দ্য ওয়াল ব্যুরো: আহা কী রুদ্ধশ্বাস, টানটান ম্যাচ। ছয় মেরে দলকে আইপিএলের ফাইনালে (IPL Final) তুললেন রাহুল ত্রিপাঠি (Rahul Tripathi)। কেকেআর (KKR) ফাইনালে, সামনে ধোনির (Dhoni) চেন্নাই।
নাইটরা সহজ ম্যাচ কঠিন করে জিতল তিন উইকেট, এক বল আগে থাকতে। এক্ষেত্রে রাহুল নায়ক, ভিলেন হয়ে গেলেন যেন অশ্বিন। তাঁর বলেই সিক্স মেরেছেন ত্রিপাঠি, যেন শারজায় ফিরলেন মিয়াঁদাদ, চেতন শর্মা যেন অশ্বিন! ক্রিকেট সব এমনভাবেই মিলিয়ে দেয়।
দিল্লি ক্যাপিটালস ব্যাটিং করার পরেই বোঝা গিয়েছিল এই ম্যাচ জিতে যাবে কেকেআর। ঠিক সেটাই ঘটল। কিন্তু এভাবে সহজ ম্যাচ যেভাবে কঠিন করে জিতল কেকেআর, তাদের নিয়ে আশঙ্কা থাকছে। দুই ওপেনার ৯৬ রান করে দেওয়ার পরে বাকি ৪০ রান তুলতে কেকেআরের সাত ব্যাটসম্যানকে ব্যাট করতে হয়েছে। আজব একটা ম্যাচ উপহার দিলেন মরগ্যানের বন্ধুরা।
আরও পড়ুন: ফের চমক ধোনির, অ্যাকাডেমি খুললেন দ্রাবিড়, কুম্বলের শহরে
ফাইনালে এম এস ধোনির চেন্নাই সুপার কিংস, পরশু দশমীর দিন ফাইনাল। এদিন কেকেআর মাঠে নেমেছিল জিতবে বলেই। সবদিক থেকে শাহরুখ খানের দল আত্মবিশ্বাসী ছিল। প্রথমে দলের বোলাররা আসল কাজ সেরেছেন। তারপর নাইটদের দলের দুই ওপেনার অর্ধেকের বেশি কাজ সারলেও বাকিরা প্রায় ডোবাচ্ছিলেন।
দিল্লির ১৩৫ রানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে খেলতে নেমে কেকেআরের দুই ওপেনার যেন একাই সব দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছিলেন। ওপেনারদ্বয় শুভমান গিল ও ভেঙ্কটেশ আইয়ার (৪১ বলে ৫৫) দারুণ ইনিংস উপহার দিয়েছেন। গিল উইকেটে টিকে থাকলেও শেষমেশ হাফসেঞ্চুরির পরেই ভেঙ্কটেশ রাবাদার বলে ফিরেছেন।
শেষ রানটুকু তুলতে কেকেআরের বাকি ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হলেও শেষে এসে বাজিমাত রাহুল ত্রিপাঠির। তিনি ছয় মেরে ম্যাচ জিতিয়েছেন। তিনি করেছেন ১১ বলে ১২ রান, কিন্তু ওই রানই শাহরুখের মুখে শেষ রাতে হাসি এনেছে।
দুর্গাপুজো উপলক্ষে উৎসবে মেতে গোটা কলকাতা। আনন্দে মেতেছে প্রত্যেকে। আর মহাষ্টমীর রাতে সেই আনন্দকে আরও দ্বিগুণ করে দিলেন অন্য এই রাহুলই। তাঁর দৌলতেই ম্যাচ জিততে টুইটারে তাঁকে ঘিরে প্রশংসার বন্যা। সবাই লিখছেন, এই রাহুলকে চিনে রাখুন, পরে কাজে আসবে।
শেষ তিন ওভারে দিল্লির দুরন্ত বোলিং শাহরুখের দলের হাত থেকে ম্যাচ প্রায় ছিনিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন অশ্বিনরা। শেষে এক বল বাকি থাকতে ছয় মেরে দলকে ম্যাচ জিতিয়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। যদিও এটাও ঠিক, অশ্বিন, নর্টজে, রাবাদারা শেষ এসে নাইট ব্যাটসম্যানদের ঘুম কেড়ে নিয়েছেন। তাঁদের এই লড়াই কেউ ভুলবে না, অল্প পুঁজি নিয়েও তারা লড়ে গিয়েছে।
শারজায় যেন জাভেদ মিয়াঁদাদের পুনর্জন্ম হল, তিনিও চেতন শর্মার বলে ছয় মেরে জিতিয়েছিলেন। চেতনের কাছে শারজা অভিশপ্ত হয়ে রয়েছে, এবার থাকবে অশ্বিনের কাছেও।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'