দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁকে এতোটা কোনওদিন উচ্ছ্বসিত হতে কি দেখা গিয়েছে? মনে হয় নয়, কারণ এতদিন ধরে আক্ষেপ বুকের মধ্যে নিয়ে ঘুরেছেন। একটা সময় এই কোপার আসর থেকে বিদায়ের পরে তিনি অবসরই নিয়ে ফেলেছিলেন।
আর্জেন্টিনা প্রেসিডেন্টের ডাকে ফের অবসর ভেঙে ফিরে এসেছিলেন। আবারও গায়ে চাপিয়েছিলেন জাতীয় দলের জার্সি।
ভাগ্যিস গায়ে চাপিয়েছিলেন, না হলে মারাকানার এই রাত তাঁর আর দেখা হতো না। তিনি সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সেরা ফুটবলার হলেন।
https://twitter.com/thefield_in/status/1414046719436677122
লিওনেল মেসির অবশেষে শাপমোচন হল। সেই কারণেই হয়তো নেমার খেলা শেষে তাঁকে জড়িয়ে ধরে বলেছেন, বন্ধু রে, এই কাপটা তোকেই মানায়। মেসিকে আলিঙ্গন করেছেন বহুক্ষণ ধরে, কতটা আবেগ থাকলে এমন করা যেতে পারে।
https://twitter.com/thefield_in/status/1414047002480971779
ঐতিহাসিক ফাইনাল ম্যাচে মেসি গোলও করতে পারতেন। শেষমুহূর্তে গোল না মিস করলে তাঁর নামের পাশেও গোল থাকত। যদিও ডি’মারিয়ার গোলেই খেলা শেষে মেসির মুখে হাসি।
কি নিদারুণ চাপ তাঁকে সহ্য করতে হয়েছে সারা জীবন ধরে। বারবার ফাইনালে গিয়ে হার, সেই কারণেই যে কোনও ফাইনালের আগে চাপ থাকত তাঁর। এবারও ছিল, কিন্তু সতীর্থরা দলের নায়কের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে গিয়েছেন। তাই মেসি খেলা শেষে সব সতীর্থকে আলিঙ্গন করছিলেন।
https://twitter.com/mohanstatsman/status/1414057483069394951
খেলা শেষ হতেই তিনি যেভাবে মুখ চেপে উচ্ছ্বাস দেখিয়েছেন, তাতে করে তিনি নিজেও বিশ্বাস করতে পারছিলেন না, কী ঘটে গিয়েছে। এত বছরের ফুটবল জীবনে দেশের হয়ে ট্রফি ছিল না, সেই নিয়ে আক্ষেপ এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল, তিনি এবার হয়তো অবসরই নিয়ে ফেলতেন।
এদিকে ব্রাজিলের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচটি খেলতে নেমেই রেকর্ড গড়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। কোপা আমেরিকার ইতিহাসে এখন সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা ফুটবলারের নাম লিওনেল মেসি। চলতি আসরের ফাইনালসহ মোট ৩৪টি ম্যাচ খেললেন তিনি। তবে এ রেকর্ডে মেসি একা নন। ১৯৫৩ সালের চিলির গোলরক্ষক সার্জিও লিভিংস্টোন ঠিক ৩৪ ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়ে গেছেন। সে রেকর্ডেই এখন ভাগ বসালেন মেসি এবং হয়ে গেলেন কোপা আমেরিকায় সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা ফুটবলার।