও এমন হয়েছিল, এখন আবারও পেটানো হল। সেইসময় গ্যালারিতে আমাদের ফুটবলারদের পরিবারও ছিল। এটা মনে রাখা উচিত, সকলের আগে পরিবার। যখন তারা আক্রান্ত হয়, সেইসময় খেলার বাকি সবকিছু গুরুত্বহীন পড়ে।’’
আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় স্পোর্টস অনলাইন টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, ম্যাচ শুরুর আগে আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা জাতীয় সঙ্গীত গাইছিলেন। তখনই গ্যালারিতে ব্রাজিল পুলিশ আর্জেন্টিনার সমর্থকদের ওপর লাঠি চার্জ করে। তখন আর্জেন্টিনা সমর্থকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে চেয়ার ছুড়ে মারে। এতে সংঘর্ষ আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। তবে ম্যাচের কর্মকর্তা, ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন ও নিরাপত্তাকর্মীদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় স্বাভাবিক হয় পরিস্থিতি। ফলে সংশয় কেটে যায়।
এই ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা ছিল ভারতীয় সময়ে বুধবার ভোর ছ'টায়। ঝামেলার জেরে ম্যাচটি শুরু হয় আধ ঘণ্টা দেরিতে। গ্যালারিতে দাঙ্গা হওয়ার পরেও ম্যাচের ফলে খুশি বিশ্বজয়ী অধিনায়ক মেসি। তিনি জানিয়েছেন, ‘‘আমাদের এই দলটা ঐতিহাসিক সবকিছুই অর্জন করেছে। ব্রাজিলের মাঠে তাদের হারানো সহজ কাজ নয়। তাদের ইতিহাস সেই কথাই বলছে। আমরা এই ফলে গর্বিত।’’
খেলার ৬৩ মিনিটে নিকোলাস ওটামেন্ডির গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্তিনা। এর পর আর গোলশোধ করতে পারেনি ব্রাজিল। ম্যাচের ৮১ মিনিট জোয়েলিনটন লালকার্ড দেখার পরে ১০ জনের ব্রাজিল আর চেষ্টা করেও ম্যাচে ফিরতে পারেনি। কোয়ালিফায়ারে টানা তৃতীয় ম্যাচে হেরে মাঠ ছাড়ল ব্রাজিল। ৬ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ শীর্ষে রয়েছে মেসিরা। নেমারহীন ব্রাজিল টানা তিন ম্যাচ হেরে তালিকায় ছয়ে নেমে গিয়েছে।