
প্রভসিমরন সিং
শেষ আপডেট: 5 May 2025 14:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদিকে যখন মুল্লানপুর স্টেডিয়াম কিংবা ইডেন গার্ডেনসে খেলতে নামছেন প্রভসিমরন সিং, তখন পাতিয়ালার বাড়িতে টিভির সামনে এসে বসছেন সর্দার সুরজিৎ সিং। প্রভসিমরনের বাবা। দুটো কিডনিই অকেজো। সপ্তাহে তিন বার ডায়ালিসিস। অকথ্য যন্ত্রণা, মানসিক দুশ্চিন্তা। তবু সবকিছু সামলে পাঞ্জাবের খেলা পড়লেই টিভির সামনে এসে বসা চাই-ই-চাই! ছেলে ভাল খেললে, চার, ছক্কা মারলে ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠছে স্মিত হাসি। ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলে উইকেট খুইয়ে এলে অস্ফুটে দেশোয়ালি ভাষায় সুরজিৎ বলে উঠছেন, ‘খোট্টে আরাম নাল খেল’ (ধীরেসুস্থে খেলো)।
এবারের আইপিএলে যেন একই সঙ্গে দুটো লড়াই খেলতে নেমেছেন প্রভসিমরন। একদিকে ময়দানের চ্যালেঞ্জ। ধারাবাহিকতা অর্জনের লক্ষ্যে এগিয়ে চলা। চলতি মরশুমে অন্তত দুটো সেঞ্চুরির টার্গেট অর্জন। যে টার্গেটের কথা দাদা অনমোলপ্রীত, মেন্টর রিকি পন্টিং আর বাবা সুরজিৎকে জানিয়ে ক্যাম্পে যোগ দেন প্রভসিমরন। সেই লক্ষ্য এখনও অধরা। কিন্তু আগের চেয়ে উন্নতির গ্রাফ স্পষ্ট।
অন্যদিকে একটি লড়াই মাঠের বাইরে, ঘরে। বাবা শয্যাশায়ী। দুটো কিডনিই বিকল। ডায়ালিসিস চলছে। শারীরিক অবস্থার ধীরে ধীরে অবনতি ঘটছে। আর সবকিছু ভুলে প্র্যাকটিস আর পারফরম্যান্সে নিজেকে মগ্ন রাখতে হচ্ছে প্রভসিমরনকে।
নিজে পায়ে প্যাড এঁটে যখন ডাগ আউট থেকে ক্রিজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন পাঞ্জাবের ব্যাটসম্যান, তখন পাতিয়ালার ঘরে শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন সুরজিৎ। তাঁর দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন সৎবিন্দরপল সিং। ভাইয়ের অকথ্য যাতনা চোখে দেখতে পারছেন না তিনি। কীভাবে কাটছে দিন? সৎবিন্দর বলেন, ‘সপ্তাহে তিন দিন ডায়ালিসিস দিতে হচ্ছে। দাদা হয়ে ভাইয়ের এই কষ্ট দেখা যায় না। চিকিৎসকেরা বাড়িতে এলেই আমি বাইরে বেরিয়ে যাই। এমন একদিন নেই, যেদিন আমি ঈশ্বরের কাছে ভাইয়ের আরোগ্য চেয়ে প্রার্থনা করিনি।‘
এভাবে কতদিন টানা সম্ভব? সুরজিৎ কি আদৌ পারবেন মৃত্যুকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সুস্থ হয়ে উঠতে? জানা নেই সৎবিন্দরের। শুধু চোখ মেলে দেখেন ছেলে খেলতে নামার পর কীভাবে বদলে যায় একজন পিতার চোখমুখ। তিনি বলেন, ‘পাঞ্জাবের সমস্ত ম্যাচের আগে ভাইকে তুলে ড্রয়িং রুমে নিয়ে যাই। আমরা একই সঙ্গে প্রভসিমরনের খেলা দেখি। আর টিভির পর্দায় সিম্মুর মুখ ভেসে উঠলেই ভাই মৃদুভাবে হাসতে থাকে। ওই সময় ভুলে যায় যন্ত্রণা, ভুলে যায় দুশ্চিন্তা।‘
শুধু টিভিতে নয়, ছেলেকে মাঝেমধ্যে ভিডিও কলে দেখারও আবদার করেন সুরজিৎ। তখন প্রভসিমরন ফোন করলেই ছেলেকে ধমকে চুপ করান তিনি। উইকেট উপহার দিয়ে আসা নিয়ে বকতে থাকেন। আর শুরু হয় হাঁপানি। দম আটকে আসে। পরিবারের সবাই শান্ত করেন সুরজিৎকে। ছেলেও ভাল খেলার আশ্বাস দেন। তারপর ধীরে ধীরে নিজের বিছানায় ঘুমিয়ে পড়েন প্রভসিমরনের বাবা।
সৎবিন্দরের এক চোখ দেখছে যন্ত্রণাবিদ্ধ সুরজিৎকে। অন্য চোখ প্রভসিমরনের বিস্ফোরক ব্যাটিং। সব মিলিয়ে তাঁর উপলব্ধি, ‘ভাই চিরতরে সেরে উঠবে কি না জানি না। কিন্তু সিম্মুর প্রতিটা ভাল ইনিংস ওর বাবার আয়ুতে নিশ্চিতভাবে কয়েক দিন করে জুড়ে দিচ্ছে।‘