দ্য ওয়াল ব্যুরো: এমন হয়তো দুঃস্বপ্নেও হয় না, কিংবা কোনও চিত্রনাট্যকার এমন গল্প লিখতে গিয়ে হাজারবার ভাববেন। ঠিক সেই ঘটনাই বাস্তবজীবনে ঘটেছে প্যারালিম্পিয়ান (Paralympian) কৃষ্ণ নাগরের (Krishna Nagar) ক্ষেত্রে।
যেদিন তিনি রাষ্ট্রপতি (President) রামনাথ কোবিন্দের (Ram Nath Kovind) থেকে খেলরত্ন পুরস্কার গ্রহণ করছেন, তার কিছুক্ষণ আগেই তাঁর মা পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছেন। তাঁকে বাড়ি থেকে সেই খবর দেওয়া হয়নি। তিনি হাসিমুখে রাষ্ট্রপতির হাত থেকে বিরল সম্মান নিয়েছেন।
২২ বছর বয়সী ব্যাডমিন্টন তারকা টোকিও প্যারালিম্পিক্সে সোনা জেতেন। শনিবার রাষ্ট্রপতি ভবনে ১১ জন বাকি ক্রীড়াবিদের সঙ্গে তাঁকেও খেলরত্ন পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কার নিয়ে জয়পুরে নিজের বাড়ি পৌঁছেই তিনি তাঁর মায়ের মৃত্যুর বিষয়ে জানতে পারেন।
কৃষ্ণের মা ছাদ থেকে পড়ে যান অতর্কিতেই। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়, পুত্র সেটি জানতেন। কিন্তু মা চিরবিদায় নেবেন, ভাবতে পারেননি। তাই বাড়ি পৌঁছে অঝোরে কেঁদে চলেছেন। এত বড় সম্মান মা-কে দেখাতে পারলেন না।
কৃষ্ণ রবিবার বলেন, ‘‘১০ নভেম্বর আমি পুরস্কার নিতে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেবার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। তখন দুপুর ১২-১২.৩০ হবে, আমি মাকে খাবার তৈরি করতে বলি। বাবাও সেই সময় বাড়ি চলে এসেছিল। এরপর স্নান করে বেরিয়ে আমি তোয়ালে শুকাচ্ছিলাম এবং তখনই একটা বিকট আওয়াজ পাই। আমি দেখতে পাই মা আমাদের ছাদ থেকে একতলায় পড়ে গিয়েছেন। মাকে আমরা সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে আইসিইউতে ভর্তি করি।’’
মাত্র ৫৯ বছর বয়স হয়েছিল কৃষ্ণের মায়ের। চিকিৎসকরা পুত্রকে ভরসা দিয়েছিলেন। জোর করেই তাঁকে পাঠানো হয় দিল্লিতে। কিন্তু বাড়ি ফিরে এমন খবর শুনতে হবে, কল্পনাই করতে পারেননি ব্যাডমিন্টন তারকা। কৃষ্ণ বলছেন, ‘‘আমার এই আক্ষেপ যাবে না কোনওদিনই। হয়তো আমি থাকলে মা চলে যেত না। নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে।’’
যদিও চিকিৎসকরা বলেছেন, কৃষ্ণের মা-র শরীরে রক্ত জমাট বেঁধে গিয়েছিল, তাঁর জ্ঞানই ছিল না ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে।