
নেহাত কপালজোরেই কি আজ রক্ষে পেয়ে গেলেন স্টার্ক?
শেষ আপডেট: 21 April 2024 20:43
কী বলবেন একে? ক্রিকেট দেবতার অভিশাপ? থ্রিলারের শেষ এপিসোডের ক্লাইম্যাক্স? নাকি 'যত যাই হয়ে যাক, আরসিবি জিতবে না'-গোছের কোনও অরণ্যের প্রাচীন প্রবাদ?
সবে রানআউটের ঘোষণা হয়েছে জায়ান্ট স্ক্রিনে। চিৎকারে কান পাতা দায়! একঝলক দেখা গেল ডাগআউটে বসা বিরাট কোহলিকে। চোখে মুখে বিস্ময়! অভিভূত হাসি। যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না, কী হয়ে গেল!
হিসেব মত, লিগ টেবলের আরও তলায় চলে গেল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। আট ম্যাচে হার সাতটায়। তিনি, আইপিএলের কমলা টুপির মালিক বিরাট কোহলি তাও মুগ্ধ হাসছেন! তাঁর মত কিংবদন্তীর কাছে ভাল ক্রিকেটের কি বিকল্প কিছু হতে পারে? হওয়া সম্ভব?
দীনেশ কার্তিকের আড়াইশো-তম ম্যাচ ছিল আজ। কলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক ছিলেন তিনি। দল বেশিদিন রাখেনি তাঁকে। জবাব কি দেবেন? জবাবের তো সুবর্ণ সুযোগ ছিল। আগুনে ফর্মে আছেন কার্তিক। ৩৮ বছরে এবারের আইপিএলে যা খেলছেন, স্ট্রাইক রেট ২০৫-এর কাছে। যখন নামলেন, ৪২ বলে ৬৮ মত চাই আরসিবির। চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে ৩৫ বলে ৮৩ তোলা দীনেশ কার্তিকের কাছে কি খুব বাড়তি কিছু? কলকাতার আরসিবি ভক্তরা তখনও আশায়। ২২২ তুলেছে কলকাতা। ২০০৮ সালের এরকমই এক এপ্রিলের চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের কথা মনে আসছিল কি? আইপিএলের একেবারে প্রথম ম্যাচ। ব্রেন্ডন ম্যাককালাম নামক সুপারম্যানের সেই টাইফুন তোলা ১৫৮ রানের ইনিংস এখনও অনেকে গুগল না দেখেই মনে করতে পারবেন। একেবারে একই স্কোরলাইন, যেন ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি!
সেবারে মাত্র ৮২ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল রাহুল দ্রাবিড়ের বেঙ্গালুরু। তারপর গঙ্গা-কাবেরী দিয়ে বহু জল গড়িয়েছে। শুধু আরসিবির ট্রফি ভাগ্যটাই যা একরকম আছে। ২০১৭-র আইপিএলে ইডেনে তার চেয়েও কমে, মাত্র ৪৯ রানে অল-আউট হয়েছে বেঙ্গালুরু। যা এখনও অবধি আইপিএলে সর্বনিম্ন। অনেকগুলো প্রশ্ন ছিল ফাফ দু'প্লেসিদের সামনে। শুধু একটা ব্যাপারেই প্রশ্ন ছিল না। কলকাতার ভালবাসায়। চাঁদিফাটা রোদ উপেক্ষা করেও, ভ্যাপসা গরমে, হাইকোর্ট প্রান্তের কোনও ছাউনি ছাড়াই খোলা গ্যালারিতেও দুপুর সাড়ে তিনটের রোদে তিলধারণের জায়গা রাখেনি কলকাতা।
আন্দ্রে রাসেলের এক ওভারে রজত পতিদার আর উইল জ্যাকসকে ফেরানোর আগে অবধি মোটামুটিভাবে ধরে নেওয়া গিয়েছিল, আজকের ম্যাচে জিতেই ফ্লাইট ধরবে আরসিবি। তারপরেই হুট করে হাওয়া ঘুরে যায়। একটা চোরা টেনশন বইতে থাকে, আবারও কি জেতা ম্যাচ ছেড়ে এল আরসিবি? কিন্তু সেই একই কথা! ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা। জীবনের মত! কখন যে কে মোড় ঘুরিয়ে দেবে, আপনি কী করে বলবেন? যেমন এই ইমপ্যাক্ট সাবে নামা সুয়শ প্রভুদেশাই। বা তারপরে, মিচেল স্টার্ককে শেষ ওভারে কর্ণ শর্মা।
শেষ ওভারে যে স্টার্ক যাবেন, এ তো জানা কথা। কিন্তু তাই বলে তিনটে ছক্কা? গ্যালারিতে তখন মুণ্ডুপাত চলছে স্টার্কের। যেখানে ৬ বলে ২১ চাই, সেখানে ৪ বলেই ১৮? প্রথম বল অনেকটা বাইরে, তুললেন ডিপ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে। তৃতীয় বলেও সেই একই ভুল। এবার এক্সট্রা কভার দিয়ে গ্যালারিতে ফেললেন কর্ণ। চতুর্থ বলে আবার ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে ছক্কা। সমাজমাধ্যমে এলোপাথাড়ি চুটকি ভাসছে, এর চেয়ে তো ভাই কালীঘাট-মোহনবাগান ম্যাচে বেশি ভাল বল হয়! স্টার্ক কি একাই ডুবিয়ে দিলেন? গৌতম গম্ভীর নিশ্চল। এরপর সবটাই ওপরে যদি কেউ থাকেন, তার ওপর। পঞ্চম বলে বোধ হয় সেটাই শুনলেন কেউ। ওই ক্যাচটা না হলে বোধ হয় আজ আরসিবির হারের খরা একাই কাটিয়ে দিতেন কর্ণ!
জীবন তো আসলে এরকমই। ক্রিকেটের মত। নিয়মকানুনের অনেক বেড়াজাল সেখানে বেনিয়মে ভেসে বেড়ায়!