
সুজন মুখার্জি
শেষ আপডেট: 10 April 2025 16:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এতদিন লড়াইটা ছিল কেকেআর বনাম পিচ কিউরেটর সুজন মুখার্জির। এবার সেটাই কেকেআর বনাম সিএবি-তে দাঁড়াল।
গত মঙ্গলবার ইডেনে কলকাতা বনাম লখনউ ম্যাচে শেষ হাসি হেসেছেন ঋষভ পন্থরা। কিন্তু অজিঙ্ক রাহানের মুখের হাসি মিলিয়েছে। পাশাপাশি তোপও দেগেছেন নাইট অধিনায়ক। পিচ প্রস্তুতকারক সুজন মুখার্জিকে একহাত নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের কিউরেটর যথেচ্ছ প্রচার পেয়েছেন। মনে হয়, তিনি তাতে সন্তুষ্ট। আপনারা (সাংবাদিক) এই হোম অ্যাডেভান্টেজ নিয়ে যা খুশি লিখতে পারেন।‘
অন্যদিকে আরেক ধাপ এগিয়েছেন কেকেআরের আরেক আধিকারিক। যিনি সিএবি-র এক কর্তার সঙ্গে আলাপচারিতায় রসিকতার সুরে মন্তব্য করেন, ‘সিএবি নিশ্চয় কেকেআরের পরাজয়ে খুশিই হয়েছে। পিচ প্রস্তুতকারককে ম্যান অফ দ্য ম্যাচের খেতাব দেওয়া প্রয়োজন।‘
প্রসঙ্গত, চলতি আইপিএলের গোড়া থেকেই ইডেনের পিচ নিয়ে কিউরেটর সুজন মুখার্জি ও নাইট শিবিরের আকচাআকচি শুরু হয়। একদিকে দলের বায়নাক্কা: স্পিনার-বান্ধব উইকেট চাই। কারণ টিম লিস্টে জ্বলজ্বল করছে সুনীল নারিন, বরুণ স্পিনারের মতো রহস্য স্পিনারদের নাম৷ অন্যদিকে পিচ প্রস্তুতকারকের সাফ দাবি: পিচে যথেষ্ট ঘূর্ণি রয়েছে। বোলাররাই তার ফায়দা নিতে পারছেন না। সুতরাং, তিনি অতিরিক্ত কিছু করতে অপারগ। তাতে কে কী বলল কিছু এসে যায় না। এই নিয়ে একমাত্র বিসিসিআইয়ের কাছেই জবাবদিহি করবেন, অন্য কারও কাছে নয়৷
ঘটনার সূত্রপাত আরসিবি ম্যাচের পর। অজিঙ্ক রাহানে লড়াই হেরে দাবি করেন, হোম টিম হিসেবে তাঁরা আগামি দিনে আরও বেশি করে স্পিনার-বান্ধব উইকেট চান। এর কারণ, স্পিনাররাই দলের আসল শক্তি। জবাবে সুজন পাল্টা দাবি তোলেন, ইডেনের পিচে বল ঘোরার যথেষ্ট মালমশলা মজুত ছিল। নাইট বোলাররাই এর ফায়দা নিতে পারেননি। পাশাপাশি ব্যাটসম্যানরা একের পর এক ভুল শট নির্বাচন করে আউট হয়েছেন।
চলতি বিতর্কে যোগ দেন প্রাক্তন নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটার সাইমন ডাউল ও ধারাভাষ্যকার হর্ষ ভোগলে। দুজনে একযোগে দাবি তোলেন, পিচ কিউরেটরের উচিত হোম টিমের স্বার্থ দেখা। খেলা নিয়ে পরামর্শ দেওয়া বা বিশ্লেষণ করা তাঁর কাজ নয়। সেজন্য তিনি মাইনেও পান না। আগামি দিনে পরিস্থিতি না বদলালে কেকেআরের উচিত তাদের শিবির কলকাতা থেকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া। একধাপ এগিয়ে এমন দাবিও তুলেছিলেন সাইমন।
যদিও এতকিছুর মধ্যেও নিজের তত্ত্বে অনড় ছিলেন সুজন৷ যার ব্যাখ্যায় সামনে তুলে ধরেন বিসিসিআইয়ের গাইডলাইন। পাতা উল্টে জানান: আইপিএলের পিচ নিয়ে শেষ কথা বলবেন বোর্ডের চিফ কিউরেটর। কিন্তু তাঁর ভূমিকা পরামর্শদাতার। আসল কাজের কাজ করেন দুজন—বিসিসিআইয়ের ভেন্যু কিউরেটর ও হোম টিমের চিফ কিউরেটর। তাঁরাই এযাবৎ পিচ নিয়ে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিয়ে এসেছেন। শুধু আইপিএল নয়, ঘরোয়া ক্রিকেটেরও সমস্ত ম্যাচ, প্র্যাকটিস ম্যাচের পিচও এই তিনজনের নির্দেশেই তৈরি হয়ে থাকে৷
এর পাশাপাশি কেকেআর শিবিরকে বিঁধে সুজনের ইঙ্গিতপূর্ণ সংযোজন ছিল: ‘ওই গাইডলাইনে একথা স্পষ্ট লেখা আছে যে, কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজি কিংবা কোনও খেলোয়াড় পিচ তৈরিতে সামান্যতম হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। এই নিয়ে মতৈক্য দেখা দিলে বিসিসিআইয়ের প্রধান কিউরেটর শেষ সিদ্ধান্ত নেবেন।’
যদিও চলতি বিতর্কের জেরে উৎসাহ কিংবা উচাটন—কোনওটাই দানা বাঁধেনি তাঁর মনে৷ সাফ জানান সুজন৷ বলেন, ‘সাইমন বা হর্ষ আমার নামে কী বলল তাতে কিছু এসে যায় না। শুধু দর্শক ও অ্যাসোসিয়েশনের বক্তব্যকেই গুরুত্ব দেব৷ আমি শুধুমাত্র বিসিসিআইয়ের কাছেই ভাল স্পোটিং উইকেট তৈরির জন্য দায়বদ্ধ।’
নাইট-অনুরাগীদের একটা বড় অংশ চলতি বিতর্কে সুজনের সমালোচনায় সরব হন। এই নিয়ে খেদ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি সোশ্যাল মিডিয়া ফলো করি না। কিন্তু আমার নামে যা কিছু বলা হয়েছে, সবই কানে এসেছে। এতে কষ্ট পেয়েছি। আমি সবসময় এমন স্পোর্টিং ট্র্যাক বানাতে চেয়েছি যেখান থেকে ব্যাটসম্যান, স্পিনার, সিমার—সবাই সাহায্য পাবে।’