
কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম সানরাইজার্স হায়দরাবাদ
শেষ আপডেট: 3 April 2025 15:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মরশুম বদলায়। আর ফ্র্যাঞ্চাইজিদের ভাগ্যচক্রও পাল্টে যেতে থাকে। আইপিএলের প্রতিটি সিজনই প্রত্যাশার ঊর্ধে অনেক প্রশ্ন, অনেক বিস্ময়ের জন্ম দেয়। যার হাতেগরম প্রমাণ কলকাতা নাইট রাইডার্স ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। গত বছরের ফাইনালিস্ট দুই দল। অথচ এবার লিগ টেবিলে যথাক্রমে দশ ও আট নম্বরে ধুঁকছে।
যতই পিচের উপর নজর ঘুরিয়ে কিউরেটরের ঘাড়ে সমস্ত দায় ঠেলা হোক না কেন, চলতি আইপিএলে কেকেআরের বিপর্যয়ের ‘কারণ’ ঘরের মাঠের পছন্দসই উইকেট না পাওয়া হতেই পারে না! অন্তত, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান ও বিশ্লেষণ তাই বলছে৷ যার অন্যতম হচ্ছে ‘পাওয়ারপ্লে’।
গত মরশুমে হায়দরাবাদ ও কলকাতা—দুই শিবিরকে অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছিল তাদের ওপেনিং জুটি। সানরাইজার্স টিম পাওয়ারপ্লে-তে আইপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান করে। দিল্লির বিরুদ্ধে৷ গত বছর তাদের তোলা ১২৫ রান এখনও পর্যন্ত রেকর্ড। পরের র্যাঙ্কও হায়দরাবাদেরই। লখনউয়ের বিরুদ্ধে ১০৭ রান করেছিল সানরাইজার্সের ওপেনিং জুটি। পাওয়ারপ্লে-তে ১০৫ রান তুলে (বিপক্ষ আরসিবি, ২০১৭) তালিকায় তিনে কেকেআর।
২০২২ সালে ১৪ টি ম্যাচে আলাদা আলাদা জুটিকে বেছেছিল কলকাতার টিম ম্যানেজমেন্ট। ওপেন কারা করবেন, তাই নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। গত বছর সুনীলকে পাকাপাকিভাবে ইনিংস শুরুর দায়িত্ব দিয়ে দুর্ভাবনা দূর করেছিলেন গম্ভীর৷ ফিল সল্ট এবার বেঙ্গালুরুতে৷ তাই ডি কককে নারিনের সঙ্গী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই বিস্ফোরক পার্টনারশিপ আপাতত উধাও৷ প্রথম ম্যাচে ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার ৪৪ রান এবং রাজস্থানের বিরুদ্ধে ডি কক ৯৭ রান করলেও পাওয়ারপ্লে-তে তিনটি ম্যাচেই ঝড়ের গতিতে রান তুলতে ব্যর্থ নাইট রাইডার্স। ৬০/১, ৪০/০ এবং ৪১/৪—এই হচ্ছে প্রথম তিন ম্যাচে পাওয়ারপ্লে পারফরম্যান্স!
অথচ গত বছর ছবিটা একদম অন্য রকম ছিল। শুধু ওপেনারদের কেরামতি নয়, মিডল অর্ডারও এতখানি ধারাবাহিক ছিল যে, তথাকথিত ‘ফিনিশার'দের উপর কেকেআরকে ভরসা রাখতেই হয়নি। রিঙ্কু সিংয়ের মতো উদীয়মান তারকা, যিনি ঝোড় গতিতে রান তুলতে ইনিংসের শেষের দিকে নামেন, তিনি পর্যন্ত খেলেছেন মোটে ১১৩টি বল।
হায়দরাবাদেরও একই দুর্দশা। প্রথম ম্যাচে ৯৪/১ হলেও পরের দু'ম্যাচে ধুঁকতে ধুঁকতে ৬২/২ এবং ৫৮/৪ তুলেছে। প্রথম ছ'ওভারে কেকেআর খুইয়েছে ৫ উইকেট। হায়দরাবাদ ৭ উইকেট, যা চলতি আইপিএলের প্রেক্ষিতে সর্বোচ্চ৷
ব্যাটারদের মতো বোলাররাও পাওয়ারপ্লে-তে দুর্ভোগ বাড়িয়েছেন। তিন ম্যাচ মিলিয়ে প্রথম ছ'ওভারে কেকেআরের বোলাররা তুলেছেন মোটে ২ উইকেট। দিয়েছেন যথাক্রমে ৮০, ৫৪ এবং ৬৫ রান৷ হায়দরাবাদের বোলাররা ৪ উইকেট দখল করলেও একইরকমভাবে দেদারে রান বিলিয়েছেন।
ফলে আজকের লড়াইয়ের কাঁটা প্রথম ছ'ওভারেই যে কোনও দিকে হেলে যেতে পারে। যে দল পাওয়ারপ্লে-তে ভাল খেলবে তারাই জেতার দিকে এগিয়ে যাবে। মত বিশ্লেষকদের।