
নাক ভেঙে ঘোর বিপাকে পড়লেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। (ছবিঃ রয়টার্স)
শেষ আপডেট: 18 June 2024 15:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একেই বলে গোদের ওপর বিষফোঁড়া!
একে শুরু থেকেই গ্রুপ ডি-কে বলা হচ্ছিল 'গ্রুপ অফ ডেথ'। ফ্রান্সের সঙ্গে এই গ্রুপে রয়েছে নেদারল্যান্ডস, রবার্ট লেওয়ানডস্কির পোল্যান্ড, সঙ্গে অস্ট্রিয়া। তার ওপর প্রথম ম্যাচেই নাক ভেঙে বেজায় বিপাকে পড়লেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে।
ইউরো ২০২৪ শুরু হওয়ার আগে থেকেই গ্রুপ ডি-এর ম্যাচ নিয়ে ফুটবল-মহলে উত্তেজনা তুঙ্গে ছিল। অনেকেই সোজা সমীকরণে তিন দুই পাঁচ করে ভেবেছিলেন, ফ্রান্স-নেদারল্যান্ডস নিয়েই যা উত্তেজনা থাকার থাকবে, পোল্যান্ড বা অস্ট্রিয়াকে নিয়ে এত চাপ নেওয়ার কিছু নেই। অথচ প্রথম ম্যাচে লেওয়ানডস্কিকে ছাড়াই পোলরা ডাচদের হাঁফ ধরিয়ে ছেড়েছে। তেকাঠির নিচে অতন্দ্র পাহারায় ছিলেন জুভেন্তাস গোলকিপার ভয়চেক সেজনি। এদিকে অস্ট্রিয়ার কোচ হিসেবে এবারে এসেছেন র্যালফ র্যাংনিক। ধুরন্ধর জার্মান ফুটবলমস্তিষ্ক র্যাংনিক ফুটবল দুনিয়ায় বিশ্ববিখ্যাত 'গেগেনপ্রেসিং' কায়দার আবিষ্কর্তা হিসেবে রীতিমত বিপক্ষে কাঁপন ধরাতে পারেন। টমাস টুখেল, জুলিয়ান নাগেলসমানের মত অনেকেই র্যাংনিককে গুরু মানেন। শুরুর ম্যাচেই অতএব অস্ট্রিয়া আদাজল খেয়ে নেমেছিল। সারা ম্যাচ জুড়ে ফরাসিদের কার্যত নড়াচড়াই করতে দেয়নি অস্ট্রিয়া। দ্রুত প্রতি-আক্রমণ, শারীরিক ফুটবল, বিদ্যুৎ গতিতে রক্ষণে নেমে আসা--একেবারে ধ্রুপদী 'গেগেনপ্রেসিং'-এর যাবতীয় মশলা নিয়েই নেমেছিলেন র্যাংনিক।
ডুসেলডর্ফে অস্ট্রিয়ার প্রথম প্রতিপক্ষ যদি ফ্রান্স হয়, তাহলে পরিসংখ্যান তাদের পক্ষেও আছে। গত ১৬ ম্যাচের মাত্র একটিতে হেরেছে অস্ট্রিয়া। এদিকে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মাথায় চোট পান আঁতোয়া গ্রিজমান। কিন্তু সব হিসেবে গোলমাল হয়ে যায় শেষে। হেড দিতে গিয়ে অস্ট্রিয়ার ডিফেন্ডার কেভিন ডান্সোর কাঁধে আছড়ে পড়েন বিশ্বকাপে সোনার বুট জেতা ফরাসি স্ট্রাইকার এমবাপ্পে। নাক চেপে বসে পড়তে দেখা যায় তাঁকে। রক্তে ভিজে যায় জার্সি। ম্যাচের পরে অ্যাম্বুল্যান্সে করে মাঠ ছাড়েন এমবাপ্পে। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। ছুটে যান ফরাসি দলের ডাক্তার ফ্রাঙ্ক লে গল। ফরে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, নাকের হাড়ে 'ফ্র্যাকচার' হয়েছে। অর্থাৎ, নাক ভেঙেছে ২৫ বছরের মহাতারকার। আঘাত গুরুতর।
উদ্বিগ্ন ফ্রান্সের বিশ্বজয়ী কোচ দিদিয়ের দেশঁ। কোনও লুকোছাপায় না গিয়ে বলে দিয়েছেন, 'ওর (এমবাপ্পে) অবস্থা ভাল নয়। আমাদের মেডিক্যাল দলের সদস্যরা দেখছেন সবটা। আমার কাছে প্রচুর প্রশ্ন আসছে। কিন্তু এর বেশি আমিও জানি না। কিন্তু ওর নাকে বেশ ভাল রকম আঘাত লেগেছে। এটা নিশ্চিত। আমাদের দেখতে হবে শেষ অবধি অবস্থা গিয়ে কী দাঁড়ায়। কিন্তু আমাদের জন্য কাজটা সত্যিই কঠিন হয়ে গেল।'
আপাতত প্রাথমিকভাবে ফরাসি সংবাদমাধ্যমে যা খবর, এমবাপ্পের নাকে এখনই অস্ত্রোপচার করার দরকার নেই। বরং বিশেষ ভাবে নির্মিত মাস্ক পরে খেলতে পারেন তিনি। সামনে নেদারল্যান্ডস ম্যাচ। এমনিতেই ওই ম্যাচ ঘিরে উন্মাদনা তুঙ্গে। এত বড় লড়াইয়ের আগে দলের সেরা অস্ত্রের এই চোটে কার্যত দিশেহারা হয়ে গিয়েছে ফরাসি শিবির। একান্তই এমবাপ্পে খেলতে না পারলে সম্ভবত অলিভিয়ের জিহুকে নামাতে পারেন দেশঁ। কিন্তু সবটাই নির্ভর করছে চিকিৎসকদের ওপর।