দ্য ওয়াল ব্যুরো : এবার আইপিএলে একটা অঘোষিত স্লোগান চালু হতে পারে, টস যার, ম্যাচ তার। আবুধাবিতে প্রথম ম্যাচেই বোঝা গিয়েছিল মরুশহরে ম্যাচ জিততে গেলে প্রথমে ফিল্ডিং করো, তারপর বিপক্ষ যখন শিশিরের সমস্যায় কাত হবে, সেইসময় আরামে জয়ের রান তুলে দাও।
রবিবার দুবাইয়ের ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামেও তাই হয়ে হলো না। ম্যাচ টাই হয়ে গেল। ১৫৭ রানে এসে থেমে গেল পাঞ্জাবের ইনিংস। একেবারে শেষে এসে পারল না পাঞ্জাবের টেল এন্ডাররা। শেষ বলে জর্ডনের ক্যাচ নিয়ে জিতিয়ে দিলেন রাবাদা।
৩৫ রানের মধ্যে পাঞ্জাবের চার উইকেট পড়ে যায়, তারপরেও মায়াঙ্ক আগরওয়াল ও কৃষ্ণাপ্পা গোথাম মিলে যে জুটি গড়েছেন, সেটাই খেলার পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। তার মধ্যে যদিও মায়াঙ্কের ক্যাচ মিস করেছেন পৃথ্বী শ। খেলার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোথামের আউট হওয়াও চাপে ফেলেছিল পাঞ্জাবকে।
কিন্তু যেভাবে মায়াঙ্ক ম্যাচ বের করেছেন, তিনি এবারের আইপিএলের নায়ক হতে চলেছেন। সারা ইনিংসে ধৈর্য্য বজায় রেখে তিনি ম্যাচ জিতিয়ে দিলেন। মায়াঙ্কের ব্যাট থেকে এসেছে ৬০ বলে ৮৯ রান। তিনি শেষ করে যেতে পারেননি, শেষমেশ ছয় মারতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন।
একটা দল প্রথমে ব্যাটিং নিয়ে শুরুতেই তিন উইকেট হারিয়ে বসে রয়েছে ১৭ রানে। তারমধ্যে প্রথম দুটি উইকেট চলে গিয়েছে মাত্র নয় রানের বিনিময়ে। তাও শিখর ধাওয়ান (০) ও পৃথ্বী শ-র মতো ব্যাটসম্যানরা। সেই দলের এমনিতেই স্নায়ু চলে যাওয়ার কথা, আবার তার মধ্যে শিমরন হেটমায়ারের (৭) মতো তারকাও মহম্মদ সামির শিকার।
সামি কেন এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা পেসার, আরও একবার দেখালেন। নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও সেইসঙ্গে নিজের প্রতি প্রবল আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে তিনি পেলেন তিনটি উইকেট। এমনকি দিল্লির নেতা শ্রেয়স আইয়ার (৩২ বলে ৩৯) সামির কাছে নতিস্বীকার করেছেন। সামির আরও একটি শিকার হলেন ওপেনার পৃথ্বী শ (৫)।
দিল্লিকে এই শোচনীয় পরিস্থিতির মধ্যে থেকে উদ্ধার করেছেন মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান অস্ট্রেলিয়ান মার্কাস স্তোইনিস, যিনি ২১ বলে দুঃসাহসিক ৫৩ রান করে ম্যাচের মোড়ই ঘুরিয়ে দিয়েছেন। তাঁর এই ঝোড়ো ইনিংসে রয়েছে সাতটি বাউন্ডারি ও তিনটি বিশাল ছক্কা। একমাত্র সামি (৩/১৫) ছাড়া কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বাকি বোলার কটরেল, জর্ডন, গোথামদের ওপর নির্দয় ছিলেন তিনি।
স্তোইনিসের সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত করে গিয়েছেন দলনায়ক শ্রেয়স ও ঋষভ পন্থ (২৯ বলে ৩১)। ঋষভ কেমন খেলেন, সেই নিয়ে আলোচনা চলছিল, তিনি যে মেজাজেই রয়েছেন, বেশ বোঝা গিয়েছে। এবং তাঁর দলও যে মেজাজে এবারের অভিযান শুরু করল, সেটিও শুরুতেই বোঝা গেল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর : দিল্লি ক্যাপিটালস ১৫৭/৮। স্তোইনিস ৫৩, শ্রেয়স ৩৯, ঋষভ ৩১, সামি ৩/১৫। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব ১৫৭/৮। , মায়াঙ্ক ৮৯, রাহুল ২১, গোথাম ২০। ম্যাচ টাই।