
ঋষভ পন্থ
শেষ আপডেট: 6 May 2025 11:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইপিএল শেষ হতে চলল। এখনও পর্যন্ত চেনা মেজাজে ধরা দিলেন না ঋষভ পন্থ। ১১ ইনিংসে ব্যাট হাতে নেমেছেন। করেছেন মাত্র ১২৮ রান। গত পরশু পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে খেলতে নামে লখনউ সুপার জায়ান্টস। সেই ম্যাচেও মাত্র ১৮ রান তুলেই ড্রেসিং রুমে ফিরে যান পন্থ।
২৭ কোটি টাকার বিনিময়ে মহা নিলামে তাঁকে কিনেছিলেন সঞ্জীব গোয়েঙ্কা। রোহিতের অধীনে মুম্বই এবং ধোনির চেন্নাই যেভাবে আইপিএলের ইতিহাসে সাফল্যের নজির গড়ে তুলেছে, ধারাবাহিক ট্রফি-জয়কে প্রায় নিয়মে পরিণত করেছে, ঋষভ পন্থ আগামী দিনে সেই ইতিহাস গড়বেন লখনউয়ের জার্সিতে। একটি আলাপচারিতায় এমন বাসনার কথাই জানান মালিক সঞ্জীব। তাঁর সেই ইচ্ছে, বলা বাহুল্য, ফলপ্রসূ হয়নি।
কেন আচমকা উধাও হল পন্থের ফর্ম? দুর্ঘটনার জেরেই কি আগের দক্ষতা ও ক্ষমতা খুইয়ে একদম মাঝারি মানের ব্যাটসম্যানে পরিণত হলেন তিনি? সাম্প্রতিক সময়ে এই নিয়ে উস্কে উঠেছে বিতর্ক। অনেকে এই নিয়ে টেকনিকের গলদকে কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন। তাঁদের মতে, পন্থ কোনওদিনই টি-২০-র উপযুক্ত ব্যাটসম্যান নন। জাতীয় দলের জার্সিতেও ক্রিকেটের এই ফর্ম্যাটে সফল নন তিনি।
আরেক দল অবশ্য টালমাটাল মানসিক অবস্থাকেই খলনায়ক হিসেবে দায়ী করেছেন। তাঁদের যুক্তি, সবার চেনা হাসিমুখের ঋষভ পন্থকে আর ময়দানে নামতে দেখা যাচ্ছে না। সেই উচ্ছ্বল ব্যাপারটাই নাকি উধাও হয়ে গিয়েছে। অ্যাডাল গিলক্রিস্ট বলেছেন, ‘ঋষভকে খেলতে দেখলেই বোঝা যায়, ও ক্রিকেটটা ভালোবেসে খেলে। এবারের আইপিএলে ওকে এই চেহারায় দেখা যায়নি। ওকে হাসতে দেখিনি। রিল্যাক্স হয়ে খেলতে দেখা যায়নি। হয়তো অধিনায়কত্বের চাপ ওর মাথায় পাথরের মতো চেপে বসেছে। আমি ওকে নিজের চেনা রূপে পাইনি। ১০ কি ১১ ম্যাচে খেলতে নেমেছে ও। সেই জৌলুসটাই উধাও হয়ে গিয়েছে। নিজের চেনা মেজাজে থাকলে ঋষভের খেলা দুর্দান্ত বিনোদন ও আনন্দ দেয়। ওর শরীরী ভাষাই ভীষণ ইতিবাচক। কিছু একটা হারিয়ে গেছে।‘
দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার শন পোলকও গিলক্রিস্টের সঙ্গে একমত। তাঁর মতে, ঋষভ পন্থ ভারতীয় ক্রিকেটার ও সতীর্থদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি স্বচ্ছন্দ। লখনউ দলে তাঁর পাশে রয়েছেন এমন চারজন ব্যাটার, যারা বিদেশি। পোলকের প্রশ্ন, ‘অজিঙ্কা রাহানে কিংবা বিরাট কোহলি দলে থাকলে কি পরিস্থিতি বদলাত? চেনা মেজাজে দেখা দিতেন পন্থ?’
এই নিয়ে মুখ খুলেছেন সেহওয়াগও। জানিয়েছেন, ফর্মে ফিরতে চাইলে ঋষভকে নিজের পুরনো ভিডিও দেখতে হবে, কথা বলতে হবে মহেন্দ্র সিং ধোনির সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ওর নিজের ব্যাটিং দেখা জরুরি। আইপিএলের যে সমস্ত পুরনো ম্যাচে রান তুলেছিল, সেগুলোই ফিরে দেখা উচিত।‘ এমন পরামর্শের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বীরু জুড়ে দেন, ‘নিজের পুরনো খেলা দেখাই অনেক সময় আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। কীভাবে শট বাছাই করতে হয়, ইনিংস গড়তে হয় তার ধারণা মেলে। আমরা এখনও পর্যন্ত দুজন ঋষভ পন্থকে দেখেছি। একজন আহত হওয়ার আগে, আরেকজন পরের পন্থ। দুর্ঘটনার পর ঋষভ ওর অপ্রতিরোধ্য ব্যাপারটা হারিয়ে ফেলেছে।‘
এর জন্য রোজকার রুটিন ধরে রাখার বিষয়ে জোর দিয়েছেন সেহওয়াগ। বলেছেন, ‘যখন রুটিন গোলমাল হয়ে যায় সেটা পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে। তখনই একজন খেলোয়াড় ব্যাটিং নিয়ে অহেতুক চিন্তা শুরু করে, রুটিন ভুলে যায়। এই সময় অনুশীলন, জিমে যাওয়া, দৌড়নো এবং ঘুমনো কাটছাঁট করা ঠিক নয়। এই বিষয়গুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ।‘
শারীরিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করা একটা দিক। অন্য দিক হচ্ছে মানসিকভাবে নিজেকে উজ্জীবিত রাখা। এই নিয়ে বীরুর পরামর্শ, ‘ফোন তুলে নাও। কারও সঙ্গে কথা বলো। যদি তুমি ধোনিকে নিজের আইডল বলে মনে করো, তাহলে তাকেই কল করো। কখনও কখনও মনে অনেক সন্দেহ বাসা বাঁধে। সে সবকিছু বের করে আনা জরুরি।‘