
দাদার সঙ্গে প্রভসিমরন সিং
শেষ আপডেট: 2 May 2025 10:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খাস পাঞ্জাবির লোকজ শব্দ ‘গেড়ি’। অর্থ: চক্কর কাটা। মার্চের গোড়ায় দাদা আনমোলপ্রীত সিংয়ের সঙ্গে গাড়িতে চড়ে চক্কর কাটতে বেরোন প্রভসিমরন সিং। পাঞ্জাব কিংসের হয়ে আইপিএলে নামেন। গত ছ’বছর ধরে। তবু জাতীয় দলে জায়গা করে নিতে পারেননি বছর চব্বিশের তরুণ ব্যাটসম্যান।
এমনিতে গাড়িতে গেড়ি কাটার নামান্তর সশব্দে বাজানো সাউন্ডসিস্টেম। চলবে পাঞ্জাবি র্যাপ। তাতে তাল ঠুকতে ঠুকতে গন্তব্যে পৌঁছনো… এমনটাই আকছার হয়ে থাকে।
মার্চের সেই বিকেলে এমনটা হয়নি। বলা যায়, আনমোল হতে দেননি। পাতিয়ালা থেকে মুল্লানপুর স্টেডিয়াম, যেখানে পাঞ্জাব দল শিবির পেতেছিল, দূরত্ব মেরেকেটে ৮০ কিলোমিটার। গাড়িতে সময় লাগে ২ ঘণ্টার মতো। কিন্তু ভাইকে পাশে বসিয়ে গানের তালে তাল দেওয়া নয়, বরং বেশ কিছু উপদেশ ও পরামর্শ বাতলে দেন আনমোল।
ঠিক কী বলেছিলেন সেদিন? বিন্দুমাত্র চিন্তা না করেই আনমোলের জবাব, ‘ওকে নিজের উদাহরণ দিই। জীবনে যত সুযোগ পেয়েছি, সব হেলাই হারিয়েছি আমি। ভাইকে বলেছিলাম, এখন তোমার ২৪ বছর বয়স। এটাই ভেঙে পড়ার বা গড়ে ওঠার সময়।‘
আইপিএল মৌসুমি প্রতিযোগিতা। বছরে একবার আয়োজিত হয়। নিজেকে প্রমাণ করার একটিমাত্র সুযোগ। সেখানে ২০ কি ৩০ রান করে চলা অর্থহীন। তাতে হয়তো দলে টিকে থাকা যায়। কিন্তু জাতীয় দলের ছাড়পত্র মেলে না।
দাদার কথা যে ফেলনা নয়, তা হাড়েহাড়ে বুঝেছেন প্রভসিমরন। ছ’বছর পাঞ্জাবে রয়েছেন। অথচ টিম ইন্ডিয়ার টুপি হাতে আসেনি। প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও চূড়ান্ত সাফল্য হাতছাড়া। এই নিয়ে ভাইকে সতর্ক করেন আনমোল। বলেন, ‘ওর সামনে এই মরশুমে দুটো সেঞ্চুরি করার লক্ষ্য বেঁধে দিই। জোর গলাই জানাই, যদি দেশের হয়ে খেলতে চাও, তাহলে নজরে আসার জন্য দুটো শতরান করতেই হবে।‘
সুপরামর্শই দিয়েছিলেন সেদিন। কিন্তু সমস্ত বক্তব্য সুখশ্রাব্য ছিল না। আনমোলের কথায়, ‘কথোপকথন বেশ উগ্র হয়ে উঠেছিল। কোন কোন পাঞ্জাবি শব্দ প্রয়োগ করেছিলাম, সেটা আজ শেয়ার করতে পারব না। কিন্তু যেভাবেই হোক, ওকে বুঝিয়ে দিই, আর ২০, ৩০ রানে কাজ হবে না।‘
ঠিক এর দু’মাস বাদে গোটা চিত্রটা পাল্টে গিয়েছে। আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিণত প্রভসিমরন। আইপিএল কেরিয়ারে প্রথম বারের জন্য পরপর দুটো অর্ধশতরান হাঁকিয়েছেন। দাদার বেঁধে দেওয়া সেঞ্চুরি এখনও আসেনি। কিন্তু ইডেনে কলকাতার বিরুদ্ধে এবং তারপর চেন্নাই ম্যাচে যেভাবে বিধ্বংসী মেজাজে ধরা দিয়েছেন পাঞ্জাবের ব্যাটসম্যান, তাতে সেই টার্গেটও যে অচিরে হাসিল হবে, এ কথা হলফ করে বলা যায়।
Dhoni-esque Helicopter ????
— IndianPremierLeague (@IPL) April 30, 2025
3️⃣rd fifty for Prabhsimran Singh in the season ????
Updates ▶ https://t.co/eXWTTv7Xhd #TATAIPL | #CSKvPBKS | @prabhsimran01 pic.twitter.com/g4mAasSvxo
প্রভসিমরন যে বদলাচ্ছেন, কলকাতা ম্যাচই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। শুরুর ৩৪ রান তুলেছিলেন ৩২ বলে। তারপরের ৪৯ রান করেন মাত্র ১৭ বলে। বিপজ্জনক সুনীল নারিনের এক ওভারে ২২ রান নিয়ে কলকাতার মনোবলও অনেকাংশে একা হাতে ভেঙে দেন।
এই নিয়ে যদিও বিস্মিত নন আনমোল। বলেছেন, ‘ওর শট কোনওদিনই ইস্যু ছিল না। কিন্তু সমস্যা ওর ছোট ইনিংসগুলো নিয়ে। আরও অনেক বেশি বল খেলা জরুরি। শুরুতে আস্তে খেললেন পরে তিনগুণ দ্রুত রান করার ক্ষমতা রাখে ও। কেকেআর ম্যাচেই সবাই তার প্রমাণ পেয়েছে।‘
শুধুই বিস্ফোরক ইনিংস, গিয়ার বদলানোর ক্ষমতা নয়। কেরিয়ারে প্রথমবারের জন্য ধারাবাহিকতার কৌশলও যেন রপ্ত করে ফেলেছেন প্রভসিমরন। চলতি সিজনে ১০ ম্যচে করেছেন ৩৪৬ রান। স্ট্রাইক রেট ১৬৫.৫৫।
এই সুসময়ের আভাস আগেই দিয়েছিলেন যিনি, তাঁর নাম শচিন তেন্ডুলকর। ২০২০ সালে এক্স হ্যান্ডেলে একটি ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘প্রভসিমরনের দিকে আমাদের নজর থাকবে। ওর ব্যাকলিফট, ব্যাট সুইং সত্যি বাধাহীন। বল ওর ব্যাটে লেগে যে আওয়াজ বেরোয়, সত্যি অপূর্ব!’
I really liked what I saw of @prabhsimran01 in @lionsdenkxip’s previous game.
— Sachin Tendulkar (@sachin_rt) October 10, 2020
Here are my observations about him from that game.#KXIPvKKR #IPL2020 pic.twitter.com/7elqOWXjWz
শচিন প্রভসিমরনকে দেখেছেন। কিন্তু দূর থেকে। যার কড়া নজরে বেড়ে উঠেছেন সেই কামাল সান্ধু, পাতিয়ালায় যার ক্যাম্পে ট্রেনিং নিতেন প্রভসিমরন ও তাঁর দাদা, সাফ বলেছেন, ‘ও বরাবর পেসারদের বিরুদ্ধে বেশি স্বচ্ছন্দ। কিন্তু ধারাবাহিকতা আরও বাড়াতে হবে। নিজের দিনে বিশ্বমানের বোলারদের ছিন্নভিন্ন করতে পারে, আবার দুর্বল ডেলিভারিতে আউটও হয়ে যায় প্রভসিমরন।‘
আপাতত পাঞ্জাবের তরুণ প্রতিভা গুরুমন্ত্রকে পাথেয় করে নিজেকে আরও শানিত করার লক্ষ্যে এগোতে চান।